ঈদগড়ে শিশু বলৎকারের ও হত্যার চেষ্টাকালে  চাচা আটক

 

মাসেদুল হক আরমান রামু,

কক্সবাজারের রামু  উপজেলার ঈদগড়ে মুহাম্মদুল হাসান মিসবা ( ৮) নামের এক শিশুকে বলৎকারের চেষ্টা ও হত্যার অভিযোগে তার চাচাকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার বেলা ১২ টায় কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁওয়ের কানিয়ারছড়ার পাহাড়ী এলাকা থেকে নুরুজ্জমা (২০) কে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছে জনতা।

নিহত শিশু ঈদগড়ের টুঠারবিলের হাবিবুর রহমানের ছেলে। আর ঘাতক একই এলাকার দুদুমিয়ার ছেলে।

এলাকাবাসী সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত নুরুজ্জমা নিহতের মরদেহ কোলে করে হাবিবুর রহমানের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেসময় শিশুটি পানিতে পড়ে মারা গেছে বলে প্রচারণা চালায় হত্যার দায়ে অভিযুক্ত যুবক। পরদিন বুধবার ওই শিশুকে পারিবারিকভাবে দাফন করা হয়।

নিহতের বাবা হাবিবুর রহমান জানান, আমার ছেলের হত্যাকারী সম্পর্কে আমার  চাচাত ভাই । তাই ঘাতকের কথা বিশ্বাস করে আমার শিশু পানিতে পড়ে মারা গেছে মনে করে পারিবারিকভাবে দাফন করি। কিন্তু দাফনের পর আমার ছেলের সমবয়সীরা আমাকে ও এলাকাবাসীকে জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে ঘাতক নুরুজ্জমা আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে গিয়ে  তাকে বলৎকারের চেষ্টা করে । কিন্তু আমার ছেলে বাধা দেওয়ায় তাকে হত্যা করে ডোবাতে ফেলে দেয়। পরে সন্ধ্যায় মৃতদেহ পানি থেকে তুলে আবার আমার বাড়িতে নিয়ে আসে।

তিনি আরো বলেন, শিশুদের এমন কথা শোনার পর এলাকাবাসী সহ আমি ঘাতকের বাড়ি যাই। কিন্তু সে তখন বাড়িতে ছিল না। তখন আমার সন্দেহ আরো দৃঢ হয় । পরে শুক্রবার তাকে গহীন জঙ্গল থেকে আটক করে এলাকাবাসী  এরপর পুলিশে সোপর্দ করি।

রামু থানার ওসি লিয়াকত আলী সিকদার  জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে  আটক  নুরুজ্জমা শিশুটিকে বলৎকারের চেষ্টা ও হত্যার কথা স্বীকার করেছে। এঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে  রামু থানায় একটি মামলা দ্বায়ের করেছে।

তিনি আরো বলেন,  আটককে আদালতে পাঠানোর পাশাপাশি নিহতের মৃতদেহ উত্তোলনের আবেদন করা হবে।  আদালতের আদেশ পেলে ম্যাজিষ্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত করা হবে। ঈদগড়ে দায়িত্বরত রামু থানা এ এস আই মোর্শেদ আলম জানান,ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। এছাড়া বিষয়টি শুনার পর এলাকাবাসীর সহযোগীতায় ঘাতককে আটক করতে সক্ষম হই

। এ রির্পোট লিখা কালীন সময়ে ঘাতক নুরুজ্জমা রামু থানায় রয়েছে বলে পুলিশ জানান।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.