এম.মনছুর আলম,চকরিয়া :
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী তথা মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগ এর অবদানে সারাদেশে ভূমিহীন পরিবারের জন্য গৃহ নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত অগ্রাধিকার প্রকল্প ঘোষণা বাস্তবায়নে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ১৮ইউনিয়নে খাস জমি বন্দোবস্ত পূর্বক আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধিনে ভূমিহীন উপকারভোগী পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে দেয়া হয়েছে পাকা ঘর।
শনিবার (২৩ জানুয়ারী) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যম সারাদেশে একযোগে এসব ঘর আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন কার্যক্রমেরর মাধ্যমে হস্তান্তর করেছে।
এরই আলোকে চকরিয়া উপজেলা পরিষদ হলরুম “মোহনা” মিলয়নায়তনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজের সভাপতিত্বে ঘরের চাবি ও দলিল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলম।
এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন, চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী, ভাইস চেয়ারম্যান মকছুদুল হক ছুট্টু, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানভীর হোসেন, চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের, চকরিয়া পৌরসভা
আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটু। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, ১৮ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাংবাদিকসহ বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
জানাগেছে , প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্প, ভূমি মন্ত্রণালয়ের গুচ্ছগ্রাম ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ স্থানীয় বাড়ি প্রকল্পের
উপকারভোগীদের নিয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু’র জন্ম শতবার্ষিকীর তথা মুজিববর্ষে ভূমি ও গৃহহীন পরিবারের জন্য স্থায়ী ঘর নির্মাণ ও দলিল হস্তান্তর প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার।
প্রত্যেক ভূমিহীন উপকারভোগী পরিবারকে
প্রতি ঘর নির্মাণে পরিবহন খরচসহ ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন প্রতিটি ঘর একতলা বিশিষ্ট।
ইটের তৈরিকৃত ও রঙ্গিন টিনের ছাউনিযুক্ত
প্রতিটি ঘরে দুটি করে শয়ন কক্ষ, একটি রান্নাঘর, সৌচাগর ও সামনে খোলা বারান্দা তৈরী করা হয়েছে। মুজিববর্ষ উপলক্ষে সারাদেশের ন্যায় শনিবার সকালে চকরিয়ায় প্রথমধাপে ৮০ পরিবারকে ঘরের চাবি ও দলিল হস্তান্তর করা হয়।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, ‘মুজিববর্ষ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক ইচ্ছায় সারাদেশে একযোগে প্রথমদফায় ৭০ হাজার গৃহহীন পরিবারকে বাড়ি হস্তান্তর করা হয়েছে। এরই আলোকে চকরিয়ার ১৮টি ইউনিয়নের ভূমিহীন ১৮০ পরিবারকে দেওয়া হচ্ছে জায়গাসহ নতুন বাড়ি। শনিবার সকালে একসঙ্গে ৮০ পরিবারকে বাড়িসহ জায়গার বন্দোবস্ত দলিল হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকী পরিবারগুলোকেও পর্যায়ক্রমে হস্তান্তর করা হবে জায়গাসহ নতুন বাড়ি ও বন্দোবস্ত দলিল।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলম বলেন,
মুজিববর্ষে একসঙ্গে ৭০ হাজার গৃহহীন পরিবারকে বাড়ি দিয়ে বিশ্বের মধ্যে নজির স্থাপন করেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যাদের কোন জমি ও বাড়ি ছিল না এমন পরিবারগুলো শান্তির নীড় পেয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখছে বেঁচে থাকার।
তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চাওয়া হচ্ছে বাংলাদেশের একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। তিনি জনগণের মুখে হাসি ফোঁটাতে চান। বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নের জন্য ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অসুস্থতা, লিঙ্গ বৈষম্য, অবিচার আর অজ্ঞতার শেকল থেকে তাদের মুক্ত করতে নিরলসভাবে কাজ করছেন। তাই মুজিববর্ষ উপলক্ষে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় সারাদেশে প্রায় ৯ লাখ ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হবে জায়গাসহ নতুন বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার মাধ্যমে। আগামী মাসে আরও এক লাখ ভূমিহীন পরিবার নতুন বাড়ি পাবে।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.