ইরান ইস্যুতে সিদ্ধান্তহীন ট্রাম্প, কাটেনি অনিশ্চয়তা

ওয়ান নিউজঃ ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা ও যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণ নিয়ে হোয়াইট হাউসে দুই ঘণ্টার বৈঠক করেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।

বৈঠকের আগে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, সিচুয়েশন রুমে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকেই তিনি ইরান-সংক্রান্ত প্রস্তাবের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে বৈঠক শেষে এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা আসেনি।

কেন সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। বৈঠকের আগে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করতে হলে ইরানকে হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করতে হবে, পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির নিশ্চয়তা দিতে হবে এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুমতি দিতে হবে।

তবে এসব শর্ত প্রত্যাখ্যান করে আসছে তেহরান।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমানে চলমান আলোচনা সীমিত পরিসরে হচ্ছে এবং এতে পারমাণবিক ইস্যু অন্তর্ভুক্ত নয়।

সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে ট্রাম্প একাধিকবার পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ পুনরায় শুরুর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, প্রস্তাবিত চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আরও আলোচনার সুযোগ তৈরি করা।
এর আগে বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দুই দেশের সম্ভাব্য ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারকের অনানুষ্ঠানিক খসড়ার কিছু অংশ প্রকাশ করে।

খসড়ায় বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করবে, ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেবে এবং হরমুজ প্রণালীতে বেসামরিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা হবে। পাশাপাশি প্রণালীটিতে জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থাপনা ও রুট নিয়ন্ত্রণ করবে ইরান ও ওমান।

তবে হোয়াইট হাউস ওই খসড়াকে ‘সম্পূর্ণ মনগড়া’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস

মন্তব্য করুন

আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্র রিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোন মন্তব্য বা বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোন ধরনের আপত্তিকর মন্তব্য বা বক্তব্য সংশোধনের ক্ষমতা রাখেন।