ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া সহিংসতার ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের বিব্রত হওয়া যথেষ্ট নয়, কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন গণফোরাম সভাপতি, ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন।
আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।
ড. কামাল বলেন, ‘আমি বলেছি (বৈঠকে) আমার তো ৫৫ বছরের অভিজ্ঞতা আছে। আমি বঙ্গবন্ধুর নির্বাচনী এজেন্ট ছিলাম সত্তরে। তখন থেকে এখন পর্যন্ত সব নির্বাচনই দেখেছি, ভালো-মন্দ সবই দেখেছি। এই অবস্থা কোনোদিন দেখিনি।
’ইসিতে লিখিত তালিকা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একদম সময়, স্থান, ঘটনা বিস্তারিতভাবে দিয়েছি। গুলিবিদ্ধ ব্যারিস্টার খোকন, রুমানা এক মহিলা দুই চোখ হারিয়েছে তার ছবি দিয়েছি।
’নির্বাচন কমিশন কিছু কিছু বিব্রতবোধের কথা বলেছেন জানিয়ে ঐক্যফ্রন্ট প্রধান বলেন, ‘তো বিব্রতবোধ করা তো যথেষ্ট নয়। এটার ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হয়। কার্যকর পদক্ষেপ। আমি বললাম এখনি আপনারা ইনকোয়ারি চান, একদিনের মধ্যে রিপোর্ট নেন। তারপরে পদক্ষেপগুলো নেন যেটাতে বুঝতে পারবে যে নির্বাচন কমিশন এ ধরনের পরিস্থিতিতে সমাজকে, দেশকে মুক্ত করতে চায়। যাতে অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের ন্যূনতম একটা পরিবেশ আমরা পাই।
’পরে ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ড. কামাল হোসেন তার গাড়িবহরে হামলাসহ জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রবের ওপর হামলার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আসম আব্দুর রবের ভাঙা গাড়ির ছবি আমরা দিয়েছি, উনি প্রত্যক্ষদর্শী।
’এ সময় রব বলেন, ‘স্যার আমাকে না আপনাকে মেরে ফেলতো সে সময়। আমার আঙ্গুল দুইটার একটাতে কাঁচ ঢুকেছে, একটাতে হকিস্টিকের বাড়ি। আমি ৪ দিন ধরে খেতে পারি না। সেজন্য আমি প্লাস্টার খুলে ফেলেছি।
’পরে ড. কামাল বলেন, ‘উনার ড্রাইভারের হাত ভেঙে ফেলেছে, ভাঙা গাড়ির ছবি আমরা দিয়েছে। অর্থাৎ এই ঘটনাগুলো যে ঘটেছে সেটা অনস্বীকার্য। এটা পত্রপত্রিকায় আপনারা দেখেছেন।
’তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দাবি ছিল, আমরা কার্যকর প্রতিকার চাই। ইলেকশন কমিশনকে সংবিধানে যে দায়িত্ব দেওয়া আছে যে এই ইলেকশন শুরু হয়ে যাওয়ার পরে সরকারের যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা, মানুষের অধিকার রক্ষা করার ব্যাপারে প্রশাসনকে আদেশ দেওয়ার সব ক্ষমতা তাদের আছে।’

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.