ডেস্ক নিউজ:
অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে বাড়ছে চালের দাম; আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব ‘ভোজ্যতেলে’।
বাজারে গত কয়েক মাস ধরেই উঠানামা করছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে চাল, তেল, চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে বস্তা প্রতি চালের দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। করোনার প্রভাব নয়, বরং ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে চালের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। অপরদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তেলের বাজারে অস্থিরতা চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। এদিকে পণ্যের লাগামহীন দাম বৃদ্ধিতে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন সাধারণ ক্রেতারা।
শনিবার পাহাড়তলী চালের পাইকারি বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন ধরনের চালের পসরা সাজিয়ে বসে আছেন ব্যবসায়ীরা। শ্রমিকরা ট্রাক থেকে চালের বস্তা নামাতে পার করছেন ব্যস্ত সময়। বাজারে পর্যাপ্ত চালের সরবরাহ রয়েছে। তবে চালের বাজারে ক্রেতাদের আনাগোনা ছিল কম।
জানা গেছে, চট্টগ্রামের চাল ব্যবসায়ীরা মূলত নওগাঁ, দিনাজপুর, রাজশাহী, বগুড়া ও নীলফামারি থেকে যাবতীয় চাল আমদানি করে থাকেন।
ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, জিরাশাইল বস্তা প্রতি ১০০ টাকা বেড়ে ৩ হাজার ৫০ টাকা, মিনিকেট (সিদ্ধ) চাল ১০০ টাকা বেড়ে ২ হাজার ৮৫০ টাকা, কাটারি (আতপ) ৪০০ টাকা বেড়ে ৩ হাজার ১৫০ টাকা, নাজিরশাইল (আতপ) ২৫০ টাকা বেড়ে ৩ হাজার ১৫০ টাকা, পাইজাম (আতপ) ২০০ টাকা বেড়ে ২ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া পাইজাম (সিদ্ধ) ১০০ টাকা বেড়ে ২ হাজার ৩৫০ টাকা, আতপ (মিনিকেট) ১০০ টাকা বেড়ে ২ হাজার ৯০০ টাকা, মেতি আতপ ২০০ টাকা বেড়ে ২ হাজার ৬০০ টাকা, চিনি আতপ ৩ হাজার ১৫০ টাকা ও সিদ্ধ চাল ৫০ টাকা বেড়ে ২ হাজার টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে খুচরা বাজারে বিআর-২৮ কেজি প্রতি ৫০ থেকে ৫২ টাকা, আপেল পাইজাম ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, সরু মিনিকেট ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, আঠাশ মিনিকেট ৫০ থেকে ৫৪ টাকা, নাজির শাইল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, কাটারি ৫৭ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৪৮ থেকে ৫০ টাকায়।
পাহাড়তলি বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দীন জানান, চালের বাজারে দাম বৃদ্ধির প্রভাবটা পড়েছে নর্থ বেঙ্গল থেকে। সেখানে এলসির মাধ্যমে চাল আমদানি করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মজুদ করে রেখেছে। ফলে চালের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দামটাও বেড়ে গেছে। আসন্ন রোজায় চট্টগ্রামে আতপ চালের চাহিদা বেড়ে যাবে। সে চাহিদা মোকাবেলায় এখনো আমাদের কাছে পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। সরকার যদি আতপ চাল আমদানির অনুমতি দেয় তাহলে আসন্ন রমজানে চালের বাজার স্থিতিশীল থাকবে। না হয় চালের দাম আরো বাড়বে।
তিনি বলেন, চালের বাজারে করোনার প্রভাব এখন আর নেই। সরকার চাল আমদানি করার অনুমতি দিয়েছেন। তবে ব্যবসায়ীরা কম পরিমাণে চাল আমদানি করছেন। এ কারণেই দাম বাড়ছে।
এদিকে চালের পাশাপাশি বেড়েছে সব রকম ভোজ্যতেলের দামও। খাতুনগঞ্জে ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আগে ১৮৫ কেজি তেলের দাম ছিল ৪ হাজার ২৫০ টাকা। এখন তা ৪ হাজার ৪৮০ টাকায় কিনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। দুই মাসের ব্যবধানে বেড়েছে পামওয়েলের দামও। পামওয়েল আগে ১৮৫ কেজির দাম ছিল ৩ হাজার ২৫০ টাকা, এখন তার দাম বেড়ে ৩ হাজার ৬২০ টাকা হয়েছে। সুপার তেল মণ প্রতি ৬৫০ টাকা বেড়ে ৩ হাজার ৭২০ টাকায় পৌঁছেছে। তাছাড়া বোতলজাত তেল লিটারে ৫ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ১২৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা আগে ১০৫ টাকায় বিক্রি হতো।
খাতুনগঞ্জে মক্কা স্টোরের স্বত্ত্বাধিকারী মোহাম্মদ তওকীর বলেন, ‘শীতকালে ভোজ্যতেলের চাহিদা বাড়ে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি ও স্থানীয় বাজারে সরবরাহ কম বিধায় তেলের দাম বেড়েছে। তেলে ভেজাল করা গেলে দাম কিছুটা কমতো। কিন্তু এখন আর সে কাজ করার সুযোগ নেই। আমাদেরকে খাঁটি তেল বিক্রি করতে হয় বিধায় দাম বেড়েছে।’
-সিভয়েস

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.