বিএনপি থেকে কেন বাদ গেলেন কুমিল্লার মেয়র সাক্কু?

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যখন একের পর এক মেয়র পদে পরাজিত হচ্ছিলেন বিএনপির প্রার্থীরা তখন কুমিল্লার মেয়র নির্বাচিত হন মনিরুল হক সাক্কু। ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। সেই সাক্কুকে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে কুমিল্লাজুড়ে চলছে আলোচনার ঝড়।

সোমবার এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাক্কুর পদ হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত করলেও কেন এই সিদ্ধান্ত তা স্পষ্ট করেননি।

তবে দলীয় সূত্র বলছে, দলীয় কর্মসূচিতে নিষ্ক্রিয়তা মেয়র সাক্কুর পদ হারানোর অন্যতম কারণ। বিশেষ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ না নেওয়ার কারণে দলের হাইকমান্ড চটেছে তার ওপর। এর আগে যারা অনুপস্থিত ছিলেন তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, সাক্কুও সেই চিঠি পেয়ে কেন্দ্রকে জবাব দিয়েছেন। তাতে কেন্দ্র সন্তুষ্ট হতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত এই জনপ্রতিনিধিকে হারাতে হলো দলের কেন্দ্রীয় পদ।

তবে বিষয়টি নিয়ে তেমন প্রতিক্রিয়া নেই কুমিল্লার মেয়রের। দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ সন্তোষজনক না হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে দল থেকে ইতিপূর্বে চিঠি পেয়েছিলেন বলে সাক্কু জানিয়েছেন। যদিও তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে কি না, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।

বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, দলের কর্মকৌশল ঠিক করতে জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে গত ২১, ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর মতবিনিময় সভা করে বিএনপি। সে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয় কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদেরও। এর মধ্যে ২২ সেপ্টেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে কুমিল্লা বিভাগের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অনুপস্থিত ছিলেন সাক্কু। এই অনুপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করার জন্য সাক্কুকে চিঠি দেয় কেন্দ্র।

দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্কুর কোনো যোগাযোগ নেই এবং অধিকাংশ দলীয় কর্মকাণ্ডে তিনি অংশ নেন না বলে বিএনপি কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে জানা গেছে।

চিঠিতে নির্বাহী কমিটির সভায় না যাওয়ার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল জানিয়ে সাক্কু সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি উত্তর দিয়েছিলাম, সেদিন আমেরিকান রাষ্ট্রদূতের সাথে আমার বৈঠক ছিল। যেদিন বৈঠক তার দুই দিন আগে ঢাকা থেকে চিঠি আসছে মিটিংয়ের। সে জন্য আমি যেতে পারিনি।’

বিএনপি থেকে মেয়র হয়ে আলোচিত সাক্কু বলেন, ‘আমি ৪০ বছর বিএনপি করি। এটি তারেক রহমান সাহেবের ব্যাপার। পার্টির সিদ্ধান্তের ব্যাপার। তারা যা খুশি তা করুক। আমি আমার মতো চলতাছি।’

মনিরুল হক সাক্কু ১৯৯৩ সালে কুমিল্লা জেলা যুবদলের সভাপতি হন। ওই পদে তিনি ২০১০ পর্যন্ত বহাল ছিলেন। ২০০৩ সালে তিনি জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হন। ২০০৫ সালের উপনির্বাচনে তিনি কুমিল্লার পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালের ১৬ নভেম্বর তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে পৌর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান।

২০১২ সালে কুমিল্লার প্রথম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সাক্কু মেয়র নির্বাচিত হন। ২০১৭ সালে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.