সবার সহযোগিতায় আমরা মাদক নির্মূল করবো- র‌্যাব-১৫ অধিনায়ক

মোঃ নেজাম উদ্দিন, কক্সবাজার
গনমাধ্যম কর্মীদের আন্তরিক সহযোগিতা ও তাদের সঠিক তথ্য পারে অনেকাংশে মাদক নির্মূল করতে। যদি গণমাধ্যম কর্মীরা সঠিক তথ্য প্রদান করে আমাদের সহায়তা করে আমরা অনেক এগিয়ে যাবো মাদক নির্মূলে। আর এই সহায়তা দিয়ে এই মাদক নির্মূলের জন্য আহবান জানান কক্সবাজার র‌্যাপিড় এ্যাকশন ব্যাটলিয়ন-১৫( র‌্যাব) এর অধিনায়ক আজিম আহমেদ। তিনি আরো বলেন আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে মাদকমুক্ত করার বিষয়ে জেলা পুলিশের ঘোষণায় ঐক্যমত পোষণ করে সব সময় মাদক নির্মূলে কাজ করছে র‌্যাব। আগামীতে সবার সাথে সহযোগিতা করে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন র‌্যাব কতৃপক্ষ।রোববার (২৬ জুলাই) সকালে র‌্যাব-১৫ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয় কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ কার্যালয়ে।
এই বছরের জানুয়ারী থেকে জুন পর্যন্ত ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে ১০,৮৩,৭১৯ পিস। গ্রেফতার হয়েছে ১৮৭জন আর র‌্যাবের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়েছে ১০জন। এবং প্রতিষ্ঠার পর থেকে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫৩২ জনকে আটক করেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৫১ লাখ ৬ হাজার ২’শ ৮০ পিস ইয়াবা, বিভিন্ন সময় বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে ৩০, অস্ত্রসহ আটক হয়েছে ৭৭ জন এবং অন্যন্য অপরাধে আটক করেছে ৩৫ জনকে।

বর্তমানে কক্সবাজারসহ পুরো বাংলাদেশ করোনা আতংকে সাধারণ মানুষকে করোনার হাত থেকে রক্ষা করতে জেলার আইনশৃংখলা বাহিনী ব্যস্থ সময় পার করছে ঠিক সেই মুহুর্তে কিছু মাদক কারবারী সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তাদের মাদক ব্যবসার প্রসার ঘটাতে সারা দেশে বিভিন্ন মাধ্যমে মরণ নেশা ইয়াবা পাচারে ব্যস্থ হয়ে পড়ে।

সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে র‌্যাব-১৫ অধিনায়ক আজিম আহমেদ জানান, রোহিঙ্গাদের কারনে ইয়াবা ব্যবসা মূলত বন্ধ করা যাচ্ছেনা। রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পকে কেন্দ্র করে ইয়াবা ব্যবসা গড়ে উঠছে। সেখানে রোহিঙ্গা শরনার্থীরা জড়িয়ে পড়ছে। পুরো দেশে ইয়াবা ব্যবসার বিস্তৃতি ঘটানোর পেছনে রোহিঙ্গাদের একটা বড় ভুমিকা রয়েছে।
নতুন করে আসা বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাদের কারণে ইয়াবা ব্যবসা ও পাচার বন্ধ করা যাচ্ছে না। এছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিকে বেশ কয়েকটি ইয়াবা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন র‌্যাব-১৫ অধিনায়ক মোহাম্মদ আজিম আহমেদ।

দেশের স্বার্থে, ভবিষ্যত প্রজম্মকে গড়ে তুলতে মাদক নির্মূলে গণমাধ্যম সহ সবাইকে একযোগে কাজ করার আহবান জানিয়ে র‌্যাব-১৫ অধিনায়ক। তিনি আরো জানান, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘শূন্য সহিঞ্চুতা’ নীতির আলোকে গত ১৬ মাসে ধরে মাদকের বিরুদ্ধে র‌্যাব-১৫ এর অভিযান সব সময় ছিল এবং আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ইয়াবা ব্যবসা যে পরিমান কমার কথা, সে পরিমান আদৌ কমেনি। বরং পাইকারী এবং খুচরা পর্যায়ে ইয়াবা ব্যবসার বিস্তৃতি আরো বাড়ছে। এতে, নতুন প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। আগামী প্রজন্মের স্বার্থে সবাইকে মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করার আহবান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইয়াবার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ইয়াবা পাচার বাড়ছে এবং বেশ কিছু জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ সহ বিভিন্ন সেক্টরের এতে সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাদের কারণেও ইয়াবা ব্যবসা কমছেনা বলে র‌্যাব অধিনায়ক আজিম আহমেদ মন্তব্য করেন।

সাংবাদিকরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার বন্ধ করা, মিয়ানমারের সিম ব্যবহার বন্ধ করা, মাদকের সাথে পৃষ্ঠপোষকতাকারি জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের তালিকা প্রকাশ তৈরি করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়াসহ মায়ানমার সীমান্তে ইয়াবা কারখানা বন্ধে আর্ন্তজাতিকভাবে কাজ করা এবং গ্রাম পর্যায়ে অভিযান জোরদার করার দাবি তুলেন।
মতবিনিময় সভায় র‌্যাব-১৫ এর মেজর মেহেদী হাসান, সহকারী পুলিশ সুপার বিধান চন্দ কর্মকারসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কক্সবাজার এবং উখিয়ার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.