স্পোর্টস ডেস্কঃ বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে অনেক সময়ই ইতিহাস কাজ করে না¬—চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হওয়ার আগে এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে ছোটো দেশের কোচের এমন মন্তব্যে অনেকেই ঔদ্ধত্য দেখেছিলেন। তবে কুরাসাও কোচ ডিক আটফোকাট যে খুব বেশি ভুল বলেননি সেটা যেন প্রমাণ করল তাঁর শিষ্যরা।
বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘ই’তে জার্মানির বিপক্ষে ইতিহাসের সাক্ষী হলো কুরাসাও। জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বকাপের ইতিহাসের ক্ষুদ্রতম দেশ তারা। ফুটবল বিশ্বের বড় মঞ্চে পা রাখার সুযোগ মিলল প্রথমবারের মতো। কিন্তু অভিষেক ম্যাচেই প্রতিপক্ষ যখন চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি, তখন ভয় পাওয়ারই কথা ছিল। কিন্তু কুরাসাও ভয় পায়নি। বরং রূপকথার গল্পের শুরুটা তারা লিখল ২১ মিনিটেই!
ডি-বক্সের ভেতর থেকে কুরাসাও রাইটব্যাক লিভানো কোমেনেনসিয়ার নেওয়া বাঁ পায়ের জোরালো শট জার্মানির শক্তিশালী রক্ষণ দেয়াল ভেঙে ম্যানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করল। জালে বল জড়াতেই হিউস্টনের স্টেডিয়ামে তখন ‘নীল ঢেউ’-এর গর্জন। বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম গোলটি পাওয়ার আনন্দটা কি আর এমনি এমনি হয়? মাত্র দেড় লক্ষাধিক জনসংখ্যার এই দ্বীপরাষ্ট্রটির ফুটবল ইতিহাসে এ এক চিরস্মরণীয় মুহূর্ত—যে মুহূর্ত তাদের ফুটবল রূপকথার প্রথম পাতায় অক্ষয় হয়ে থাকবে।
চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ার পর কুরাসাও যে এমনভাবে ফিরে আসবে, কে ভেবেছিল! আক্রমণটা শুরু হয়েছিল চমৎকার এক দলগত প্রচেষ্টায়। লোকাদিয়ার শট প্রথমে জার্মান রক্ষণভাগে বাধা পেলেও বলটা ছিটকে আসে কোমেনেনসিয়ার পায়ের কাছে। বাঁ-পায়ের জোরালো শট জশুয়া কিমিচের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে পরাস্ত করল ম্যানুয়েল নয়্যারকে!
বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজেদের প্রথম গোলটি পেয়ে গেল কুরাসাও। জার্মানির মতো পরাশক্তির বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে সমতা ফেরানোর এই মুহূর্তটি কুরাসাওয়ের ফুটবল ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে!

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.