নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারীতে ভিজিডির ১৫ বস্তা চাল বিক্রি নিয়ে লংকাকান্ড

মাঈনুদ্দিন খালেদ,নাইক্ষ্যংছড়ি

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারীতে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ভিজিডির ১০ বস্তা চাল কিনে বিপাকে পড়েছে কালু নামের আরেক হতদরিদ্র। আর লংকাকান্ড ঘটে পুরো জেলায়। কেননা এ নিয়ে রাজনৈতিক খেলা শুরু হলেও তৎক্ষণাৎ যাচাই-বাচাই করে সারশূন্য ঘটনার কারণে লঘু দন্ডে পার পেয়ে গেলো ঘটনায় অভিযুক্ত কালু মিয়া। অথচ এর আগে এ চাল নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য শুরু হয়,এ ঘটনায় চেয়ারম্যান-মেম্বাররা জড়িত ছিলো। তারা আটক হবে,জেলে যাবে বলে।

বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনর্চাজ লিয়াকত আলী জানান,ইউপি মেম্বার নুরুল আজিমের সংবাদের ভিত্তিতে

তারা বাইশারী বাজার থেকে ১৫ বস্তা ভিজিডি চাল জব্দ করে। সাথে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে চাল ক্রেতা কালু হাজি নামের এক শ্রমিককে আটক করা হয় তখন। তিনি আরো জানান,কালু পেশায় শ্রমিক।

সংসার চালাতে নানা পেশায় জড়িয়ে পড়ে সে। আজ ১৫ জুন বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদ হতদরিদ্র উপকারভোগীকে ভিজিডি চাল বিতরণ করার পর উপকারভোগীরা নিজ নিজ

প্রয়োজনে স্থানীয় বাজারে তাদের ১০ জন পৃথক পৃথকভাবে এ চাল বিক্রি করে দিলে কালু মিয়া এ গুলো ক্রয় করে বিক্রির জন্যে হলদিয়া শিয়ায় নিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় গাড়ি না পেয়ে আরো ৫ উপকারভোগী কালুর গাড়িতে তাদের চালের বস্তা তুলে দেন। এভাবে মোট মিলে চালের বস্তা দাড়ায় ১৫ তে। অথচ বিষয়টি এর আগে ভিন্নভাবে সওর হয়ে যায় সমগ্র এলাকায়।

তিনি আরো বলেন, অবশ্য তিনি নির্দেশ পেয়ে উপজেলা নিবার্হী অফিসারের কাছে পাঠিয়ে দেন কালু মিয়াকে।

বাইশারীর ইউপি চেয়ারম্যান মো: আলম বলেন,সোমবার সকালে তার ইউনিয়নে ৬৬০ জন উপকারভোগীর মাঝে চাল বিতরন করেন পরিষদবর্গ। কিন্ত উপকারভোগীরা পরিষদ থেকে চাল নিয়ে গিয়ে পথিমধ্যে কতিপয় উপকারভোগী ১০ বস্তা চাল বিক্রী করে দেন। আর ক্রেতা কালু মিয়া তা বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলেন, জেনে ইউপি মেম্বার নূরুল আজিম দ্রূত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে বারণ করে।

পরে সত্যতা যাচাই এর জন্যে এ চাল সহ কালুকে পুলিশে সোপর্দ করেন জনতা। পুলিশ ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়ে ঘটনার মূল বের করেন। পরে আটক কালুকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে নিয়ে গেলে তিনি তাকে সরকারি চাল ক্রয় করার অপরাধে লঘু দন্ড দেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া আফরিন কচি জানান, বিষয়টি যাচাই-বাচাই করে দেখা গেছে উপকারভোগীরাই ভিজিডির চাল গুলো শ্রমিক কালু মিয়াকে বিক্রি করে। এখানে মেম্বার চেয়ারম্যানরা জড়িত আছে এমন কোন তথ্য পাওয়া যায় নাই। এজন্য চাল ক্রেতা কালু মিয়ার কাছ থেকে মুছলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।তবে সে ১৫ বস্তা চাল জব্দ করা হয়। আর এসব উপকারভোগীদের তালিকা করে তাদের চিহ্নিত করতে নির্দেশ দেয়া হয় বাইশারী চেয়ারম্যানকে।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.