সাইফুদ্দিন শিমুল
নাইক্ষংছড়ি উপজেলায় প্রতিটি কাঠের গাড়ী থেকে অবৈধভাবে গাড়ি প্রতি চাঁদা আদায় করছে জনৈক কাঠ ব্যবসায়ী।
সুত্রে জানাগেছে, কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণী বিগত পাঁচ বছর ধরে নীরবে চলা এই চাঁদাবাজির কারনে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে সাধারণ ভেনগাড়ী চালক থেকে শুরু করে ঠেলাগাড়ি ও ট্রাক পিক-আপের চালকদের মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
আদায় হওয়া টাকা বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনি ও প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগে প্রদানের কথা বললেও প্রকৃতপক্ষে এই টাকার ভাগ বিনিময় কি ভাবে সম্পন্ন হয় সে বিষয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
একি সাথে অবৈধ ভাবে বিনা পারমিটে ভোররাত্রী কাঠের গাড়ি পাচারের কন্ট্রাক্টর সিস্টেমে বিভিন্ন সরকারী বিভাগের নাম দিয়ে মোটা অংকের টাকা নিয়ে কন্টাক্ট নেয়ার খবর পাওয়া গেছে।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক কাঠ ব্যবসায়ী জানান, বন্ধ বিভাগের আস্কারা পাওয়ায় দিনদিন অবৈধভাবে কাঠ পাচার ও চাঁদাবাজি বেড়ে যাওয়ায় বৈধপথে কাঠ ব্যবসা করে লাভবান হওয়া কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে, ঢাকা চট্টগ্রাম থেকে কাঠ ক্রয় করতে আসা বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের মন্তব্য চাঁদাবাজি হওয়ায় বন্ধ না হলে তারা মুখ ফিরিয়ে নিলেই এই সিন্ডিকেট লাভবান হবে।
আওয়ামীলীগের নাম বিক্রি করে বীনা অনুমতিতে টোল টেক্সট এর আদলে চাঁদা আদায় করা উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন গাড়িতে রাতের আধারে ইয়াবা পরিবহন করে মাদক ব্যবসা করে কোটি টাকা আয় করার সংবাদ ইতোমধ্যে জাতীয় পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
ভেন গাড়ি থেকে ৫০০/ টাকা চান্দের গাড়ী ৩০০০/ পিক আপ ৫০০০/ টাকা করে অবৈধভাবে রামু কক্সবাজার পাচার হওয়া চিড়াই কাঠের গাড়ি থেকে আদায় করা হচ্ছে।
এছাড়া ভোর রাত্রি বিভিন্ন কাঠের ডিপুটি থেকে সেগুন, কড়ই, গামারি, গোদা, গোটিয়া ইত্যাদি কাঠ ট্রাকে ভরে পারমিট বিহীন পাচার হচ্ছে এই সকল গাড়ি থেকে লাইন খরচ এর নামে ১৫ হাজার টাকা কন্টাক্ট করে প্রশাসন খরচ নেয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ এর ইজারা আদায়ে আগেই এই টাকা কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক ওসমান গণীকে প্রশাসনিক খরচ বাবদ উক্ত চাদা প্রদান করে ক্লিয়ারেন্স টোকেন নিতে হয়।
মাদক পাচার ও চাঁদাবাজির বিষয়ে মুঠোফোনে ওসমান গজনীর মোটুফোনে (০১৮২৩৯৬৯৫৯৯) নাম্বারে যোগাযোগ করে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পাচারকারী চক্রের সদস্যরা প্রধান সড়কে বিজিবির গেইট থাকায় রাতের আধারে ভিন্ন সড়কে কাট পরিবহন করছে। উপজেলা প্রশাসনের ভিতরে রেষ্ট হাউজ ও উপবনের এই সড়কটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া আফরিন কচি র নির্দেশে বাশ দিয়ে আটকিয়ে রাখা হলেও অসাধু নাইট গার্ডদের ব্যবহার করে বন্ধ সড়ক খুলে গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করছে পাচারকারী চক্র।
এই সমস্ত গোপন কাঠ পাচার হওয়া গাড়িতে চোলাই মদ ও ইয়াবা পাচারের অভিযোগ করে আসছে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর দীর্ঘদিন ধরে।
চাঁদাবাজীর বিষয়ে জানতে চাইলে কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোঃ হোসাইন (০১৮১৭০৭১৬৪৭)
জানান, কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির চাঁদা বলে কোন চাদা নেই, এটা কারো ব্যক্তিগত হলে সে বিষয়ে আমি অবগত নই

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.