ডেস্ক নিউজ:
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর মুক্তিতে এতদিন শাহবাগ থানার ১টি মাত্র মামলা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, যেটিতে তিনি গত মাসে জামিন পান। কিন্তু গত ৩ ফেব্রুয়ারি তিনি ওই মামলায় ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজিরা দিতে গেলে শাহবাগ থানার অপর এক মামলায় তাকে শোন এরেস্ট দেখাতে আদেশ দেন বিচারক। আদেশ অনুযায়ী কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার সময় কারা ফটকে তাকে শোন এরেস্ট দেখানো হয়। ফলে তার মুক্তিতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে নতুন করে আরও একটি মামলা।
এর আগে অর্থ আত্মসাৎ, চেক প্রতারণা এবং বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মোট ৭৮টি মামলায় জামিন পেয়ে মুক্তির প্রহর গুনছিলেন আলোচিত বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী। গত তিন বছর ধরে তিনি চট্টগ্রাম কন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী ছিলেন। মাস খানেক আগে তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। তখন থেকে তিনি ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী রয়েছেন। ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ২০১৬ সালের ১৫ মে ঢাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন আসলাম চৌধুরী।
এদিকে কারা ফটক থেকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীকে শোন এরেস্ট দেখানোর ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত ৪ ফেব্রুয়ারি লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।
বিবৃতিতে ফখরুল বলেন, করোনা চলাকালীন সময়ে শাসকগোষ্ঠী মানুষের দুর্ভোগ লাগবে কাজ না করে বরং নিজেদের ক্ষমতাকে দীর্ঘ মেয়াদে আখড়ে ধরতে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর জুলুমের স্টিমরোলার অব্যাহত রেখেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আসলাম চৌধুরীকে জামিনে মুক্তি লাভের সাথে সাথে ফের আরেক মামলায় শোন এরেস্ট দেখিয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙে দিতে সরকার দিনের পর দিন হিংস্র থেকে হিংস্র রুপ ধারণ করছে। মূলত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে আসলাম চৌধুরীকে মুক্তি লাভের আগ মুহূর্তে শোন এরেস্ট দেখানো হয়েছে।
জানা গেছে, আসলাম চৌধুরী ২০০২ সালে জিয়া পরিষদের মাধ্যমে বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। তিনি তখন জিয়া পরিষদ, চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরে ২০০৭ সালে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। জেলা বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হতে না হতে দুই বছরের মাথায় জেলার সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হন তিনি। পাশাপাশি জায়গা করে নেন কেন্দ্রের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক পদে। পাঁচ বছর পর ২০১৪ সালের ২৬ এপ্রিল জেলা বিএনপির সভাপতির সিংহাসনে বসেন তিনি।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সভাপতি থেকে ২০১৬ সালে এক লাফে বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিবের পদে আসীন হন আসলাম চৌধুরী। রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের আগে এ বিএনপি নেতা বিসিএস ক্যাডার ছেড়ে এফসিএ কোর্স করে একটি সিমেন্ট কোম্পানির পরিচালক পদে কর্মরত ছিলেন।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.