চট্টগ্রামে গৃহকর্মী কিশোরীর রহস্যজনক মৃত্
চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালী থানাধীন নন্দনকানন এলাকায় চাঁদমনি ওরফে ইয়াছমিন (১৫) নামে গৃহকর্মী কিশোরীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নন্দনকানন এ কে ম্যানসনের ৮ম তলায় ব্যবসায়ী জাফর আহমেদের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করত চাঁদমনি। একই ভবনের নবম তলায় গোলাম সরোয়ার এর বাসায় কাজ করত ওর অপর দু বোন জোৎসনা মনি ও সুর্য্য মনি। গত পাঁচ বছর ধরে এ বাসায় চাঁদ মনি কাজ করে আসছিল। কিন্তু দরিদ্রতা আর মুখোশ্রী দুটোই কাল হলো ইয়াছমিনের জীবনে। ব্যবসায়ী গৃহকর্তা পরিবারের দাবী তাদের ড্রাইভার সাহেদের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে ইয়াছমিনের। বৃহস্পতিবার বিকালে ভবনের ছাদের উপরে দুজনে কথা বলতে দেখে জাফর আহমেদ তাদেরকে বকাবকি করেন। এরপর ইয়াছমিনের বোন বিষয়টি নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলে দুই বোনকে বলে তোদেরকে মজা দেখাবো। তিনি বলেন, বকাঝকা করায় ভবনের উপর থেকে লাফিয়ে পড়ে ইয়াছমিন আত্মহত্যা করেছে। তবে এক কথা মানতে নারাজ তার তার পরিবার। এ বিষয়ে ইয়াছমিনের মা শাফিয়া বেগম বলেন, জাফর আহমদের শ্যালিকা মুক্তা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফোন করে বলেন যে আমার ইয়াছমিনকে পাওয়া যাচ্ছেনা। পরে রাতে ফোন করে বলেন, ইয়াছমিন আত্মহত্যা করেছে। তিনি বলেন আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারেনা। তার মৃত্যু নিয়ে রহস্য রয়েছে। শাফিয়া বেগম বলেন, তাকে মেরে লাশ উপর থেকে ফেলে দিয়ে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করছে। বৃহস্পতিবার তারা ইয়াছমিনকে মারধর করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগ উঠেছে মাত্র ২৫ হাজার টাকায় দফারফা করে এ মৃত্যুর রহস্য উদঘটনা চাপা দেয়া হয়েছে। মামলা না করতে হুমকি-ধমকি দিয়ে সাদা কাগজে সাক্ষর নিয়ে ২৫ হাজার টাকা দিয়ে মরদেহসহ ইয়াছমিনের মা বাবাকে বুঝিয়ে দেয়া হয়। নিহত কিশোরী ইয়াছমিনের গ্রামের বাড়ী কক্সবাজার চকরিয়া থানার খুটাখালী গ্রামে। বাবার নাম নূর আহমদ। এ ব্যাপারে কোতোয়ালী থানার ওসি মো. মহসিন বলেন, ইয়াছমিন নামে এক গৃহকর্মীর মরদেহ উদ্ধার করার পর একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো জানায়, ঐদিন গভীর রাতে একে ম্যানসন এবং পাশের ভবন কাদের টাওয়ারের মাঝামাঝি করিডোর গলি থেকে উপর হয়ে পড়ে থাকাবস্থায় ইয়াছমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের সুরতহালকারী কোতোয়ালী থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক রুহুল আমিন বলেন, মরদেহের দুই পা এবং একহাত, পাজরের হাড় ভাঙ্গা ছিল। মাথার এক পাশ ফেটে মগজ বের হয়ে যায়। চোখের উপরেও আঘাতের চিহ্ন। তিনি বলেন, কিভাবে তার মৃত্যু হয়েছে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে তা বলা যাবে। তবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা এ নিয়ে স্পষ্ট কোন মন্তব্য করেননি তিনি। ইয়াছমিন আত্মহত্যা করেছে বলে জোর দাবী করছেন জাফর আহমেদের পরিবারের লোকজন। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে উক্ত ভবনের একটি সুত্র জানান, মেয়েটিকে বেদম মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লে কৌশলে তাকে ভবনের উপর থেকে ফেলে দিয়ে আত্মহত্যা বলে প্রচার করা হয়। এদিকে নিজের মেয়েকে হারিয়ে শোকের মাতম চলছে ইয়াছমিনের পরিবারে। শোকে স্তব্ধ পুরো পরিবার। পরিবারের সবাই এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত দাবী করেন।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.