ভূমিদস্যুর মিথ্যা মামলার ফাঁদে সাহসী সাংবাদিক ইভা:পরিত্রাণ দরকার এখনই
বিশেষ ক্রাইম প্রতিবেদকঃ
মিথ্যা মামলা বাংলাদেশে প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করার এক বড় হাতিয়ার। যখন যে ক্ষমতায় থাকে সে প্রতিপক্ষ কে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে থাকে।
তবে এক ভূমিদস্যুর সাথে সাংবাদিকের এ কেমন শত্রুতা। গনমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মানুষের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হওয়ায় খুলনার কন্ঠের সম্পাদক ও প্রকাশের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় মিথ্যা মামলা ও সাধারণ জিডি।
তথ্যসুত্রে জানা যায়, বিগত ২০১৭ সালের ৫, ৭ ও ২৪ জানুয়ারীতে ভূমিদস্যু নিয়ে “খুলনার কন্ঠ” অনলাইন পোর্টালে তিন পর্বের রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। একই ভাবে বিষয়টি নিয়ে দৈনিক ভোরের কলাম প্রিন্ট, ক্রাইম ভিশন অনলাইন, কারেন্ট নিউজ অনলাইন, মুক্তকলাম অনলাইন, আওয়াজবিডি অনলাইন, দৈনিক অন্যদিগন্ত প্রিন্টে ও প্রকাশিত হয়।
যে রিপোর্টে বাদীপক্ষের অভিযোগে নাম আসে মোঃ তকদির হোসেন বাবু নামে এক ভূমিদস্যুর । এরই জের ধরে ভুমিদস্যু তকদির হোসেন বাবু ক্ষেপে যায়।
পরে সম্পুর্ন উদ্দেশ্য প্রনোদিত হয়ে বাকি পত্রিকার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ না তোলে, খালিশপুর থানায় অর্থবিত্তের প্রভাব কাটিয়ে ২০১৩ সালের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭/৬৬ ধারায় খুলনার কন্ঠ অনলাইন পত্রিকার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা রুজু করে।
যার খালিশপুর থানা মামলা নং-৩২/১৭ইং প্রথমে মামলার তদন্তভার পড়ে এসআই রফিকুল ইসলামের হাতে। পরে দীর্ঘ ৬ মাস সে তথ্য উপাত্ত যাবাই বাচাই শেষে সাংবাদিক ইভা ও তার স্বামী রানার কোনরুপ সংশ্লিষ্টতা না পেয়ে ফাইনাল রিপোর্ট দিতে চাইলেও ভূমিদস্যুর বাধায় তা দিতে পারেনি।
সম্প্রতি ২য় মেয়াদে মামলাটি এসআই মোঃ হাসান নামে আরেকজন তদন্ত কর্মকর্তার হাতে পৌছালে উল্লেখিত ভূমিদস্যু তকদীর হোসেন বাবু নিজেকে নেতা পরিচয়ে অর্থের জোরে চার্জশীট দিতে বাধ্য করে। পরে রাতের আধারেই চার্জশীট দিয়ে হাসান অন্যত্রে বদলি হয়ে যায় বলে খবর পাওয়া যায়।
বাতাসে গুন্জন রয়েছে, ভূমিদস্যু বাবু এ সময় ৩ লক্ষাধিক টাকার বিনিময়ে থানার ওসি ও মামলার আইও কে হাত করে চার্জশীট দিতে বাধ্য করে। এতেও নীরব ছিলোনা আলোচিত সমালোচিত ভূমিদস্যু ও বনখেকো তকদীর হোসেন বাবু।
সম্প্রতি তিনি খালিশপুর থানায় সাংবাদিক ইভার বিরুদ্ধে আরেকটি সাধারণ ডায়েরী করে রাখে যার নং ২৪৮/১৭ইং। এভাবে একের পর এক মিথ্যা মামলা ও জিডি করে হয়রানি করে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে এতে যোগসাজেশ রয়েছে কতিপয় কিছু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের।
যদিও দেশের আইন হলো ভালো নাগরিকদের আত্মরক্ষার জন্য। কিন্তু এক শ্রেণির মানুষ আইনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করে যাচ্ছে।
আইন যেখানে মানুষকে অপরাধের হাত থেকে রক্ষা করার কথা। সেখানে আইনকেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে মানুষকে হয়রানি করে নিজের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য।
অনেক সময় দেখা যায়, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে প্রভাবশালী কিছু খারাপ লোক নানা রকম মিথ্যা মামলা দিয়ে থাকে। এর মধ্যে অন্যতম হল ৫৭ ধারায় সাংবাদিক নিধন মামলা।
আইন অনুযায়ী, থানায় মামলা হওয়ার আগেই ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করেন তদন্ত কর্মকর্তা। কিন্তু বাস্তবে বেশিভাগ ক্ষেত্রেই এটি মানা হয় না।
আইন যথার্থভাবে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ হোক। কোনো নিরাপরাধ মানুষ হয়রানির শিকার না হোক সেটাই সবার প্রত্যাশা।
তারপরেও সমাজের বিবেক বলে খ্যাত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এ ধারায় মামলা দায়ের কোন যুক্তিগত নেই বলে ধারণা করছে সুশীলমহল।
অন্যদিকে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ মাধ্যম খুলনার কন্ঠে’র সম্পাদক শেখ রানা ও প্রকাশক ইশরাত ইভার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার হয়রানি বন্ধে সারাদেশে প্রতিবাদ ওঠেছে গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে।
এমনকি বর্তমানে মামলাটি প্রত্যাহার বা পূণ:তদন্তেরও দাবী জানিয়েছে সাংবাদিক ও পেশাজীবি সাংবাদিকমহল।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.