ছবি আছে
টেকনাফের হ্নীলার ইয়াবা ডন জালালের খুটির জোর কোথায়
কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ
জালালের ইয়াবা ব্যবসা শুরু হয় অষ্টম শ্রেণী পড়াকালীন থেকে ২০১৬ সালের প্রথম দিকে সে ইয়াবা ব্যবসায়ী নাম লিখিয়ে আজ অব্দি বীরদর্পে ব্যবসা চালিয়ে আসছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় তাদের চোখে ধুলো দিয়ে মরন নেশা ইয়াবার ব্যবসা পুরোদমে ছড়িয়ে দিয়েছে দেশের বিভিন্ন জায়গার।আর এইভাবে ইয়াবা ডনদের সাথে পরিচয় হওয়ার সুবাদে তার ব্যবসা দিন দিন বেড়ে যায়। এতেই তার কপাল খুলতে থাকে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যান।
এই জালাল কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের লেচুয়াপ্রাংয়ের জালালের খুটির জোর কোথায়। ২০১৬ সাল থেকে ২০১৭ চট্টগ্রামের দুই দুইবার ইয়াবাসহ গ্রেফতার হওয়ার পরও বীরদর্পে জামিনে বেরিয়ে এসেছে। এখন নিজ এলাকায় মাদক নেশা ইয়াবার কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্রে জানা যায় জোরারগঞ্জ থানায় ৫ এপ্রিল ২০১৬ সালে প্রথম ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয় ইয়াবা ডন জালাল, যার মামলা নম্বর জিআর ১০২/ ১৬ শিশু ৭৬/১৬। জালাল বয়সে শিশু হলেও কাজ করে বড়দের চাইতে ভয়ানক। ২০১৬ সালের মামলা থেকে বীরদর্পে জামিন নিয়ে আবারো ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ সালে চট্টগ্রামের সদরঘাট থানায় আবারো বিপুল পরিমাণ মরণ নেশা ইয়াবা সহ আটক হয়। যার মামলা নম্বর জি আর ৩৪/১৭ শিশু ৭৩/ ১৭।
গোপন সূত্রে জানা যায় পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত রোহিঙ্গা আলমের মায়ানমার থেকে নিয়ে আসা প্রায় কয়েক কোটি টাকার ইয়াবা এই জালালের হাতে জমা রাখে। রোহিঙ্গা আলম বন্দুকযুদ্ধে নিহত হলে ইয়াবা ডন জালাল দেশের ঐ ইয়াবা বিভিন্ন জায়গায় ছাড়েন বলে গোপন সূত্রে জানা যায়। হ্নীলার বিভিন্ন এলাকায় লাখপতির অভাব নেই তা যেমন চির সত্য। তেমনি একই পরিবারের মামা ভাগিনা দুইজন ইয়াবা কারবারি মোঃ মোবারক ও জালাল উদ্দিন। তবে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের বড় লেচুয়াপ্রাংয়ের এলাকার আবুল হোসেনের পুত্র জালাল উদ্দিন কয়েক বছরের ব্যবধানে লাখপতি বনে গেছেন বলে জানা গেছে বলে অভিযোগে প্রকাশ পায় । এই পরিবারের কারণে আশে পাশের এলাকার মানুষ রীতিমত অতিষ্ঠ উঠেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এদিকে কক্সবাজার টেকনাফে মামা ভাগিনার ইয়াবা রাজত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে। নজরে নেই স্থানীয় প্রশাসনের। এই মামা ভাগিনার ইয়াবা রাজত্ব নিয়ে দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দরখাস্ত প্রেরণ হলেও এখনো কোন প্রকার আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। চোখে পড়ছেনা কোন এদের বিরুদ্ধে আইনের প্রয়োগ এমন অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়ন ৬নং নম্বর ওয়ার্ডের বড় লেচুয়াপ্রাং গ্রামের আবুল হোসেন প্রকাশ আবুর পুত্র ইয়াবা ডন জামাল উদ্দিন ও তার মামা মোবারক পিতা মৃত আবুল হোসন বি জি বি এলাকা হ্নীলা টেকনাফ এলাকার ইয়াবার গডফাদার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। তারা মামা ভাগিনা এই ইয়াবার বদৌলতে হয়েছেন অবৈধ টাকার মালিক। এদিকে একটি লিখিত অভিযোগে বলা হয় এই মামা ভাগিনা বর্তমান সরকার মাদক সন্ত্রাস জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিমালা বাস্তবায়ন করলেও সে এলাকায় বিন্দুমাত্র তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হচ্ছে না, যার কারনে তারা এলাকায় ত্রাস, ইয়াবা গডফাদার নামে পরিচিত তথা ইয়াবা জালালও ইয়াবা মোবারক নামে পরিচিতি লাভ করেছে। এদিকে আরো জানা যায় তাদের কেউ কিছু বললে তাকে একেবারে জীবনে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে মুখ বন্ধ রাখে। আরো জানা যায় ইয়াবা গডফাদার জালালের বাবা আবুল হোসেন প্রকাশ আবু ছিল একজন লাকড়ি বিক্রেতা। লাকড়ি বিক্রি করে বিগত দিনে কোন রকম সংসার চালাত।কিন্তু তার পুত্র জালাল ইয়াবা ব্যবসার খাতায় নাম লিখিয়ে তাদের জীবনযাত্রার মান দিন দিন পরিবর্তন হতে থাকে। ইয়াবা ডন জালাল স্থানীয় স্কুলে অষ্টম শ্রেণীতে পড়াকালীন অবস্থায় ইয়াবা ব্যবসার সাথে যুক্ত হয় বলে জানা যায়। তৎকালীন ছাত্র সেজে স্কুল ব্যাগে ভর্তি করে বড় বড় চালান ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাচার করত।২০১৬ সালে চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানা ডিবি পুলিশের হাতে বিপুল পরিমান ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয় যার কারনে ডিবি পুলিশ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম জেলা কারাগারে পাঠায়। জামিনে বের হয়ে আবারো২০১৭ সালে আবারো চট্টগ্রামে সদরঘাট থানায় পুলিশের হাতে গ্যাস সিলিন্ডারে ভর্তি বিপুল পরিমান ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হন। এদিকে লিখিত অভিযোগ জানানো যায় এভাবে ইয়াবা ডন জালাল দিন দিন টাকার রাজত্বে ইয়াবার ব্যবসা চালিয়ে আসছে। এভাবে টেকনাফ সীমান্তে অপরাধ জগতে পা বাড়িয়ে লাখপতি হয়েছেন এর সঠিক সংখ্যা এখনো অজানা। রাতারাতি কোটিপতি হয়ে অনেকে এখন নিজ হাতে ইচ্ছামত এলাকা শাসন করছেন। যেন তারা এলাকা নামের ছোট্ট একটি দেশের শাসনকর্তা। নিজস্ব বাহিনী তৈরী করে এসব ইয়াবা চোরাকারবারীরা এলাকায় রাম রাজত্ব কায়েম করে বেড়াচ্ছেন। তাদের লাখপতি হওয়ার পেছনে রয়েছে ইয়াবার কালো থাবা।
এদিকে জালালের সাথে ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত আছে তার মা সারা খাতুন ও খালা রহিমা খাতুন। তারা ছদ্মবেশে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ইয়াবা পাচার করছে বলে গোপন সূত্রে জানা যায়। তাদের গ্রেপ্তার করলে ইয়াবা বেচাকেনার সব তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সম্প্রতি বন্দকযুদ্ধে নিহত হওয়া রোহিঙ্গা মোঃ আলমের অর্ধকোটি টাকা একাধিক ইয়াবা মামলার আসামি জালাল উদ্দিনের হাতে রয়েছে। হ্নীলাতে ইয়াবা চোরাকারবারীদের ধরতে অভিযান চালালেও বিশেষ এলাকায় অভিযান চালিয়ে কোন না কোন পরিবারের ইয়াবা চোরাকারবারীদের আটক করলেও একাদিক ইয়াবা মামলার আসামি জালাল উদ্দিন এখনো দালালের ছত্রছায়ার অধরা রয়েছে। সে দেশের বিভিন্ন থানায় ইয়াবাসহ একাধিকবার আটক হলেও জামিনে বের হয়ে ইয়াবা কারবার বীরদর্পে চালিয়ে যাচ্ছে।
সম্প্রতি মাদকবিরোধী অভিযানে কয়েকজন নিহত ও বাকীরা গা ঢাকা দিয়েছে এমন তথ্য রয়েছে। যদিও এখনো অধরা হ্নীলার প্রভাবশালী জালাল উদ্দিন ও তার সহযোগীরা। যারা বিভিন্ন ব্যবসার আড়ালে মূলত ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত।
এসব অপরাধীরা অতি কৌশলী হওয়ার ফলে থানা পুলিশ এখনো নাগাল পায়নি জালাল উদ্দিনের। শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের আস্তানায় পুলিশের অভিযান সীমিত হলেও অনেক ক্ষেত্রে নজরে রেখেছে বলেও তথ্য দেন পুলিশ। প্রশাসনের তালিকায় চুনোপুঁটি মাদক সেবীরা। বাকি জালাল উদ্দিনের মতো রাঘব বোয়াল এখনো অধরা বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। এদিকে আরো জানা যায় অবৈধ টাকার প্রভাব খাটিয়ে নিজ বাড়ির ও এলাকার অসহায় মানুষের বসতভিটা ও চাষের জমি জবর দখলের অভিযোগ রয়েছে ইয়াবা ডন জালাল এর বিরুদ্ধে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত জালাল বলেন, আমি বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে আগে ইয়াবা ব্যবসা করতাম, তবে এখন ইয়াবার সাথে জড়িত নাই।
জানতে চাইলে টেকনাফ থানার ওসি (তদন্ত) বলেন, তার সম্পর্কে জানা নেই, খোঁজ খবর নিচ্ছি, কোন ইয়াবা ব্যবসায়ীর ঠিকানা টেকনাফে হতে পারে না।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.