নেজাম উদ্দিন
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সারাদেশের ন্যায় কক্সবাজারজেলায় আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে ১০ দিনের লকডাউন। করোনা রোধে লোকজনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে কক্সবাজারে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী ও নৌ-বাহিনীর সদস্যরা। আজ বৃহস্পতিবার থেকে পাঁচ উপজেলায় সেনাবাহিনী ও তিন উপজেলা নৌবাহিনী টহলে নেমেছে। এরমধ্যে নয়টি সেনাবাহিনী দল এবং পাঁচটি নৌ দল থাকবে। জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আট উপজেলার মধ্যে কক্সবাজার সদর, রামু, উখিয়া, পেকুয়া ও চকরিয়া টহল দিবে সেনাবাহিনী এবং উপকূলীয় উপজেলা কুতুবদিয়া, মহেশখালী ও টেকনাফে টহলে নেমেছে নৌবাহিনী।
জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বলেন, করোনা রোধে সরকার হার্ডলাইনে রয়েছে। প্রতি উপজেলায় নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে কাজ করছে সবাই দৃড়তার সাথে। তারা সাধারণ মানুষকে ঘর বের না হতে ইতোমধ্যে অনেক উদ্যোগ গ্রহন করেছে । মানুষের চলাচলের নিয়ন্ত্রণ শতভাগ নিয়ন্ত্রণ করতে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী দল নামানো হয়েছে। টহলরহ সেনবাহিনী ও নৌবাহিনী গণজমায়েত রোধ করতে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে কার্যকরী ব্যবস্থা নেবে।করোনা নিয়ে সর্বস্তরের লোকজনকে সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজন ছাড়া কোনোভাবেই বাড়ি থেকে হবেন না। দরিদ্র পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য এবং টাকা বাড়ি পৌঁছে দেয়া হবে।পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সকল দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যানবাহন বন্ধ থাকবে। তবে কাঁচা বাজার, মুদি দোকান, হাসপাতাল ও জরুরী পরিসেবা এ আদেশের আওতামুক্ত থাকবে। এদিকে বৃহস্পতিবার দুপরে ভাইরাস প্রতিরোধে কক্সবাজারকে জীবাণুমুক্ত করার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন, কক্সবাজার এর উদ্যোগে ও একশন এগেইন্সট হাঙ্গার (এসিএফ) এর সহযোগিতায় শহরে ও বিভিন্ন উপজেলায় জীবাণুনাশক তরল ছিটানো শুরু হয়। দেশের এ ক্রান্তিলগ্নে করোনার মোকাবিলায় ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে এগিয়ে আসার আহবান জানান ডিসি কামাল হোসেন।
২৬ মার্চ থেকে ছুটি ভোগ করছে সরকারি-বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। তা চলবে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত। ২৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টসহ দেশের সব আদালতে সাধারণ ছুটি।
বৃহস্পতিবার সকালে শহর ঘুরে দেখা যায়, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মুখ, কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গন,৬নং সড়কের চৌরাস্তা পয়েন্ট,কলাতলী ও লালদিঘী পাড়,বার্মিজ মার্কেট সড়ক,হলিডে মোড়,বাজার ঘাটা সড়ক সহ বিভিন্ন স্থানে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী অবস্থান নিয়েছে। একসঙ্গে একাধিকজন দেখলে সচেতন করে দেয়া হচ্ছে । সেই সাথে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার দেখলেই থামাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা, জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তাদের, পরামর্শ দেয়া হচ্ছে ঘরে থাকার। ডাশ তেমনি , জেলার পেকুয়া, চকরিয়া, রামু, উখিয়া,টেকনাফসহ অন্যান্য উপজেলাতেও সড়কে কোন পরিবহনই ছিল না বলে জানা যায় ।বিক্ষিপ্তভাবে বিশেষ প্রয়োজনে দু একটি রিকসা দেখা গেলেও আগের মতোমানুষের আনাগোনা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। খোলা রয়েছে কিছু ফার্মেসী,মুদির দোকান,পত্রিকার দোকান এবং মাছ-শাক সবজির বাজার। টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যাচ্ছে না কোন গণপরিবহণ। পুরো পর্যটন শহর যেন নিরব-নিস্তব্ধ।
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধের অন্যতম নির্দেশনা জেলা ও উপজেলায় জনসমাগম রোধ করতে বাস,সিএনজি, নৌযান, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিপণিবিতান বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে প্রয়োজন অনুসারে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকান, হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিসসহ অন্যান্য জরুরি সেবাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে বলে জানা গেছে। সীমিত পরিসরে প্রতিদিন দুই ঘণ্টা ব্যাংকও খোলা।
গত কয়েক দিন ধরে কক্সবাজার শহর অনেকটাই ফাঁকা। বন্ধ রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হোটেল মোটেল জোন। শহরের প্রধান গণপরিবহন টমটম ও রিক্সা অনেকটাই কম, বুধবার সীমিত আকারে চললেও বৃহস্পতিবার সড়কে দেখা মিলেনি কোন সিএনজি-টমটমের। এই অবস্থা আজ আরো দৃশ্যমান হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া ব্যক্তিগত যানবাহন নিয়েও কেউ বের হচ্ছেন না। এরপর সেনাবাহিনী মাঠে নামায় মানুষের স্থানান্তর আরো অনেকটা কমে এসেছে।
যদিও সংবাদপত্র,ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ওষুধ, জরুরী সেবা, জ্বালানি, পচনশীল পণ্য পরিবহন নিষেধাজ্ঞার বাইরে রয়েছে।
৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | সন্ধ্যা ৬:৪৯

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.