চকরিয়া  উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে কৈয়ারবিলে বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ।

 

 

মোঃ নাজমুল সাঈদ সোহেল  (চকরিয়া) প্রতিনিধি। 

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের বন্যাদুর্গত তিনশত পরিবারের মাঝে দ্বিতীয় দিনের মতো সরকারি বরাদ্দ এবং ব্যক্তিগত তহবিলের পক্ষ থেকে ত্রাণের চাউল বিতরণ করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ জাফর আলম এম এ। গতকাল বৃহস্পতিবার ২৭জুলাই সকালে স্থানীয় কৈয়ারবিল ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন।

এসময় ইউপি চেয়ারম্যান মক্কী ইকবাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সুধী সমাবেশে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম,  চকরিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম আজাদ, উপজেলা পরিষদের নারী ভাইস চেয়ারম্যান শাফিয়া বেগম শম্পা, কৈয়ারবিল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমদ চৌধুরী, ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা এনামুল হক, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান হানু। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মোজাহের আহমদ, সাহাব উদ্দিন, রুপন দাশ, জহিরুল ইসলাম, আবুল কালাম, রশিদ আহমদ, আবু ইউছুপ, মহিলা মেম্বার তাছলিম জাহান, রুখসানা পারভীন, শিরিন ফরহাদ, আলমগীর, সচিব মন্টু কুমার বড়ুয়া প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ জাফর আলম বলেন, বিএনপির নেতারা চকরিয়া উপজেলার জনগনের ভোট নিয়ে অতীতে ক্ষমতার স্বাদ নিয়েছে। ভোটের সময় আসলে জনগনের সামনে তাদের দেখা মেলে। কিন্তু জনগন যখনই বন্যা, ঘুর্ণিঝড়সহ কোন বিপদে পড়ে তখন আর তাদের দেখা পাওয়া যায়না। তিনি বলেন, দেশরত্ম শেখ হাসিনার আওয়ামীলীগ সরকার এই ক্ষেত্রে অন্য সরকারের তুলনায় ব্যতিক্রম। আওয়ামীলীগ জনগনের ভাগ্য উন্নয়নে বিশ^াসী। সেইজন্য রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশরত্ম শেখ হাসিনা সরকার বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে। তাই সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়ন সাফল্য অব্যাহত রাখতে হলে আগামীতে চকরিয়া-পেকুয়া আসনে নৌকা প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম আরো বলেন, ইতোমধ্যে কয়েকদফা বন্যায় চকরিয়া উপজেলায় ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে। জনগনও ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন। জনগন এখন ত্রান চায়না, তাদের দাবি ক্ষতিগ্রস্থ সড়ক, বেড়িবাঁধ ও গ্রামীন অবকাঠামো মেরামত করা হউক। জনগনের দাবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সার্বিক সহযোগিতায় আগামী ৩ মাসের মধ্যে চকরিয়ায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সকল সড়ক মেরামত করা হবে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আরো বলেন,  দেশরত্ম শেখ হাসিনা সরকার” কথায় নয় -কাজেই বিশ্বাসী”। তাঁর প্রমাণ চকরিয়া-পেকুয়া জনপদের মানুষ ইতোমধ্যে উন্নয়নের মাধ্যমে পেয়েছে। আমি সবসময় এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে পছন্দ করি। মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে যেমন আওয়ামীলীগ সরকার বদ্ধপরিকর, ঠিক তেমনি আমিও মানুষের পাশে থাকাতে নিজেকে নিয়োজিত  রাখার চেষ্টা করি। এ কারনে সরকার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের জন্য এক মেট্রিক টন চাউল বরাদ্দ দিলেও আমি নিজের টাকায় আরো দুই মেট্রিক টন চাউল দিয়েছি বন্যাদুর্গতদের জন্য।

এবিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মক্কী ইকবাল হোসেন বলেন, সরকারি বরাদ্দের এক মেট্রিকটন ও উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলমের ব্যক্তিগত অনুদানে আরো দুই মেট্রিকটনসহ ইউনিয়নের জন্য মোট তিন মেট্রিক টন চাউল দেয়া হয়। এসব চাউল ইউনিয়নের বন্যাদুর্গত তিনশত পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

চকরিয়া উপজেলায় ইতোমধ্যে তিনবার বন্যা হয়েছে। এতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমি কথা দিতে চাই আগামী তিনমাসের মধ্যে উপজেলার ক্ষতিগ্রস্থ সকল সড়ক-উপ-সড়ক মেরামত করা দেয়া হবে। সরকারের সব মন্ত্রানালয়ের সাথে বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে। আশাকরি সহসা সময়ে চকরিয়া উপজেলা আগের অবস্থানে ফিরে আসবে।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.