ধুলাবালির শহর পর্যটন রাজধানী কক্সবাজার!

মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন,কক্সবাজার।

পর্যটন নগরী কক্সবাজার এখন ধুলাবালির নগরী হিসাবে পরিচিতি পেতে শুরু করেছে এখন ঘরের বাইরে যেতে মাক্স ছাড়া বের হওয়া যায়না। একদিকে রাস্তার বেহাল অবস্থা অন্যদিকে ধুলাবালির জন্য জনজীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে,বাচ্চারা অসুখে পড়ে যাচ্ছে, স্কুলে যাতায়াতের সমস্যা হচ্ছে এলাকার অনেক অভিভাবক শহরের এমন অবস্থা দেখে বাচ্চাদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে, কথা গুলো বলছিলেন কক্সবাজার পৌরসভার বাসিন্দা ফোরকান।
কক্সবাজারের রামু থেকে শুরু করে লিংকরোড়, উপজেলা গেইট,টার্মিনাল,বাজারঘাটা,লালদীঘিরপাড়,কলাতলী,হলিড়ে মোড়সহ কক্সবাজারের সড়ক ব্যবস্থা নাজুক হওয়াতে ও রাস্তার রাস্তার কার্পেটিং উঠে যাওয়াতে রাস্তা ধুলাবালি প্রতিনিয়ত উড়ছে বাতাসে যা মানবদেহের জন্য মারাত্বক ক্ষতি করছে বলে জানান চিকিৎসকগন।
এদিকে ঢাকার সাথে সাথে বায়ু দূষনে পিছিয়ে নেই কক্সবাজার জেলাও। বর্তমানে বায়ু দূষণে ঢাকার অবস্থান ৯০.২%। অথচ চট্রগ্রাম শহরও ৪৪.১%। কিন্তু অবিশ^াস্য হলেও সত্য যে কথিত স্বাস্থ্যকর স্থান,কক্সবাজারের বর্তমান বায়ু দূষনের মাত্রা ৮৮.২%। বায়ু দূষণের মাত্রাটি কক্সবাজার শহরে ৮৭.০% থেকে সর্বোচ্চ ৮৮.২% পর্যন্ত দেখা দিয়েছে বলে জানান বিশেষজ্ঞগণ ।
প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রæত বায়ু দূষণ রোধে ব্যবস্থা না নিলে কক্সবাজার শহরে স্বাস্থ্যগত বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে আশংকা করছেন সচেতন মহল। বর্তমানে,ধুলায় ধুসর কক্সবাজার জেলার প্রত্যেকটি সড়ক মহা-সড়ক। বিভিন্ন যানবাহনের কালো ধুয়া ও রাস্তাার ধুলাবালি বায়ু দূষনের প্রধাণ কারণ বলে মনে করছেন পরিবেশবাদীগণ। কলাতলী হতে রামু কলঘর বাজার পর্যন্ত মহাসড়ক জুড়ে পুরো ধুলাবালিময়। রেললাইনের কাজে এবং টেকনাফ সড়ক উন্নয়নে যে সমস্ত বালি ব্যবহার হচ্ছে তা মহাসড়ক দিয়ে যাচ্ছে। তাদের কামখেয়ালিপনার কারণে রাস্তায় ধুলাবালিময় হয়ে পড়েছে। ব্যস্ততম এই মহাসড়কটি বর্ষা মৌসুমের পর পরেই ধুলাবালিময় হয়ে পড়েছে।
চট্রগ্রাম কক্সবাজার মহা সড়কের ড্রাইভার শামশু জানান,কক্সবাজারের আঞ্চলিক মহাসড়কের অবস্থা নাজুক। খানাখন্দে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীরা। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার, টেকনাফ-কক্সবাজার, শহরের সব সড়কে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় এ সড়কগুলো এখন গাড়ি চলাচলের অনুপযোগী ও চরম ঝুঁকিপূর্ণ। এসব সড়কে গাড়ি চালাতে গিয়ে যানবাহন ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। পাশাপাশি যাত্রী ভোগান্তি ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে গেছে। আর এতে সড়কে ধুলার মাত্রা বেড়ে গেছে যা পথযাত্রীদের চরমভাবে ক্ষতি করছে।
কক্সবাজার টেকপাড়ার কামরুল জানান, টেকপাড়ার সামনের মেইন রোড় এর অবস্থা খুবই খারাপ আর তা থেকে গাড়ি চলাচলের সময় ধুলো উড়তে থাকে এমন কি বাড়ির কিছু সময় দরজা অথবা জানালা খোলা রাখলে বাড়িতে ধুলোয় ভরে যায়। এ থেকে পরিত্রান পেতে হলে সড়ক ঠিক করতে হবে তবে হয়তো ধুলো একটু কমতে পারে ।
টেকপাড়ার জাকের জানান, মহা-সড়ক তো নয় যেন মহা-যন্ত্রণা। রাস্তার কার্পেটিং উঠে গেছে অনেক আগেই। বসানো হয়েছে ইটের সিলিং। সড়কে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। কার্পেটিং না থাকায় চারিদিকে ধুলা উড়ছে। সড়কের আবস্থা বর্ণনা করা কঠিন। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, পর্যটক, অফিসগামী চাকরিজীবী, গাড়ির চালক, সবাই অতিষ্ঠ ধুলোবালিতে
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক আসাদ জানান, ঢাকা থেকে ছুটি নিয়ে এসেছিলাম ঢাকার ধুলোবালি থেকে একটু দুরে এসে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে এসে একটু স্বস্তির নিশ্বাস নিবো কক্সবাজারে এসে দেখি ঢাকার ছেয়ে বেশি ধূলোবালিতে ভরা আর সড়ক ব্যবস্থার যা অবস্থা মনে হচ্ছে কেউ ইচ্ছা করে সড়কে গর্ত কওে রেখেছে।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার শাহিন মোঃ আবদুর রহমান চৌধুরী বলেন, এই ধুলাবালি থেকে শিশু ও বয়ষ্কদের কাশিঁ, হাঁপানী যক্ষা শ্বাসকষ্ট, টিবি,এলার্জি,চর্মরোগসহ নানা জটিল রোগ ব্যাধি হতে পারে। এ থেকে পরিত্রান পেতে বাইরে বের হওয়ার সময় অবশ্যই মাক্স পরিধান করতে হবে।
সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে কক্সবাজার পৌরসভা চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান জানান, আপনারা জেনেছেন ইতিমধ্যে কক্সবাজার পৌরসভার বেশকিছু সড়কের কাজ শুরু হতে চলেছে তা কিছুদিন আগে উদ্বোধন করা হয়েছে। অন্যদিকে ধুলাবালির জন্য কক্সবাজার পৌরসভা গত ৯ই জানুয়ারীতে একটি গাড়ি ব্যবস্থা করেছি যেসব স্থানে বেশি ধুলা উড়ছে সেখানে গিয়ে পানি ছিটিয়ে আসবে প্রতিদিন। আশা করছি সকলের সহযোগিতায় আমরা এই সমস্যা কাটিয়ে উটতে পারবো ।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.