চকরিয়ায় পাহাড়-টিলা কেটে মাটি লুট: দুইটি ডাম্পার গাড়ি জব্দ: দুই শ্রমিকের কারাদণ্ড

এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া:
চকরিয়া উপজেলার বেশ কটি ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে পাহাড়-টিলা এবং আবাদি জমি কেটে মাটি লুটের মচ্ছব চলছে। উন্নয়নকাজের নাম ভাঙ্গিয়ে সরকার দলীয় লোকজন দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ বিধ্বংসী এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছেন। এই অবস্থার কারণে চরম পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরী হয়েছে উপজেলাজুড়ে। আশার কথা হলো: অবশেষে পাহাড়-টিলা কেটে মাটি লুটের বিরুদ্ধে আবারও অভিযানে নেমেছে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত।

বৃহস্পতিবার সকালে ডুলাহাজারা ইউনিয়নের রংমহল এলাকায় সহকারি কমিশনার (ভুমি) মো.তানভীর হোসেনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দুইজন শ্রমিককে আটক করেছে। একইসঙ্গে জব্দ করা হয়েছে অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি ডাম্পার গাড়ি। অভিযানকালে আদালতের সাথে ছিলেন চকরিয়া থানার এসআই মাইন উদ্দিন তালুকদার এবং সঙ্গীয় পুলিশ, ভূমি অফিসের একাধিক কর্মচারী এবং শ্রমিক।

অভিযানের সময় আদালত পুড়িয়ে এবং ভেঙে নষ্ট করা হয়েছে ভূ-গর্ভ থেকে বালু তুলতে বিভিন্নস্থানে বসানো সাতটি শক্তিশালী ড্রেজার (শ্যালোমেশিন) এবং কয়েকশত ফুট পাইপ। ঘটনাস্থল থেকে আটক দুইজনকে একমাস করে কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত শ্রমিকরা হলেন উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রংমহল গ্রামের জসীম উদ্দিনের ছেলে মো. সাইদুল ইসলাম (২৪) ও চকরিয়া পৌরসভার ভাঙারমুখের সাহাব উদ্দিনের ছেলে মো. আলমগীর (৩০)।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও চকরিয়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) মো. তানভীর হোসেন বলেন, অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আটক এবং পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি ডাম্পার গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। আইনে বলা আছে, আদালতের অভিযানের সময় যাকে স্পটে পাওয়া যাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। তাই স্পটে যাদেরকে পাওয়া গেছে তাদেরকে আটক করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এইধরণের পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যারাই যেখানে জড়িত থাকুক, তাদেরকে শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা করবে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, উপজেলার কোন পয়েন্টে কাউকে পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড চালাতে দেওয়া হবে না। পাহাড় কাটা থেকে শুরু করে অবৈধ বালু-মাটি উত্তোলন বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ইতোমধ্যে পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডে জড়িত সবার বিরুদ্ধে মামলা দিতে পরিবেশ অধিদপ্তরকে বলা হয়েছে।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.