নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
১৯৯২ থেকে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে এদেশের সীমান্তবর্তী এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে আশ্রয় নেওয়ার পর রোহিঙ্গারা রামুর কাউয়ারখোপের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ও ভাড়াবাসায় কৌশলী হয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করছে। সে সাথে তারা বনাঞ্চল দখল করে বসতি স্থাপনের মাধ্যমে বসবাস করে যাচ্ছে। এর নেপথ্যে রোহিঙ্গাদের হাতকে শক্তিশালী করছে স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তিবর্র্গ। যাদের ক্ষমতার কাছে জিম্মি পুরো এলাকাবাসী।
এমনি একজন কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড মইশকুম এলাকার স্থানীয় এরশাদ উল্লাহ নামের ব্যক্তি মিয়ানমারের বিভিন্ন জনের সাথে গভীর সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে দি¦তীয় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এক রোহিঙ্গা নারীর সাথে। কয়েক মাস আগে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর আত্মীয় স্বজন মিয়ানমার থেকে এদেশে পালিয়ে আসলে তাদের আশ্রয় দেয়া হয় ইউনিয়নের মইশকুম এলাকায়। পাহাড়ী অঞ্চলে চৌচালা করে তাদের তৈরী করে দেয়া হয় মজবুত বাড়ি। শুধু তা নয়, বিদ্যুৎ থেকেও বঞ্চিত হয়নি এই রোহিঙ্গা পরিবার। ৩৬২২০১ নং সিরিয়ালের বৈদ্যুতিক মিটার স্থাপন করা হয় নবনির্মিত রোহিঙ্গা ঘরে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড মইশকুমের বিভিন্ন মহল্লায় নানা ভাবে আশ্রয় নিয়েছে রোহিঙ্গারা। এরা কাউয়ারখোপ বাজার সংলগ্ন যত্রতত্র এলাকায় অবস্থানরত আছে। এদিকে সচেতন লোকজন রোহিঙ্গাদের কারণে সামাজিক সংকটসহ অসমাজিক কার্যকলাপে জড়িত হওয়ার আশংকার কথাও প্রকাশ করেন। এসব রোহিঙ্গাদের অবস্থানের ফলে মাদকের ছড়াছড়ি, আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি হওয়ার শংকা ও প্রকাশ করেন এলাকার সাধারন লোকজন। গ্রামাঞ্চল কিংবা পাহাড়ী এলাকা থেকে এদেরকে সনাক্তকরণ পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবীতে পরিনত হয়েছে।
এদিকে পুরাতন রোহিঙ্গাদের মধ্যে মোহাম্মদের পরিবার ও সোলতান আহমদের পরিবার ১০ বছর আগে নানা কৌশলে ভোটার হলেও স্থানীয়দের নানা অভিযোগের কারণে গত একাদশ জাতীয় নির্বাচনের সময় তাদের ভোটার বাতিল করা হয়। এছাড়াও আনোয়ার মিস্ত্রী, আলমগীর, মনির আহমদ, হোছন আহমদ, পাতলী (ছদ্ম নাম), গুল চেহের, সৈয়দ হোছাইন, মাহবুব আলম, ফরিদুল আলম, জিয়াবুল হক, আব্দু রশিদ, জমির হোছাইনসহ বেশ কয়েকটি রোহিঙ্গা পরিবার ওই এলাকায় ঘরবাড়ি তৈরী করে বনাঞ্চল বা পাহাড় দখলে মেতে উঠছে। এরা গোপনে পাহাড়ী জায়গা দখল কিংবা স্থানীয় অনেকের কাছ থেকে নামমাত্র মূল্যক্রয় করে বসবাস করে চলছে হরদম। তাদের দেখানো পথ অনুসরণ করে নতুন আসা রোহিঙ্গারা সেখানে অবস্থান করছে। সম্প্রতি কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড মইশকুম পাশ্বর্বতী বিভিন্ন পর্বতের পাদদেশে বসতি গড়ে তুলে তারা।
তবে এক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের শক্তিশালী বসবাসের নেপথ্যে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা নুরুল হক চৌধুরী ও সমাজ সর্দার নুরুল আলম সওদাগর এর সংশ্লিষ্টতা আছে বলে অভিযোগ উঠে। রামু উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল হক চৌধুরী এবং স্থানীয় নুরুল আলম সওদাগরের শক্তি ব্যবহার করে শক্তিশালী হয়ে রোহিঙ্গারা দাপটের সাথে এলাকাবাসীর সাথে এমন অসুলভ আচরণ করছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। এমনকি নুরুল আলম সওদাগর সর্দারের দোহাই ও তার একক ক্ষমতাকে পুঁজি করে রোহিঙ্গাদের দিয়ে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগের শেষ নেই।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুরাতন রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন পাহাড়ে বা বনাঞ্চলে আশ্রয়ে থাকা রোহিঙ্গারা আতংকে পুরো মইশকুমবাসী। বর্তমানে এরা পাহাড়ের আনাচে কানাচে ঘুরে ফিরে বিভিন্ন পয়েন্টে ডাকাতি, ছিনতাইসহ দেশের নানা প্রান্ত থেকে বেড়াতে আসা পর্যটকদের জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নানা অপরাধ প্রবণতানর সাথে জড়িত তারা। আবার তারা গ্রামাঞ্চলের বাড়িঘরে অনেকটা ছড়িয়ে ছিড়িয়ে রয়েছে । যাদের কারনে স্থানীয়রা কোণঠাসা হয়ে পড়ছে বলে জানান এলাকার সুশীল সমাজ।

দেখা যায়, ওরা পাহাড়ী এলাকায় স্থান নিলেও দিন কিংবা রাতে মদ বহন ও নানা অপরাধ প্রবণতার মাধ্যমে পরিবার পরিজনের ভরন পোষন চালায়।
সমাজ সর্দার নুরুল আলম সওদাগর জানান, আমার সমাজে প্রায় ১৭০ ঘরের মধ্যে ১০-১৫ ঘর রোহিঙ্গা রয়েছে। তারা যেহেতু এখানে জায়গা কিনে বসতবাড়ি করছে সেহেতু তাদের বিরুদ্ধে আমরা অবস্থান নিতে পারবো না। তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে প্রশাসনকে।
তবে ঘুরে দেখা যায় আলম সওদাগরের দেয়া তথ্যের দ্বিগুণ রোহিঙ্গা ওই অঞ্চলে বসবাস করছে।
স্থানীয় আব্দুল জলিল জানান, পাহাড়ী এলাকাজুড়ে শক্তভাবে রোহিঙ্গাদের অবস্থান রয়েছে। ১৯৭৮ ও ১৯৯২ তে ওপার থেকে আসা রোহিঙ্গারা আসলে মইশকুম এলাকার আনাচে কানাচে প্রবেশ করছে কৌশলে। তাদের কারণে এলাকায় অসমাজিক কার্যকলাপ হচ্ছে।
ওপার থেকে আসা নর-নারীরা এখানে বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করেন স্থানীয় মানুষজন। তারা দেশীয়দের সাথে মিশে গিয়ে হরেক রকম কাজে কর্মে সুযোগ করে নিচ্ছে। তারা কৌশলে অবস্থান করে সুযোগ পেলে অপরাধ অপকর্ম সংগঠিত করে নিরবে পালিয়ে যাবে বলে মনে করেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের দাবী মইশকুমের পাহাড়ে বনাঞ্চল দখল করে বসতি স্থাপনকারী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা স্বরূপ অভিযান পরিচালনা করে তাদের ক্যাম্পে বিতাড়িত করতে হবে । অন্যথায় পাহাড় ও বনাঞ্চল রক্ষা করা কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে পড়বে।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.