উখিয়া শরনার্থী শিবিরে অকল্পনীয় মানবতার পাশে ছাত্রলীগ

জে জাহেদ উখিয়া হতে ফিরেঃ

মানুষের বিপদে মানুষকে দাড়াতে হবে। মানুষের বিপদে অন্য কোন প্রানী এগিয়ে আসবেনা।

দারিদ্র্যের বাংলাদেশে নিজেরা নিজেদের বিপদমুক্ত জীবন গড়তে ব্যস্ত জনগণ। মরার উপর খাড়ার ঘা আমাদের দেশে প্রাকৃতিক বন্যা আর দুর্যোগ।

অন্যদিকে সীমান্তপথ পাড়ি দিয়ে ১১ লাখ মানুষ বসতি গড়তে ব্যস্ত উখিয়া,বালুখালী,তুমব্রু,টেকনাফ কিংবা কক্সবাজার।

৭০ হাজার গর্ভবতী মা,দিনে ৮ বাচ্ছা প্রসব। প্রতিদিন আসিতেছে রোহিঙ্গা। মিয়ানমার রাষ্ট্র ১৯৪৮ সালে স্বাধীন হয়ে ১৯৭৭ সালে হতে রোহিঙ্গা নামক জাতিসত্তার উপর স্টিমরোলার।

কত যুগ আর কত বছর গেলো,কত ঘাটের পানি সাগর হয়ে মহাসাগরে পতিত হলো। তারপরেও ঘুরে ফিরে রোহিঙ্গা জাতির পিটের উপর নির্যাতন অব্যাহত থাকে।

কোন সরকার এসবে সময় দেয়না। শিশু কিংবা নারী তাতে কিছু নয়,তাদের কাছে রক্ত আর খুনের মহড়া পান্তাভাত।

নেই সমাজ,নেই রাষ্ট্র, নেই মৌলিক অধিকার আদায়ের সংগ্রাম। সকলে বন্দি মিয়ানমারের সামরিক জান্তার হাতে। কাঠের পুতুল কিংবা রং করা পুতুল ছাড়া সুচির আর কোন অসিস্ত্ব নেই।

কে পাশে দাড়াবে। ১১ লাখ মানুষের কে আহার যোগাবে? স্বাস্থ্যগত চিকিৎসার কথা কে শুনাবে। যেখানে জীবন বাঁচাতে রোহিঙ্গারা ব্যস্ত। সেখানে অধিকার কে দেখে।

তারপরেও কেন্দ্রীয় নির্দেশে কক্সবাজার ছাত্রলীগ তাবু করেছে উখিয়া ক্যাম্পে।

মানুষের পাশে এভাবে নিঃস্বার্থ মনে রাতদিন কঠোর পরিশ্রম কে করে আর। বিনামুল্যে যেখানে পানিও পাওয়া যায়না। সেখানে স্বেচ্চাশ্রমে হাজারো ছাত্রলীগ কাজ করে যাচ্ছে ক্যাম্প এলাকায়।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ যাদের বুকে। তারা কি পারবে চুপ করে থাকতে।নেতা তো এসব শিক্ষা দেয়নি। মনেহয় দেশরত্ন শেখ হাসিনার মানবিক রাষ্ট্রের প্রতিচ্ছবি।

রোহিঙ্গা শরনার্থীদের জন্য গঠিত ছাত্রলীগের মনিটরিং সেল ইতোমধ্যেই দেশ বিদেশে নানাভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

ছাত্রলীগের উদ্যোগে নিয়মিত ওষুধ ও খাদ্য নিশ্চিত করে মানবিকতার অন্যন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

এই মনিটরিং সেল চালাতে ছাত্রলীগের কতো কর্মীর ঘাম, শ্রম, মেধা ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে তা পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লিখলেও শেষ হবে না।

কক্সবাজার জেলা সভাপতির ফেসবুক স্টাটাসে ওঠে এসেছে যে ছাত্রলীগ তাদের শ্রদ্ধাভরে স্যালুট জানাচ্ছি।

সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ জয় জানান, সারারাত ব্যানার ও ফেস্টুন লাগিয়ে খুব ভোরে মনিটরিং সেলে পৌঁছায় মঈন, জামশেদ ও কাদেরী। তখনও কেউ ঘুম থেকে ওঠে নাই, আশেপাশে নীরবতা।

তিনজনের চোখে ঘুম, কিন্তু সবাই ঘুমিয়ে পড়লে কিভাবে হবে? ওষুধগুলো কাদেরী পাহারা দিতে থাকে আর পাটি পেতে মঈন ও জামশেদ ঘুমিয়ে পড়ে।

আশেপাশের মানুষজন ঘুম থেকে উঠে ভাবে ওদের মতোই রাখাইন থেকে নতুন কোন রোহিঙ্গা এসেছে। ওষুধ পাহারা দেওয়ার জন্য জেগে থাকা কাদেরী এই ছবি তোলে।

মানবিকতার এরকম বহু ঘটনা মিশে আছে এই মনিটরিং সেলের সাথে। মিশে আছে বহু মানুষ।

আজাদ নামের ছেলেটা বারবার আমার চোখ ভিজিয়ে দেয়। আমাকে সবচেয়ে বেশী কাঁদিয়েছে আজাদ। শুধু রোহিঙ্গা ইস্যু না,সব ধরণের মানবিক বিপর্যয়ে দিনের পর দিন,রাতের পর রাত সে এতো পরিশ্রম করে যার মূল্য ভালবাসা দিয়ে শোধ করার সাধ্যও কারো নাই।

তাঁর বাবা চায়ের দোকানদার, অভাবের সংসার, তবুও সে কোনকিছুতে পেছনে ফেরে না। যেখানেই দুর্যোগ সেখানেই আজাদ। আমি আজাদের দিকে তাকাতে পারি না,কান্না আসে। তার অধিকাংশ শার্ট ছেঁড়া, সেলাই করে পড়ে। এই আজাদের দিকে তাকানোর ক্ষমতা আমার নাই। তাকে টাকা দিলেও সে অন্য কোন ভাল কাজে খরচ করে।

আজাদ তোর কি কোন ভাল শার্ট নাই? আমার সামনে কেনো সেলাই করা শার্ট পরে আসিস? আমাকে আর কতো কাঁদাবি?

অথচ ছাত্রলীগের ভেতরের মানবিকতার গল্পগুলো পত্রিকায় পাতায় স্থান পায় না।তাতে কি? পত্রিকায় লেখার জন্য সব গল্প না,কিছু গল্প হৃদয়ে লেখার জন্য।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.