কর্ণফুলী অানোয়ারায় ইয়াবা নয়,রয়েছে স্বর্ণের বার বিক্রির বড় সিন্ডিকেট
জে,জাহেদ নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের আওতাধীন কর্ণফুলী ও আনোয়ারা উপজেলা মাদক আর নকল স্বর্ণ বিক্রির নিরাপদ জোন হিসাবে ব্যবহার করছে একটি বড় সিন্ডিকেট। আমাদের অনুুসন্ধানী রিপোর্টে এমনটি অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়,দীর্ঘদিন এসব প্রতারক চক্র আর নিষিদ্ধ মাদক ব্যবসায়ীরা সমাজে ভালো মানুষের আড়ালে গোপনে নানা অপরাধে জড়াচ্ছে। কেননা অধিক অর্থের লোভে এ কাজে হাত বাড়াচ্ছে অনেকেই।
তথ্যসুত্রে জানা যায়, কক্সবাজার হতে আরাকান সড়ক দিয়ে নগরীর প্রবেশদ্বার খ্যাত কর্নফূলী মইজ্জারটেক।
যেখানে প্রতিদিন কোন না কোন ইয়াবা আর নিষিদ্ধ মাদক বহনকারী সদস্য ধরা পড়ছে। মাঝে মধ্যে আসল ও নকল স্বর্ণ বিক্রির সদস্য ও বাদ পড়ছেনা।
সেক্ষেত্রে স্বীকার করতে হবে কর্ণফুলী থানার চৌকস পুলিশ অফিসারদের ভালো নজরধারী ও দায়িত্ব পালনে অগ্রনী ভূমিকা বেশ প্রশংসনীয়। যদিও দু একটি বিছিন্ন ঘটনা ঘটছে।
সাম্প্রতিকতম সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মাদক নিয়ে আটকের খবর এখন আর গল্প নয়। গত ৩০ ডিসেম্বরে রাতেও ধরা পড়েছে দু সেনাসদস্য।
এর পুর্বে পুলিশের ডিবি এএসআই। বিষয়টি বেশ বিব্রতকর বলে মনে হলেও জনগণ ভাবছে সব পেশায় খারাপ লোক থাকতে পারে।
গোপন সুত্রে অনুুসন্ধানী চোখে জানা যায়, কর্ণফুলীর চরপাথরঘাটা, জুলধা,শিকলবাহা বাদামতল,মাষ্টারহাট, কোলাগাঁও, ফাজিলখার হাঁট কাচা বাজার, বড়উঠান ব্রিক ফিল্ড রোড গুয়াপঞ্চক, ১১নং মাতব্বরঘাট এর কিছু কথিত ব্যবসায়ী, ফকিরনীরহাট গোয়েন্দা পুলিশের কথিত সোর্স পরিচয়দানকারী যুবক, ডাঙ্গারচরের ৯নং ঘাট,শাহমিরপুরের আলোচিত একটি ডাকাতের গ্যাং, চরলক্ষ্যা সহ আনোয়ারা উপজেলার কোট্টাপাড়া, গহিরা ও পার্কিরচরে রয়েছে ইয়াবা আর নকল বারের হাট।
যেখানে প্রতিদিন বিকালে নতুন নতুন মোটর সাইকেল আরোহী এবং অপরিচিত মানুষের আনাগোনা বেড়ে যায়। ফলে সন্ধ্যার পরে ইয়াবার হাট ।
এ ছাড়াও এসব এলাকার বিভিন্ন স্থানে ঘটছে, নকল স্বর্ণের বার বিক্রির মতো প্রতারণার ঘটনা।
মাত্র কয়েকদিন আগেও চরপাথরঘাটার এক ব্যবসায়ী মাহমুদের ( ছদ্মনাম) কাছে নকল স্বর্ণের বার বিক্রি করে হাতিয়ে নিয়েছে ৪ লক্ষ টাকা।
সিন্ডিকেটটি প্রথমে একটি আসল স্বর্ণের বার দেখিয়ে ব্যবসায়ীদের আকৃষ্ট করে পরে নকল বার ধরিয়ে দিয়ে চম্পট দেয় বলে জানান মাসুদ নামে এক স্থানীয় যুবক।
বিশেষ করে কর্ণফুলী ও আনোয়ারার পয়সাওয়ালা আর প্রবাসীদের টার্গেট করে এসব প্রতারক চক্র। অনেকে প্রতারিত হয়েও লোক লজ্জা আর প্রশাসনের ভয়ে মুখ খুলছেনা। এমনটি অভিযোগ ও কম না।
গত কিছুদিন আগে উপজেলার খোয়াজনগর এলাকার “উমাচরণ” নামক স্বর্ণের দোকানে নকল স্বর্ণ বিক্রি করতে এসে গণধোলাই খেয়ে মুছলেকায় ফাতেমা বেগম নামে এক নারীও পালিয়ে যায় বলে জানান স্থানীয় ব্যবসায়ী আলমগীর।
এভাবে গ্রামের সহজ-সরল অনেক মানুষকে বোকা বানিয়ে এসব প্রতারকচক্র টাকা-পয়সা খুইয়ে নি:স্ব করে দিচ্ছে। অনেক সময় প্রশাসন দু-একজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হলেও পুরা সিন্ডিকেটটি এখনো অধরা রয়েছে বলে দাবি করেছে অনেকে।
ফলে এসব প্রতারকচক্রের দৌরাত্ত কমছে না বরং বেড়েই চলেছে আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলায়।
অনেকে অভিযোগ করে, দুই উপজেলার অনেক স্বর্ণ দোকানদারের বাড়িতেই তৈরী হচ্ছে নকল স্বর্ণের বার। যেখানে সিল মারা থাকছে সৌদি আরবের সাথে মিয়ানমারের ৫৭০,৭৭৭,৯৯৯৯/৯৯।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দু উপজেলার অলিগলিতে নামে বেনামে গড়ে ওঠা, স্বর্ণের দোকানদার ও তাদের বাড়িতেই বিশেষ কায়দায় তৈরী হচ্ছে নকল স্বর্ণের বার।
পিতল কেটে তাতে ডায়েসের ওপর রেখে সৌদি আরবের সিল বসিয়ে দিচ্ছে। এরপর সিরিজ কাগজে সেই পিতল ঘঁষা-মাজা করে স্বর্ণের বারের আকার ও দিচ্ছে। যা পরবর্তীতে সিন্ডিকেটের হাতে পাচার হচ্ছে কমিশন লাভে।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, আনোয়ারা ও কর্ণফুলীতে নিষিদ্ধ মাদক ইয়াবা ও নকল স্বর্ণের বার বিক্রির এসব সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী, একাধিক জনপ্রতিনিধি, থানার ক্যাশিয়ার, পুলিশের সোর্স এমনকি সাংবাদিক পরিচয়দানধারী কিছু লোক।
যারা নির্দিষ্ট সময় পর পর অবৈধ মাদক ব্যবসায়ী আর প্রতারক চক্র হতে মোটা অংকের টাকা নিচ্ছে।
আমাদের প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে তথ্যে উঠে আসে আনোয়ারা গহিরা এলাকাসহ কর্ণফুলীর ইছানগর ও চরপাথরঘাটায় রয়েছে একটি বড় সিন্ডিকেট। যারা মুল ব্যবসার আড়ালে ইয়াবা ব্যবসায় সাথে জড়িত। এ বিষয়ে গোয়েন্দা নজর বাড়ানো দরকার বলে মনে করেন স্থানীয় জনগণ।
এসব প্রতারণার ফাঁদ ও হোতা সম্পর্কে জানতে চাইলে কর্ণফুলী উপজেলার পুলিশের মুখপাত্র সৈয়দুল মোস্তফা বলেন, ‘ নকল স্বর্ণ ও বারের ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার এমন প্রতারণার ঘটনা নগরীতেও মাঝে মাঝে ঘটছে। প্রশাসন এ বিষয়ে কর্ণফুলীতে গোপন নজরধারী বৃদ্ধি করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে এই পুলিশ কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘যারা এই নকল স্বর্ণের বার তৈরী ও ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে অতি দ্রুত।
এদিকে নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার এ,এ,এম হুমায়ুন কবির আমাদের প্রতিবেদক কে বলেন, ডিবির সোর্স পরিচয়ে কারো কাছ হতে অবৈধ অর্থ আদায় করার কোন সুযোগ নেই। আনোয়ারা ও কর্ণফুলীতে সাদা পোশাকে নগর গোয়েন্দা পুলিশের তীক্ষ্ণ নজরধারী রয়েছে বলে জানান তিনি।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.