শাহিদ মোস্তফা শাহিদ
কক্সবাজার সদরের উপকূলীয় ইউনিয়ন গুলোতে চলছে লবণ উৎপাদনের মৌসুম। এখানকার লবণ চাষীরা দিনের পুরোটাই সময় ব্যয় করছেন এখন লবণ উৎপাদনে। সদরের ভারুয়াখালী, খুরুস্কুল পোকখালী,চৌফলদন্ডী,ইসলামপুর এলাকায় প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ লবণ উৎপাদন হয়ে থাকে। প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও এখানকার প্রায় কয়েক হাজার লবণ চাষী লবণ উৎপাদনের কাজে নেমেছেন। ন্যায্য মূল্য, অতিরিক্ত খরচ হওয়া সত্বেও পুরোনো পেশা ছাড়তে পারছে না এখানকার চাষীরা।তারপরও অধিক লাভের আশায় লবণ চাষে নেমে পড়ছে চাষীরা।সকাল থেকে সন্ধ্যা অবদি লবণ মাঠ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে চাষীরা।
ভারত থেকে লবণ আমদানি বন্ধ হবে সেই আশায় এখানকার চাষীরা পড়ে থাকা অনাবাদী জমিতেও চাষীরা লবণ উৎপাদনে প্রায় জমি চাষ করছে। লবণের দাম কম, বিদেশ থেকে আমদানি, ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় অনেকেই হতাশাগ্রস্থ। লবণের দাম বাড়ালে সদরের উপকূলীয় অঞ্চলের হাজার হাজার লবণ চাষী তাদের পরিশ্রমের সুফল পাবে এই আশা রাখছে।যদিও বা বর্তমানে সরকার লবণ চাষীদের স্বার্থ সুরক্ষার জন্য বিদেশ থেকে লবণ আমদানী বন্ধ করে দেওয়ায় চাষীরা তাদের পুনঃ শ্রম এখন লবণ মাঠে দিয়ে যাচ্ছে। তবে চাষীরা বলছে ভিন্ন কথা, অসাধু লবণ সিন্ডিকেট, দালাল চক্র, প্রান্তীক চাষীদের কাছ থেকে কম দামে ক্রয় করে লবণের বাজারে ধ্বংস নামিয়ে দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে লবণ আমদানি বন্ধ করার কথা বলা হলেও এটির কার্যক্রর কোন পদক্ষেপ নেই। কয়েকজন লবণ চাষা সরকারের কাছে দাবী জানান, বিদেশ থেকে পুরোপুরি লবণ আমদানি বন্ধ করে দিয়ে গরীব দরিদ্র চাষাদের ন্যায্য মূল্য ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
সূত্রে জানা গেছে, সদরের উৎপাদিত লবণ গুলো বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সারা দেশে রপ্তানি করে থাকে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুঠির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) চৌফলদন্ডী ও গোমাতলী ইসলামপুর উপকূলীয় এলাকায় তাদের নিজস্ব তদারকির মাধ্যমে লবণ উৎপাদন ও রপ্তানি করে থাকে।
এদিকে ইসলামপুর লবণ মিল মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি শামশুল আলম আজাদ বলেন, বৃহত্তর ঈদগাঁও এবং সদরে যে পরিমাণ লবণ উৎপাদন হয় তা যথাযথ ভাবে সংরক্ষণ করা হলে দেশের চাহিদা পূরণ করে বাহিরেও রপ্তানী করতে পারবে। কিন্তু কতিপয় ব্যবসায়ী ব্যক্তি স্বার্থ সিদ্ধির জন্য বাহির থেকে লবণ আমদানি করে দেশে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে। বর্তমান সরকার তা কঠোর হস্তে দমন করায় কক্সবাজার সদরের হাজার হাজার লবণ চাষী ন্যায্য মূল্য ও পরিশ্রমের যথাযথ মূল্য পাবে এই আশায় লবণ মাঠে রাতদিন পরিশ্রম করে যাচ্ছে। বিসিক কক্সবাজার জেলা কার্য়ালয় সূত্রে জানা যায়, এ মৌসুমে কক্সবাজার সদরে ৬ হাজার ৭শ ৯০ একর জমিতে লবণের চাষ হচ্ছে।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.