সৌদিতে রোহিঙ্গা আমিন বনে গেছে বাংলাদেশি

সৌদি আরব থেকে বিশেষ প্রতিনিধি
ভুয়া নাম ঠিকানা ব্যবহার করে রোহিঙ্গা রোহিঙ্গা আমিন (২৯) শরণার্থী ক্যাম্প এ.ব্লকের মৃত ইব্রাহিমের বড় ছেলে এখন সৈৗদি আরবে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে পেলেছে।হাতে পাসপোর্ট আসায় অনায়সে পেয়ে গেছে ওয়ার্ক পারমিট । আর তাতে অবাধে চলাফেরা করতে বাধা না থাকায় বিভিন্ন ভাবে সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশিদের শ্রমিক হিসাবে ব্যবহার করে পারিশ্রমিক দিচ্ছেনা বলে অভিযোগ উঠেছে। আর তার সাথে হাত মিলিয়ে এভাবে সেখানে বেশকিছু রোহিঙ্গা বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুয়া নাম ঠিকানা ব্যবহার করে রোহিঙ্গারা কৌশলে জন্মনিবন্ধন ও চেয়ারম্যান সনদ সংগ্রহ করে বাংলাদেশী পাসপোর্ট নেওয়ার তথ্য নতুন নয়।। এমন রাষ্ট্রদ্রোহী কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করে যাচ্ছে দালাল চক্র এবং প্রশাসনিক কিছু অসাধু ব্যক্তি।
রোহিঙ্গারা বাংলাদেশী পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশীদের ভাবমূর্তি অনেক আগেই নষ্ট করেছে বলে অভিমত সৌদিতে বসবাসরত বাংলাদেশিরা।
রোহিঙ্গা শরণার্থী রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের এ ব্লকে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা আমিনের কথা। ক্যাম্পের একজন রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা হয়েও সৌদি আরবে বসে উখিয়ার হলুদিয়াপালং ইউনিয়ন ৫নং ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে ভূয়া নাম ঠিকানা ব্যবহার করে চেয়ারম্যান শাহ আলম এর স্বাক্ষরিত সনদ ও সাবেক চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন মিন্টুর স্বাক্ষরিত জন্মসনদ বানিয়ে নেয় যার নং-১৯৮৮২২১৯৪১৫০৬৯৯০৬.আর এই জন্মসনদ ব্যবহার করে সৌদি আরবের রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করে যার নং বিএন ০৭৫১৫৮৪

এই রোহিঙ্গা’ক্যাম্পে থাকা অবস্থায় অনৈতিক কাছে লিপ্ত ছিল বলে জানা গেছে। গলাকাটা পাসপোর্টে সৌদি আরবে পাড়ি জমায়। সর্বশেষ,২৭ মার্চ ২০১৭সালে রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করে।

অর্থের প্রলোভনে দুইয়ের অধিক বিয়ে করেছে বলে জানা গেছে। রোহিঙ্গাদের বিদেশে আনতে কক্সবাজারসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে একাধিক পাসপোর্টের আবেদন করে পরে দুইজন রোহিঙ্গা নারীর পাসপোর্ট আবেদন ফাইল আটকে যায় কক্সবাজারে । তাদেও আনতে মরিয়া হয়ে উটে একসময় সে তাদেও সৌদিতে নিয়েও আসে।
প্রলোভন দেখিয়ে ইয়াছমিন আক্তার নামে এক নারীকে সৌদি আরবে নিয়ে এসে সৌদি ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে যার পাসপোর্ট নং ইএফ.০৫০৭৩৪৯
রোহিঙ্গা আমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া প্রবাসীদের নিয়ে এসে দীর্ঘদিন কাজ করিয়ে পরে তাদেরকে পুলিশে দেওয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেওয়ার।
এমন দশ থেকে ১২জন ব্যক্তির অভিযোগ রয়েছে এদের মধ্যে উখিয়া সোনার পাড়া এলাকার আরিফ,রামুর গর্জনিয়া বড়বিলের হেলাল,আর আজিম জানায় সেখানে ১২,জন মানুষ কর্মরত ছিল দীর্ঘ পাঁচ থেকে ছয় মাস কাজ করিয়ে একে একে দিনমজুর প্রবাসীদের এভাবেই বের করে দিয়েছে।
সর্বশেষ আমরা ছয়জন ব্যক্তি কর্মরত ছিলাম সবাই মিলে ৫০,হাজার রিয়াল পাওনা রয়েছি আর সেই টাকা চাইলে বিভিন্ন অজুহাত পেশ করে।
পরে আমরা সবাই কর্মবিরতি করি। তার পরিচিত একজন সৌদি নাগরিক নিয়ে এসে কাজে যোগ দিতে বিভিন্ন ভয়-ভীতি দেখায়, আমরা কাজ না করে আমাদের পাওনা টাকা ফেলে সবাই তার কারখানা থেকে চলে আসি।
প্রবাসীদের দাবি এই ভয়ঙ্কর রোহিঙ্গা আমিনের ওয়ার্ক পারমিট নাম্বার,২৪২৩৫০৮৯৯৯, সৌদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দিয়ে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান।
তাকে জন্ম নিবন্ধন এবং চেয়ারম্যান সনদ কিভাবে দেওয়া হলো সেই বিষয়ে জানতে বর্তমান হলদিয়া পালং ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শাহ আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন বিষয়টি আমি খবর নিবে বলে জানান।
রোহিঙ্গা আমিনের পাসপোর্ট বিষয়ে জানতে সৌদিআরবের রিয়াদস্থ দূতাবাসের এই নাম্বারে,০০ ৯৬৬ ৫৫ ৭৭৮ ৫৪৮৭,যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানায় আমরা তার সব ডকুমেন্ট পত্র যাচাই করেই পাসপোর্ট দিয়েছি রোহিঙ্গা হলেও আমাদের কাছে,সে যাবতীয় সব কাগজপত্র সাবমিট করেছে এখানে আমাদের কিছু করার নেই।
এ বিষয়ে জানতে রোহিঙ্গা আমিন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে সে জানায় আমি উখিয়া হলদিয়া পালং এর স্থায়ী বাসিন্দা,কিছু কুচক্রী মহল আমার বিষয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে সাংবাদিককে ভুল তথ্য দিয়েছে।

 

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.