রামুতে চেয়ারম্যান ভুট্টোর নেতৃত্বে পাহাড় কেটে সাবাড় করছে তার ছোট ভাই সরওয়ার বাহিনী

রামুতে ১০ এলাকায় ২০পাহাড় সাবাড়

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
প্রশাসনের নাকের ডগায় রামু উপজেলায় পাহাড় কেটে সাবার করে ফেলা হচ্ছে। নজর নেই প্রশাসনের। এলাকার চেয়ারম্যান ইউনুস ভুট্টো ও তার ছোট ভাই সরওয়ার আলম বাহিনীর নেতৃত্বে দক্ষিণ মিঠাছড়ি তে প্রায় পাহাড় কেটে ফেলা হয়েছে। প্রশাসন এ ব্যাপারে কোন প্রকার আইন প্রয়োগ করছে না বলে বিশেষ সূত্রে জানা যায়। এ নিয়ে জনমনে প্রশাসনের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলছে। এই পর্যন্ত রামু উপজেলা দক্ষিণ মিঠাছড়ি তে প্রায় ১০এলাকায় প্রায় কুড়িটি পাহাড় কেটে সমান করে ফেলা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। এদিকে
কক্সবাজার প্রশাসনের অভিযান, জরিমানা ও মামলার পরও রক্ষা হচ্ছে না রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ির পাহাড়গুলো। প্রশাসনকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে একে একে সাবাড় করে ফেলা হচ্ছে সব পাহাড়। ইতিমধ্যে ১০টি পাহাড় সাবাড় করে ফেলা হয়েছে। দক্ষিণ মিঠাছড়ির চেয়ারম্যান ইউনুছ ভুট্টো বাহিনীই এই পাহাড়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে।

চেয়ারম্যান ভুট্টোর নেতৃত্বাধীন বাহিনী পুরো ইউনিয়নজুড়ে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। একই সাথে দখল করছে জায়গাগুলো। প্রশাসন, স্থানীয় সূত্র এবং সরেজমিন পরিদর্শনে এইসব তথ্য পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইতিমধ্যে ইউনিয়নের পানেরছড়া, বনতলা, নিজেরপাড়া, বলীপাড়া, বসুন্ধরা ও চেইন্দাসহ অন্তত ১০টি এলাকার ২০টির বেশি পাহাড় কেটে সাবাড় করেছে চেয়ারম্যান ভুট্টো বাহিনী। বর্তমানে ওইসব এলাকায় সমানতালে পাহাড় কাটা অব্যাহত রেখেছে তারা।

এ ব্যাপারে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা বলেন, এ ঘটনা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন একজন সরকারি কর্মচারী কে হামলা করা হয়েছে এবং এ ব্যাপারে আমরা  উপজেলা প্রশাসন তা কঠোর হস্তে দমনের জন্য মামলা দায়ের করেছি শীঘ্রই তাদের গ্রেপ্তার করা হবে এদিকে প্রতিবেদক দক্ষিণ  মিঠাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জড়িত সংক্রান্ত ব্যাপারে বলেন তার ছোট ভাই সরওয়ার আলম ও তার বাহিনী জড়িত আছে‘ তা আমরা  জানতে পেরে  তাদের বিরুদ্ধে  মামলা করেছে  যদি  দক্ষিণ মিঠাছড়ি  ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান  ইউনুস ভুট্টো  জড়িত থাকেন  তার বিরুদ্ধে  ব্যবস্থা নেওয়া হবে আরো বলেন দক্ষিণ মিঠাছড়িতে ব্যাপকহারে পাহাড় কাটার বিষয়টি আমি ইতিমধ্যে অবগত হয়েছি। স্থানীয় চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে এসব পাহাড় কাটা হচ্ছে বলে জেনেছি তবে কতটুকু সত্য তা সরজমিনে তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে। তবে আমি বলতে চাই তাদের দিন শেষ। এখন থেকে শুধু সেখানেই নয়, রামুর কোথাও পাহাড় কাটতে দেবো না। পাহাড়খেকোরা যত বড় প্রভাবশালীই হোক প্রশাসন তাদের কাছে হার মানবে না। মিঠাছড়ির ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘মিঠাছড়িতে পাহাড় কাটা রোধে পাহারা বসানো হবে। যখনই যেখানে পাহাড় কাটা হয়, সেখানে সাথে সাথে অভিযান চালানো হবে। পাহাড় কর্তনকারীদের বিরুদ্ধে স্পটেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চেয়ারম্যান ইউনুছ ভুট্টো নেতৃত্বাধীন দক্ষিণ মিঠাছড়িতে ব্যাপকহারে পাহাড় কাটা হয়েছে। এই পাহাড়কাটার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন অনেকবার অভিযান চালিয়েছে। এসব অভিযানে পাহাড় কাটার দায়ে চেয়ারম্যান ভুট্টো ও তার বাহিনীর লোকজনকে মামলা এবং জরিমানা করা হয়েছে। একাধিকবার জব্দ করা হয় পাহাড়কাটার সরঞ্জাম। তারপরো ‘ক্ষমতারধর’ পাহাড়খেকো চেয়ারম্যান ভুট্টোকে প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। তথ্য মতে, পাহাড় কাটার দায়ে চেয়ারম্যান ইউনুছ ভুট্টো ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে ৭ লাখ টাকা জরিমানা করে পরিবেশ অধিদপ্তর। অন্যদিকে একমাস আগে বনতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন পাহাড় কাটার দায়ে জেলা প্রশাসন অভিযান চালায়। কিন্তু এরপর এক মাসের ব্যবধানে সেখানে কয়েকটি পাহাড় কেটে সাবাড় করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, চেয়ারম্যান ভুট্টো বাহিনীর এই ভয়ংকর পাহাড় কাটার সংবাদ তুলে আনতে গিয়ে একাধিক সাংবাদিক তার বাহিনীর হাতে হামলার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে আবদুল মালেক সিকদার নামে এক স্থানীয় সাংবাদিককে কুপিয়ে গুরুতর জখমও করা হয়েছিল। এছাড়া আরো কয়েকজন সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভুট্টো বাহিনীর সদস্যদের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন। কিন্তু বারবার পার পেয়ে যায় ইউনুছ ভুট্টো। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) ভুট্টো বাহিনীর সন্ত্রাসীদের হাতে হামলার শিকার হয়েছেন খোদ রামু উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার শহীদুল হাসান। এসব অভিযোগ অস্বীকার করে রামু মিঠাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুছ ভুট্টো বলেন, পাহাড় কাটায় আমি কখনো জড়িত ছিলাম না। আমি এসবের কোন নেতৃত্বে দিচ্ছি না। হয়ত কেউ রেহায় পেতে আমার নাম ব্যবহার করছে। এদিকে দক্ষিণ মিঠাছড়ির পানেরছড়া বলিপাড়ার মোঃ আলমের পুত্র মোঃ শহীদুল্লাহ, পানেরছড়া পূর্বকূল পাড়ার আবদুল গফুরের পুত্র ফরিদ আলম, সিকদার পাড়ার মৃত আবু বক্করে পুত্র সরওয়ার আলম (চেয়ারম্যান ভুট্টোর ছোটভাই) ও নূরুল আজিম (চেয়ারম্যান ভুট্টোর ছোটভাই), হারুন সওদাগরের পুত্র মুফিজুর রহমান (চেয়ারম্যান ভুট্টোর চাচাতো ভাই), পূর্বপানের ছড়ার নূর আহামদের পুত্র জসিম উদ্দীন, মোঃ হোছেনের পুত্র জসিম উদ্দীন, পশ্চিম পানেরছড়ার নবী হোছেনের পুত্র নাছির উদ্দীন, আবদুস সালামের পুত্র মোঃ মিজান এবং বলীপাড়ার মৃত আবদুল মজিদের পুত্র মোঃ আলমসহ ১২-১৫ জনের একদল পাহাড়কর্তনকারী সার্ভেয়ার শহীদুল আলমের উপর হামলা চালায়।অভিযোগ মতে, এসব পাহাড়কর্তনকারীরা সবাই দক্ষিণ মিঠাছড়ির চেয়ারম্যান ইউনুছ ভুটোর বাহিনীর লোক। তারা দীর্ঘদিন ধরে পুরো দক্ষিণ মিঠাছড়িজুড়ে ভয়ংকরভাবে পাহাড় কেটে সাবাড় করছে। চেয়ারম্যান ভুট্টো তাদেরকে আশ্রয় দেয় এবং তিনি এভাবে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন এবং পাহাড়কাটা জায়গাগুলো জবর দখল করছেন।

এ ব্যাপারে  আরো জানানএলাকাবাসী ‘দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নে ইউনুছ ভুট্টো বাহিনী অন্তত ১০টি পয়েন্টে ১৫টি পাহাড় কেটে নিয়েছে। পাহাড় কাটার ভয়াবহ চিত্র দেখতে গিয়ে সরকারি কর্মচারি, সাংবাদিক, স্থানীয় লোকজনসহ অনেকেই তার বাহিনীর হাতে হামলার শিকার হয়েছেন। এখনই যদি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া না হয় তাহলে আরো ভয়ংকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। তাই পাহাড়খেকো ভুট্টো বাহিনীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে আমরা সব সময় কঠোর। আমাদের লোকজন এ ব্যাপারে কাজ করলেও আড়ালে-আবডালে প্রভাবশালীরা কাটছে হয়তো। আমি আজকালে মধ্যেই ব্যবস্থা নেবো।’

কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নূরুল আমিন বলেন, ‘দক্ষিণ মিঠাছড়িতে পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রামু উপজেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে আমরা ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছি। শিগগিরই সেটা দৃশ্যমান হবে।’

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.