মহেশখালীর মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

এম রমজান আলী, মহেশখালী

কক্সবাজারের মহেশখালী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে নিযুক্ত আন্তর্জাতিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পস্কোর কর্মকর্তা গুপ্তদাশের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ- চাকরির আড়ালে নিজস্ব লোকজনের নামে প্রতিষ্ঠান খুলে নিজেই ঠিকাদারি কাজ করা, এবং স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কমিশনের ভিত্তিতে কাজ দেয়া, যা সম্পুর্ন বেসরকারি চাকরির নিয়মবহির্ভূত। এতে শ্রমিক এবং পেশাজীবি ঠিকাদারদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তবে অভিযুক্ত গুপ্তদাশ তার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ অস্বীকার করছেন। উপজেলার বঙ্গোপসাগরের তীর ঘেঁষে মাতারবাড়ী ঘনবসতিপূর্ণ এ এলাকায় দুটি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প হচ্ছে। জাপানি সংস্থা জাইকার অর্থায়নে নির্মাণাধীন একটি প্রকল্পে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের মূল দায়িত্বে রয়েছে ১২টি আন্তর্জাতিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আর এসব প্রতিষ্ঠানের অধীনে কাজ করছে ৩০টিরও বেশি সাব-ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিক ও স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ, এই আন্তর্জাতিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পস্কোর বর্তমান এডমিন অফিসার গুপ্তদাশ কোম্পানীর অগোচরে দুর্নীতিতে জড়িত পড়েন । জানাযায়, বর্তমানে পস্কোতে কর্মরত এই কর্মকর্তা এর আগে আরেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পেন্টাওশানে চাকরি করতেন। পেন্টাওশানে চাকরীকালে অভিযুক্ত কর্মকর্তা গুপ্তদাশ চাকরীর পাশাপাশি একি সময়ে নিজে ঠিকাদারি ব্যবসা করে টাকার পাহাড় গড়ার বিষয়টি যখন খোলাসা হওয়ার পথে ঠিক তখনই নিজের বুদ্ধিমাত্রার পরিচয় দিয়ে নিজ থেকে চাকরি রিজেন্ট দিয়ে সম্প্রতি এডমিন অফিসার হিসাবে যোগ দেন একি প্রকল্পের পস্কো লিমিটেডে। স্থানীয়ের দাবি এই কর্মকর্তার বিষয়ে সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার নজর পড়লেই সব তথ্য বেরিয়ে আসবে। বর্তমানে পস্কো কোম্পানিতে কর্মরত এই কর্মকর্তা গড়ে তুলেছেন একটি অঘোষিত সিন্ডিকেট। নিজের লোকজনের নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খুলে বাগিয়ে নিচ্ছেন কাজ। ফলে চাকরীর পাশাপাশি গড়ে তুলছেন অটেল সম্পদ ও অগুনিত অর্থ যার কারনে স্থানীয় পেশাজীবি ঠিকাদাররা কোনো কাজ পাচ্ছেন না। প্রকল্পে নিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পাস্কোর এক নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানাযায় সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তার মাসিক স্যালারী ৩০ হাজার। স্বাভাবিকর্থে, মাসিক ৩০ হাজার টাকা পাওয়া একজন কর্মকর্তা চাইলে আলিশান জীবনযাপন করতে পারেনা। কিন্তু পস্কো লিমিটেডের এই কর্মকর্তা অল্প বেতনে চাকরি করে মাসের পর মাস দুইটি বাসা ভাড়া ও প্রাইভেট গাড়িভাড়ায় চড়ে আলিশান জীবন-যাপন করছেন। গণিত্যিক হিসেবে প্রতিমাসে ৩০ হাজার টাকা পাওয়া এই কর্মকর্তার ২টি ভাড়া বাসার মূল্য প্রায় ২৫ হাজার, প্রাইভেট গাড়ি ও ড্রাইভারের বেতনসহ ১৫ হাজার, এবং নিজের পকেট খরচ ১৫ হাজার যা সর্বমোটে গিয়ে দাড়ায় ৫০ হাজার। কিন্তু ৩০ হাজার টাকার বেতনে চাকরী করা এই কর্মকর্তা প্রতিমাসে ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করেন কিভাবে? যোগফল হিসেবে ধরা যায়, পাস্কোর এই কর্মকর্তা পূর্বের ন্যায় চাকরীর পাশাপাশি করছেন নিজের প্রতিষ্টানের নামে ব্যবসা, তবে একজন চাকুরীজীবি চাকুরীর পাশাপাশি একি সময়ে ব্যবসা করার ব্যাপারটি কতটুকু বেসরকারি চাকরি বিধিমালার নিয়মে পড়ে এমনি প্রশ্ন তুলেন স্থানীয়রা। পস্কো কোম্পানীর নবাগত এডমিন অফিসার গুপ্ত দাশ মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে পেন্টাওশান কোম্পানীতে এডমিন অফিসার হিসাবে তিনি দীর্ঘ দিন চাকরিকালে ঠিকাদারী ব্যবসাসহ বিভিন্ন দুর্নীতি কর্মকান্ড জড়িয়ে পড়েন। স্থানীয়রা বলছেন তৎকালীন সময়ে পেন্টাওশানের এডমিন অফিসার শাহরিয়াকে তার ফাতানো ফাঁদে ফেলে ইয়াবাসহ পুলিশকে তথ্য দিয়ে শাহরিয়ারকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছিলো। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত গুপ্ত দাশ বলেন, আমার বিরোদ্ধে আনীত অভিযোগ সঠিক নয়।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.