নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বনবিভাগের জমি জবরদখলকারীদের হাতে লাঞ্ছিত হওয়া ফুলছড়ি বিট কর্মকর্তা ফারুক আহমদ বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় গত রবিবার (৪ এপ্রিল) এজাহার দায়ের করেছে।ফুলছড়ি বনবিটের স্মারক নং ১৯ /ফুল-বি ১৫ মুলে চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর এই এজাহার দাখিল করেন। এজাহারে ৪জনের নাম এসেছে তারা হলেন, ইসলামপুর ইউনিয়নের উত্তর নাপিতখালী এলাকার ইউসুফ মেম্বার এর পুত্র নুরুল আবছার (৩৬)মৃত মোক্তার আহমদ এর পুত্র নুরুল আবছার কামাল শাহিন(৩৬), ইউসুফ মেম্বার এর পুত্রএহসানুল হক (৩৪) ও মৃত ইউসুফ আলীর পুত্র মোঃ ইউনুছসহ আরো ১০ থেকে ১২জনকে অজ্ঞাতনামা উল্লেখ করে এজাহার জমা দিয়েছে।
এজাহারে বলা হয়েছে বিট কর্মকর্তা ফারুক আহমদ নিয়মিত টহলের অংশ হিসাবেসহকর্মীদেও নিয়ে গত ২ এপ্রিল বিকাল ৪টা ৩০মিনিটের সময় ফুলছড়ি বিটের সংরক্ষিত বনের আর এস দাগ ২৫১২ বিএস ৫১৪৪ দাগে ২০১৮- ২০১৯ সালের সৃজিত ২য় আবর্তের ১০ হেক্টর সামাজিক বনায়নে টহল দিতে গেলে নুরুল আবছারসহ অন্যান্যরা বিট কর্মর্তাকে লাঞ্চিত করে।
বিট কর্মকর্তা ফারুক আহমদ বাবুল জানান, প্রতিদিনের মতো আমি আমার সহকর্মীদের নিয়ে ফুলছড়ি বিটের অধীনে জুমনগর এলাকায় ২০১৮ ২০১৯ সালের ২য় আবর্তে সৃজিত বনবিভাগের সামাজিক বনায়নে টহল দিতে গেলে মৃত ইউসুফ আলী মেম্বার এর ছেলে নুরুল আবছার, তার ভাই এহসান, ও তার সাথে থাকা আরো কয়েকজন মিলে আমাকে প্রায় আধা ঘন্টা আবদ্ধ করে রাখে এবং আমাকে মেয়ে দিয়ে লাঞ্ছিত করা হয়েছে।নুরুল আবছার আমার শার্টের কলার ধরে বলে তুই যেমন সরকারি লোক আমিও তেমন সরকারি লোক।
আরেকবার এখানে আসলে প্রান নিয়ে ফিরতে দিবনা। তাই আমি প্রানের ভয়ে থানায় এজাহার করতে বাধ্য হয়েছি। আশা করছি বনবিভাগ ও চকারয়া থানা একা বিহীত ব্যবস্থা গ্রহন করবে।
এদিকে গত ২৯ মার্চ ফুলছড়ি রেঞ্জ এর অধীনে জুমনগর এলাকায় বনবিভাগ ও চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করে।সেদিন প্রায় ছোটবড় ৫০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। যার অধিকাংশ জমি নুরুল আবছার ও এহসানসহ একটি সিন্ডিকেট দখল করে আছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা বলছে, এই নুরুল আবছার একজন বনখেকো। তার বিরোদ্ধে কেউ মুখ খুলতে পারেনা।
তার রয়েছে বিরাট একটি সন্ত্রাসী দল। তাদের সাথে নিয়ে নুরুল আবছার ও তার ভাই এহসান বনবিভাগের জমি জবরদখল করে আসছে। এবং তা চড়া মুল্যে বিক্রি করছে। সম্প্রতি বনবিভাগ ৫একর জমি উদ্ধার করা হয়। এরপর থেকে নুরুল আবছার ও তার বাহিনী বনবিভাগের কর্মকর্তাদের এইভাবে লাঞ্ছিত করা শুরু করেছে।এর আগে মহেশখালীতে দায়িত্ব পালন কালিন সহকারি বন কর্মকর্তা ইউসুফ উদ্দিন বনখেকোদের হাতে নিহত হন।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.