পেকুয়া সংবাদদাতাঃ
কক্সবাজারের পেকুয়ায় প্রত্যন্ত জনপদের বিভিন্ন স্পটে চলছে প্রকাশ্যে মাদক ও জুয়ার জমজমাট আসর। ফলে সমাজে নানা ধরনের অপরাধ ও অনৈতিকতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। যা নিয়ে এলাকাবাসী রয়েছেন মহা দূ:শ্চিন্তায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় অর্ধ শতাধিক স্পটে নির্বিঘ্নে এ অবৈধ ব্যবসা নিত্য পণ্যের মতই চালিয়ে আসছে মাদক ও জুয়া বাণিজ্য সিন্ডিকেট। আর তার সাথে জড়িত রয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল গুটিকয়েক অসাধু ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও সমাজের গণ্যমান্য হিসাবে পরিচিত লোকজনও।
এতে করে সমাজ বোদ্ধা ও সূশীল সমাজের মন্তব্য পেকুয়ার রাজাখালী এখন মাদকের জোয়ারে ভাসছে। কিন্তু নির্বিঘ্নে মাদক ও জুয়ার আসর বাণিজ্য চললেও মাঝে মধ্যে দু’য়েকজন সেবীদের গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠালেও বার বার ধরা ছোয়াঁ বা নাগালের বাইরে থেকে যাচ্ছেন এ অবৈধ ব্যবসা সংশ্লিষ্ট রাঘব বোয়ালরা। যার জের ধরে দিন দিন এসব মরণ নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে এলাকার উঠতি বয়সী যুবক, মধ্য বয়সি ছেলে পাশাপাশি মেয়েরাও।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশকজন মাদকসেবীদের সাথে আলাপ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, অনেক গৃহবধু, হাই সোসাইটি পরিবারের মেয়েদের মধ্যেও মাদক সেবন ও পাচারের প্রবণতা দিন দিন আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার প্রেক্ষিতে রেহায় পাচ্ছেনা এলাকার স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা পড়–য়া শির্ক্ষাথীরাও। অথচ প্রশাসন যেন মাদক ও জুয়া বাণিজ্য বন্ধে রহস্যজনক ভাবে নিরব বা নির্বিকার। আবার অনেকেরই খোলামেলা মন্তব্য নিয়মিত দিনোহারা বা মাসোহারার বিনিময়েই চলছে এই মরণ নেশার অবৈধ ব্যবসা।
সচেতন লোকজনের মন্তব্য প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও থানা পুলিশ একটু দায়িত্বশীল ও আন্তরিক হলে এই অবৈধ ব্যবসা আর তার বিস্তার রোধ করা অবশ্যই সম্ভব। জেলা কক্সবাজারের অন্যতম উপজেলার নাম পেকুয়া।
৭ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত দেশের অন্যতম মডেল উপজেলা পেকুয়ার রাজাখালীতে মাদক ও জুয়া বানিজ্যের ভয়ংকর বিস্তারে সচেতন মহল ও সাধারণ মানূষ বিষ্মিত ও উদ্বীগ্ন হলেও তা বন্ধে যেন কারোই গরজ নেই। প্রতিবেশী দেশ মায়ানমার থেকে চোরাই পথে প্রতিদিন অবৈধ ভাবে প্রবেশ করছে নানা ধরনের নেশাজাত পণ্য। বিভিন্ন ব্রান্ডের ইয়াবা, হিরোইন, গাজাঁ, কোকেন, ফেনসিডিল, বিয়ারসহ অন্যান্য প্রায় সব নেশাজাত দ্রব্য।
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, এখন রাজাখালী ভাসছে মাদকের জোয়ারে। এছাড়া ওই ইউনিয়নের প্রায় ১৫/২০ স্থানে প্রতিদিনেই বসছে অবৈধ জুয়ার আসর।
থানা পুলিশ বিভিন্ন সময় কিছু লোক দেখানো অভিযান চালিয়ে শুধুমাত্র মাদকসেবনকারী ও চুনোপুটি জুয়ারীদের গ্রেফতার করে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জেল জরিমানা করে আসলেও আসল রাঘব বোয়ালরা বরাবরই থেকে যায় ধরা ছোয়াঁর বাইরে।
সচেতন মহল জানান, মাদক ব্যবসায়ীরা স্থানীয় প্রশাসন ও থানা-পুলিশ ছাড়াও জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন পেশার নীতি নির্ধারকদের নিয়মিত গিফট ও মাসোহারা দিয়েই তারা নির্বিঘেœ এ ব্যবসা চালায়।
বিশেষ করে রাজাখালী ইউনিয়নের মাতবর পাড়া, সিকদার পাড়া, নতুন পাড়া, সুন্দরীপাড়া, চড়িপাড়া, বদিউদ্দিনপাড়া, লালজান পাড়া, বামলুপাড়াসহ আরো বেশ কিছু এলাকায় নিরবে নিবৃত্তে চলছে বিভিন্ন ধরনের মাদক ব্যবসা। এসব নেশাজাত দ্রব্যগুলোর অবাধ বিচরন এখন ভয়ংকর ভাবে পাল্লাদিয়ে বাড়ছে। রাজাখালী ইউনিয়নের অঁজপাড়া গাঁয়েও প্রকাশ্যে তার বিস্তার ঘটবে তা কোনদিনই কেউ ভাবতে পারেনি।
যার সুবাধে মাদক চোরাচালানের যেন নিরাপদ ট্রানজিটে পরিনত হয়েছে রাজাখালী ইউনিয়ন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, যার একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার ঘটাছে নিরব একটি সিন্ডিকেট। এদর মধ্যে রাজাখালী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের আবুল কাশেমের ছেলে রেজাউল করিম, মুন্সি মিয়ার ছেলে নুর আলম ও আনচার, আবুল কাশেমের ছেলে দিদার, ২নং ওয়ার্ড মাতবর পাড়ার এলাকার ওবায়দুল করিমের ছেলে মিনার প্রকাশ মিন্ন্যা, আহমদ মিয়ার ছেলে তৌহিদুল ইসলাম, নুরজ্জামানের ছেলে মোঃ ইদ্রিস, রাজা মিয়ার ছেলে কপিল উদ্দিনসহ আরও অনেকে।
অন্যদিকে তার সাথে পাল্লা দিয়ে এসব এলাকায় প্রকাশ্যে জুয়ার আসরও বসছে। বেলা শেষে নেমে জুয়ার আসর। চায়ের দোকান কিংবা স্টেশন সমূহে রাত জেগে চলে জুয়া। আবার কোথাও কোথাও চলে পতিতা ব্যবসাও। কোন কোন স্পটে মাদকের বেচাকেনা ও জুয়ার আসর বসে তা থানা পুলিশ ও প্রশাসন ছাড়াও সকলেই জানে। তাদের অজ্ঞতার বাইরে অবস্থান নিয়ে কোন ধরনের অপরাধ সংশ্লিষ্টরাই পার পাওয়ার কোন সূযোগ নেই। যদিও রহস্যজনক কারণে তারা এসব বন্ধে স্থায়ী কোন পদক্ষেপ নিশ্চিত করছেনা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মুজিবুর রহমান মতে- ভবিষ্যৎ জাতি গঠনে যুবকরাই সহায়ক শক্তি হিসাবে গণ্য হলেও মাদক ও জুয়ার নেশায় তাদের সর্বনাশ হতে দেওয়া উচিৎ নয়। কারণ নেশাই তাদের জিবনকে অন্ধকার ও ধ্বংশের পথে নিয়ে যাচ্ছে নিরবে নিবৃত্তে। তাছাড়া, অতিরিক্ত নেশা সেবন মানব দেহের জন্য ক্ষতি। যা থেকে মৃত্যু অনিবার্য ও অবধারিত।
পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুর রহমান মজুমদার জানান, তিনি থানায় যোগদান করেই শুধু মাদক ও জুয়ার ব্যবসা, পতিতা বৃত্তি নয় সব ধরনের অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের গ্রেফতার করে আইন ও বিচারের হাতে সপুর্দ ব্যবস্থা জোরদারের জন্য থানার সকল অফিসার ও ফোর্সদের নির্দেশ দেওয়া আছে। এ সব অপরাধ মূলক কাজে জড়িত কাউকে কোন ধরনের ছাড় দেওয়া হবেনা। চিহ্নত বেশ কিছু স্থানে নজরদারী জোরদার করা হয়েছে। অচিরেই এসব কাজে জড়িতদের গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হবে

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.