ইসলামপুরে ইয়াবার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে তুলকালাম কান্ড!  

শাহিদ মোস্তফা শাহিদ, সদর 
কক্সবাজারের ঈদগাঁও ইসলামপুরে এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর অফিসে সাবেক দুই জনপ্রতিনিধির ছেলেদের ইয়াবার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে  তুলকালাম কান্ড ঘটেছে। স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে৷ জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।সংগঠিত ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ৩০ মার্চ রাত সাড়ে ১১ টার দিকে ঘটনাটি ঘটে ইউনিয়নের মনু বাজার এলাকায়।
প্রাপ্ত তথ্য ও খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, ঘটনার পূর্বে একই এলাকার সাবেক মেম্বার জালাল আহমদের ছেলে আনোয়ার সাদাত খোকন ও সাবেক চেয়ারম্যান মনজুর আলমের ছেলে দেলোয়ার হোসেনের মধ্যে ইয়াবা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধের জের ধরে খোকন কয়েকদিন ধরে দেলোয়ারকে খুঁজতে থাকে। হঠাৎ খবর পান দেলোয়ার তার চাচা চেয়ারম্যান প্রার্থী হাসান আলীর অফিসে অবস্থান করছে। পরে খোকন দলবল নিয়ে হাসান আলীর অফিসে গিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে অফিস ভাংচুর করে চলে যায়। পরে খবর পেয়ে ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবদুল হালিমের নির্দেশে এএসআই আবদুল্লাহ আল মামুন সহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় পুরো বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা দোকানপাট বন্ধ করে পালিয়ে যায়। সাবেক দুই জনপ্রতিনিধির ছেলেদের ইয়াবা  বিরোধ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দুই ইয়াবা সেবনকারী ও ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় এনে এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।এ বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান প্রার্থী হাসান আলী বলেন, অফিসটি আওয়ামিলীগের,ব্যক্তিগত নয়। তবে আনোয়ার সাদাত খোকন মধ্যপ অবস্থায় এসে আওয়ামী লীগের অফিসে তাকে অকাথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ভাংচুর করেছে। তাছাড়া দেলোয়ারের সাথে যে বিরোধের কথা বলা হচ্ছে সে লবণ আমদানির টাকা তুলতে জেলার বাইরে রয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে খোকনের চাচা সাবেক চেয়ারম্যান মাষ্টার আবদুল কাদের পক্ষ হয়ে তাকে গালিগালাজ করেছে। সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল করিম মাদু জানানা, ইসলামপুরে আওয়ামী লীগের কোন দলীয় কার্যালয় নেই। স্থানীয় কিছু সুবিধাভোগী লোকজন দলের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে  নানান অপকর্ম করে আসছে৷ আওয়ামিলীগে খারাপ লোকদের কোন স্থান নেই জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ইতিমধ্যেই ঘটনাটি থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। আইনগত ভাবে ব্যবস্থা নিতে ওসিকে অবগত করা হয়েছে। ইউনিয়ন আওয়ামিলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনজুর আলম দাদা বলেন, ইসলামপুরে আওয়ামী লীগের কোন কার্যালয় নাই, একই কথা জানালেন সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান চৌধুরীও। উপজেলা আওয়ামীলীগের উপ প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ শরীফ কোম্পানি জানান, ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামিলীগের গুটি কয়েক ব্যক্তি বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করে দলীয় কার্যালয় বলে ইয়াবাসহ হরেকরকম অপরাধ সংগঠিত করে যাচ্ছে।তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আওয়ামিলীগের হাই কমান্ডের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
ঘটনাস্থলে যাওয়া পুলিশ কর্মকর্তা এএসআই আবদুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা পান বলে জানায়।
অভিযোগ উঠেছে ইসলামপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি মনজুর আলমের ছেলে দেলোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ঘাতক মরণ নেশা ইয়াবা ব্যবসা ও সেবন করে আসছিল। ইতিপূর্বে ইয়াবা, নগদ টাকাসহ নারী নিয়ে ঈদগাঁও পুলিশ এবং ঢাকায় কয়েকবার আটক হয়েছিল। জামিনে বেরিয়ে ফের ইয়াবা ব্যবসায় নেমে পড়ে। দেলোয়ার হোসেন আত্মীয় স্বজন নিয়ে এলাকা ভিত্তিক একটি মাদক সিন্ডিকেট গড়ে তুলে সারাদেশে পাচার করে আসছিল৷ তার সিন্ডিকেটে কয়েকজন আপন ভাই, বোন জামাইও রয়েছে।
তাদের মধ্যে অন্যতম ফাহিম, সে টেকনাফে ইয়াবাসহ র‌্যাবের হাতে আটক হয়েছিল। বোন জামাই মাসুদ, ভাই ইমরানও পুলিশের কাছে আটক হয়ে কারাগার ভোগ করে জামিনে বেরিয়ে আসে। এ ছাড়া নাম না জানা আরো অনেকে বিভিন্ন সময়ে ইয়াবা, নারীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হয়েছিল। স্থানীয়রা জানিয়েছেন দেলোয়ারের বাবা সাবেক চেয়ারম্যান  মনজুর আলম ইউনিয়ন আওয়ামিলীগের সভাপতি  থাকাকালীন সময়ে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দেলোয়ার এবং অপরাপর স্বজনরা  নানান অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। পিতার মৃত্যুর পর কয়েকদিন ভাল থাকলেও ফের সক্রিয় হয়ে উঠে মাদক ব্যবসায় । অভিযোগ উঠেছে  চাচার ক্ষমতা দেখিয়ে তার সিন্ডিকেট বেপরোয়া আচরণ ও আধিপত্য, মাদক ব্যবসা  শুরু করছে বলে নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী জানান৷ স্থানীয়রা এসব মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে দেলোয়ারের সাথে বিভিন্ন মাধ্যম যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে পাওয়া গেলে গুরুত্ব সহকারে ছাপানো হবে। আনোয়ার  সাদাত খোকন কল রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.