‘কোচিং সেন্টার বন্ধ হলে বেকার হবে ১৫ লাখ শিক্ষিত যুবক’
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের কোচিং সেন্টারগুলো সংগঠিত হচ্ছে। ‘কোচিং এসোসিয়েশন বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠনের আত্ম-প্রকাশ করেছে, কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। সারাদেশের কোচিং সেন্টারগুলো এরই মধ্যে ওই এসোসিয়েশন সাথে যোগাযোগও শুরু করেছে। সংগঠনের অন্যতম যুগ্ম-আহবায়ক ওমর ইকবাল নাদিম মঙ্গলবার বিকেলে নয়া দিগন্তকে বলেন, আমাদের জন্ম ৭২ ঘণ্টাও হয়নি। এরই মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগ আমাদের সাথে যুক্ত হয়েছে। তারা আগামী ২/১ দিনের মধ্যে চট্টগ্রামেই সংবাদ সম্মেলন করে আত্মপ্রকাশ করবে। গত ২৪ ঘন্টায় অন্তত ২০ জেলার যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার নারায়নগঞ্জের ২ শ’টি প্রতিষ্ঠান যোগ দিয়েছে।
ই হক স্যার নামে পরিচিত নব-গঠিত কোচিং এসোসিয়েশনের প্রধান উদ্যোক্তা মোঃ ইমাদুল হক বলেন, প্রশ্ন ফাঁসের সাথে কোচিং সেন্টারগুলো কোনোভাবেই জড়িত নয়। প্রশ্ন প্রণয়ন, ছাপা বা বিতরণ কোনো কিছুর সাথেই কোচিং সেন্টারগুলোর সম্পৃক্ততা নেই। তা হলে কিভাবে কোচিং সেন্টার থেকে প্রশ্ন ফাঁস হবে? তিনি বলেন, প্রশ্ন ফাঁসের উৎসগুলোকে চিহ্নিত না করে, একতরফাভাবে কোচিং সেন্টারগুলোকে দায়ী করা হচ্ছে। এখন কোচিং সেন্টার বন্ধ করার খড়গ জারি করা হয়েছে। এটি অন্যায্য ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ হলো না।
অবিলম্বে কোচিং সেন্টার বন্ধ ঘোষণা প্রত্যাহার, কোচিংয়ের স্বীকৃতি ও বৈধ নীতিমালা প্রণয়নসহ ৫ দফা দাবি করে গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে কোচিং এ্যাসোসিয়েশন সংবাদ সম্মেলনের আহ্বায়ক মোঃ ইমাদুল হক বলেন, কোচিং বন্ধের বিষয়টি শুধু আমাদেরকে নয় বরং সকল শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলকে চিন্তিত ও উৎকণ্ঠিত করেছে। এই উৎকণ্ঠা থেকে আমরা মুক্তি কামনা করছি।
উক্ত ৫ দফা দাবিতে আজ ৩১ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পর্যন্ত ঢাকাসহ সকল জেলা ও উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে শান্তিপূর্ণ মানব-বন্ধন এবং প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মোঃ ইমাদুল হক বলেন, শিক্ষামন্ত্রী বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা শেষে সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন যে, প্রশ্নফাঁস হয়নি। অথচ কোচিং সেন্টারকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের আখড়া ঘোষণা দিয়ে কোচিং সেন্টারগুলোকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে এ পেশায় সঠিক জরিপ এখন এ পর্যন্ত না পেলেও সারাদেশে লক্ষাধিক কোচিং সেন্টার বা সহায়ক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর এ লক্ষাধিক কোচিং সেন্টারে ১০/১৫ জন করে শিক্ষক থাকলেও ১০/১৫ লক্ষের মতো শিক্ষিত যুবক তাদের অন্ন সংস্থানের এবং দরিদ্র পিতা-মাতার শিক্ষিত সন্তানেরা নিজেদের লেখাপড়ার ব্যয় ভার বহন করাসহ পরিবারের ভরণ-পোষণ করছেন। কোচিং সেন্টারে পাঠদান করে বেকার সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি ১৫% ভ্যাট দিয়ে রাজস্ব খাতে অবদান রাখছে এসব প্রতিষ্ঠান।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কোচিং এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ-এর যুগ্ম আহ্বায়ক পলাশ সরকার, আবু রায়হান, মাহবুব আরেফিন, মোঃ আকমল হোসেন, ওমর ইকবাল নাদিম, মোঃ নুরুল আমিন।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.