ডেস্ক নিউজ
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হচ্ছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পক্ষ থেকে সোমবার এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আগামী ১০ জানুয়ারির মধ্যে তালিকাভুক্তির বিষয় নিয়ে ডিএসইসি এবং সিএসইসিকে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব বিএসইসিতে জমা দিতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কমিশনার অধ্যাপক ড. শামসুদ্দিন আহমেদ।
বৈঠকের বিষয়ে ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, ডিএসইর অনেকগুলো বিষয় নিয়ে কমিশনের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম ছিলো ডিমিউচ্যুয়ালাইজড স্টক এক্সচেঞ্জের (মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনা আলাদা করা) কাজের অগ্রগতি, ডিএসইর প্রশাসনিক রেগুলেশেন বাস্তবায়নের কী অবস্থা।
এক প্রশ্নের জবাবে সাইফুর রহমান বলেন, গত অক্টোবর মাসে ডিএসইর পর্ষদ সভায় ডিএসইকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এরপর বিষয়টি বিএসইসিকে একটি পত্রের মাধ্যমে অবহিত করা হয়। সেই বিষয়ে একটি সুনিদৃষ্ট প্রস্তাব বিএসইসিতে জমা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা পর্ষদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারিত সময়ে বিএসইসিতে প্রস্তাবনা জমা দিবো।
এ বিষয়ে বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক ড. শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনা আলাদা করার আইনের একটি বিষয় ছিলো ৬০ শতাংশ শেয়ার বাহিরে ছেড়ে দিতে হবে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ শেয়ার ইতোমধ্যে কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। বাকি ৩৫ শতাংশ শেয়ার এখনো ডিএসইর কাছে আছে। এই শেয়ারগুলো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা। সেই বিষয়ে ডিএসইসি এবং সিএসইসিকে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব আগামী ১০ জানুয়ারির মধ্যে বিএশসইসিতে জমা দিতে বলা হয়েছে।
কমিশনার অধ্যাপক ড. শামসুদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে বিএসইসিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মো. সাইফুর রহমান, ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুর রহমান মজুমদার, কোম্পানি সচিব আসাদুর রহমান, সিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. গোলাম ফারুকসহ তিন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
২০১০ সালে পুঁজিবাজারে ধ্বস হওয়ায় সরকার একটি তদন্ত কমিটি করে। ওই কমিটি তার প্রতিবেদনে দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে ডিমিউচ্যুয়ালাইজড স্টক এক্সচেঞ্জের (মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনা আলাদা) করার বিষয়ে তাগিদ দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ এবং কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের কাছে মালিকানা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। সেই লক্ষ্যে ২০১৩ সালে ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন আইন করা হয়। আইনে শতভাগ মালিকানা থেকে ডিএসই’র বর্তমান সদস্যদের মালিকানা রাখা হয় ৪০ শতাংশ। বাকি ৬০ শতাংশের মধ্যে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার বা কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয় ২৫ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য রাখা হয় ৩৫ শতাংশ শেয়ার।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.