মোঃ নেজাম উদ্দিন,কক্সবাজার
কক্সবাজারে মেজর সিনহা হত্যাকান্ড ও অন্যান ইস্যু নিয়ে কক্সবাজার জেলা পুলিশের ওসি ও পুলিশ প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা কর্মচারীদের দৈন্যদশা যাচ্ছে বলে মনে করছে সচেতন মহল। তারা মনে করছে যারা অপরাধ করেছে এর শাস্তি প্রশাসনের অন্যরাও ভোগ করছে।
তথ্য সুত্রে জানা যায় কক্সবাজারের ৮টি থানার মধ্যে ৫টি থানার ওসিদের অবস্থান নড়েবড়ে হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে টেকনাফ থানর ওসি প্রদীপ মেজর সিনহা হত্যা মামলায় বহিস্কার হয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছ্। এরপর টেকনাফ থানায় নতুন ওসি হিসাবে আসে মোঃ আবুল ফয়সল । তাকে ১০দিনের মাথা বদলী করা হয়। অন্যদিকে এই ঘটনার অল্প কিছুদিনের মধ্যে কক্সবাজার মড়েল থানার ওসি শাহ জাহান কবিরকে প্রত্যাহার করে সিলেট রেজ্ঞ এ দেওয়া হয়। তার স্থলে ওসির দায়িত্ব দেওয়া হয় মড়েল থানার তদন্ত কর্মকর্তা খায়রুজ্জানকে। তাকেও ৪দিনের মাথায় অন্যত্র বদলী করা হয় বলে জানা যায়।
এনিয়ে কক্সবাজারে থমথমে বিরাজ করছে। এভাবে চলতে থাকলে থানায় পুলিশি সহায়তা পেতে বেগ পেতে হবে বলে মনে করছে স্থানীয়রা।
তারা আরো বলেছে যদি কেউ অপরাধ করে তবে তার বিচার হউক। অন্যদের হয়রানি না করে স্ব-পদে বহাল রেখে জনগণকে সেবা দেওয়ার আহবান জানান।
এদিকে গত ৩১ জুলাই ঈদুল আজহার আগের রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশ কর্মকর্তা লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। ঘটনার পর পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় দুটি মামলা করে। আর রামু থানায় একটি মামলা করে।
পরে ৫ আগস্ট কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলা করেন সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। এতে নয়জনকে আসামি করা হয়। আসামিরা হলেন টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ, টেকনাফের বাহারছড়া শামলাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের প্রত্যাহার হওয়া পরিদর্শক লিয়াকত আলী, উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দদুলাল রক্ষিত, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লিটন মিয়া, পুলিশ কনস্টেবল সাফানুর রহমান, কামাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন, মো. মোস্তফা ও এসআই টুটুল। এদের মধ্যে আসামি মোস্তফা ও টুটুল পলাতক।
মেজর সিনহা হত্যার পর থেকে পুলিশ প্রশাসনে কক্সবাজারে নেমে এসেছে এক ধরনের মহা দুর্দশা। মেজর সিনহা হত্যাকান্ডে জড়িত থাকা নিয়ে প্রথমে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার বুড়–য়াকে বহিস্কার ও তাকে আইনের আওতায় আনা হয়। এখন ওসি প্রদীপ র্যাব এর হাতে রিমান্ডে আছে বলে জানা যায় ।
এরই মাঝে টেকনাফ থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপের জায়গায় আসেন নতুন ওসি মোঃ আবুল ফয়সলকে যোগদানের ১০ দিন পর বদলি করা হয়। গত ১১ অগাস্ট টেকনাফ থানায় যোগদান করেছিলেন এই নবাগত ওসি মো. আবুল ফয়সল। তবে কেন বদলী করা হয় তা এখনো পরিস্কার জানা যায়নি। টেকনাফের ওসি ফয়সলকে আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ানে (এপিবিএন) নিযুক্ত করা হয়েছে। ”
গত ১১ আগষ্ট কক্সবাজার মড়েল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান কবিরকে প্রত্যাহার করা হয়। থানায় পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, কক্সবাজার সদর উপজেলার খরুলিয়া বাংলাবাজারের পশ্চিম মুক্তারকুল এলাকার মৃত আব্দুর শুক্কুরের ছেলে নবী হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসা করে আসছিল। সোমবার দুপুরে ইয়াবা বিক্রির সময় তাকে জনতা ধরে বেধড়ক গণধোলাই দেয়।
পরে ঝিলংজা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দিয়ে তাকে সোপর্দ করেন। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করায়। এক পর্যায়ে ওই দিন বিকেলে তার শারীরিক অবস্থা ভালো হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন বলে সূত্রটি জানায়।
এদিকে মঙ্গলবার ভোরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৮ টার দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে মারা যায় ইয়াবা ব্যবসায়ী নবী হোসেন।
মঙ্গলবার সকালে কক্সবাজার সদর মডেল থানা হেফাজতে নবী হোছন নামে ঐ আসামির মৃত্যুর ঘটনায় কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি আবু মো. শাহজাহান কবিরকে প্রত্যাহার করা হয়। ওসি শাহজাহান কবিরকে প্রত্যাহার এরপর গত ১৭ আগস্ট মোঃ খায়রুজ্জামান’কে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিলো। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৪ দিনের মধ্যে কেন মোঃ খায়রুজ্জামান’কে সরানো হয়। এমন কি ঘটেছে ৪দিনের মধ্যে ওসি’র দায়িত্ব থেকে মোঃ খায়রুজ্জামান’কে সরে যেতে হলো।
জানা যায় নিহত মেজর (অবঃ) সিনহা মোঃ রাশেদ খান এর টিমের সদস্য হচ্ছেন, স্টামফোর্ট ইউনিভার্সিটির ফ্লিম এন্ড মিডিয়া বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্রী শিপ্রা রানী দেবনাথ। সাতক্ষীরার এসপি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান ও পিবিআই ঢাকা (উত্তর) এর এসপি মোঃ মিজানুর রহমান তাদের ফেসবুকে শিপ্রা রানী দেবনাথ এর আপত্তিকর ও এডিটিং করা ছবি পোস্ট করে শিপ্রা রানী দেবনাথকে বিব্রত, সামাজিকভাবে হেয়, মানহানি ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে উস্কানিমূলক স্ট্যাটাস দেওয়া হয় বলে অভিযোগ আনেন।
এ অভিযোগে সাতক্ষীরার এসপি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান ও পিবিআই ঢাকা (উত্তর) এর এসপি মোঃ মিজানুর রহমান সহ আরো ১০০ থেকে ১৫০ জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেন শিপ্রা রানী দেবনাথ। এ মামলাটি দায়ের করতে গত ১৮ আগস্ট রাত্রে শিপ্রার আইনজীবী এডভোকেট মাহবুবুল আলম টিপু, তাদের টিমের আরেক সদস্য সাহেদুর রহমান সিফাত সহ কক্সবাজার সদর মডেল থানায় গেলে ওসি মোঃ খায়রুজ্জামান তাদেরকে আইনের অপব্যাখ্যা দেন। ঘটনাস্থল ভৌগলিকভাবে রামু এলাকায় হওয়ায় রামু থানায় মামলাটি দায়ের করতে অথবা ঢাকাস্থ সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করতে পরামর্শ দেন তৎকালীন ওসি মোঃ খায়রুজ্জামান। এসব অজুহাত দেখিয়ে শিপ্রা রানী দেবনাথ এর মামলাটি তিনি সদর মডেল থানায় রুজু করতে অপারগতা প্রকাশ করে।
নির্ভরযোগ্য সুত্র মতে, শিপ্রা রানী দেবনাথ এর মামলা না নেওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবহিত হন। পরে এ অভিযোগে মোঃ খায়রুজ্জামান’কে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ওসি হিসাবে নিয়োগ দেওয়ার ৪দিনের মধ্যে বদলী করা হয়। তার চাকুরী শিল্প পুলিশে ন্যাস্ত করা হয়েছে। গত ১৭ আগস্ট মোঃ খায়রুজ্জামান’কে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিলো। মোঃ খায়রুজ্জামান তার আগে সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ওসি মোঃ খায়রুজ্জামানকে সরিয়ে দেওয়ার পর ওসি (তদন্ত) মাসুম খানকে নতুন ওসি নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত ওসি’র দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে।
অন্য দিকে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওসি মো. হাবিবুর রহমান কে নিয়ে শুরু হয় আরেকটি ঘটনার সুত্রপাত। মো. জাফর নামে এক প্রবাসীকে চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে তুলে নিয়ে ক্রসফায়ারে হত্যার অভিযোগ তুলে ১২ জুলাই (রবিবার) কক্সবাজারের চকরিয়া থানার ওসিসহ দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পটিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিশ্বেশ্বর সিংহের আদালতে এই অভিযোগে মামলাটি করেন প্রবাসী জাফরের মামা ও বোয়ালখালী উপজেলার বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা আহমদ নবী।
বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে চট্টগ্রামের সিআইডি পুলিশকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। মামলার প্রধান আসামি চকরিয়া উপজেলার হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম ও চকরিয়া থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান। আদালত সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের কথামৌজা গ্রামের মো. আবদুল আজিজের ছেলে মো. জাফর দীর্ঘদিন ওমানে ছিলেন। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শুরুর আগে ওমান থেকে তিনি দেশে ফিরেন। কিন্তু লকডাউনের কারণে আর বিদেশে যেতে পারেননি। গত ২৯ জুলাই রাতে তাকে বাড়ি থেকে সাদা পোশাকধারী কয়েকজন ব্যক্তি তুলে নিয়ে যান। পরবর্তীতে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে প্রবাসীর কাছ থেকে হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন। কিন্তু প্রবাসীর পরিবার ওই টাকা দিতে পারেননি। এর দুই দিন পর প্রবাসীর পরিবারের কাছে চকরিয়া থানা পুলিশ ফোন করে লাশ নিয়ে যাওয়ার জন্য খবর দেয়।
অপরদিকে রামু থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল খায়েরকে মেজর (অবঃ) সিনহা মোঃ রাশেদ খান এর সহকর্মী শিপ্রা রানী দেবনাথ থেকে উদ্ধার করা মালামাল নিয়ে ২টি জব্দ তালিকা করায় আদালতে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে তার ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য আদেশ দিয়েছেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আদালত নম্বর-১) রামু’র এর বিজ্ঞ বিচারক মোহাং হেলাল উদ্দিন আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে এর ব্যাখ্যা দিতে বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট এ আদেশ দেন।
মেজর (অবঃ) সিনহা মেঃ রাশেদ খানকে হত্যা করার পর মেরিন ড্রাইভ রোডের হিমছড়ি নীলিমা রিসোর্ট থেকে স্টামফোর্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্রী শিপ্রা রানী দেবনাথ কে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরে রামু থানা পুলিশ তার বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দিয়ে চালান দেয়। যার নম্বর : জিআর-৩১১/২০২০ (রামু)। শিপ্রা রানী দেবনাথকে গ্রেপ্তারের সময় তার কক্ষ থেকে উদ্ধার করা ২৯ আইটেম ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস এই মামলার জব্দ তালিকায় আনা হয়নি। শুধুমাত্র কিছু বিদেশি মদের বোতল, ২ পোটলা গাঁজা ও কিছু মাদক দ্রব্য জব্দ তালিকাভূক্ত করা হয়। পরে রামু থানা কর্তৃপক্ষ পৃথক আর একটি জব্দ তালিকা তৈরি করে এবং জিডি মূলে বিবিধ ১/২০২০ নম্বর মামলা রুজু করে শিপ্রার ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস ও অন্যান্য মালামাল রামু থানার এই মামলার আইও এসআই শফিকুল ইসলাম এর হেফাজতে রাখে এবং মামলাটি আদালতে প্রেরণ করে। দ্বিতীয় জব্দ তালিকা তৈরির সময়কাল রামু থানা কর্তৃপক্ষ তাতে ১আগস্ট উল্লেখ করলেও এ সংক্রান্ত বিবিধ ১/২০২০ নম্বর মামলাটি দীর্ঘ ৫ দিন পর ৬ আগস্ট আদালতে প্রেরণ করেন।
রামু থানার জিআর-৩১১/২০২০ নম্বর মামলাটি তদন্তের দায়িত্বে থাকা র্যাব-১৫ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিমান চন্দ্র কর্মকারকে দেওয়া হলে তিনি রামু থানা কর্তৃক শিপ্রার জব্দকৃত সকল মালামাল তাঁর হেফাজতে আনার জন্য ও বিবিধ ১/২০২০ নম্বর মামলাটির তদন্তভার নিতে আদালতে আবেদন করেন। বৃহস্পতিবার আদালতে শুনানীকালে রামু থানার বিবিধ ১/২০২০ নম্বর মামলার আইও শফিকুল ইসলাম র্যাবের এই আবেদন এর বিরোধিতা করে শিপ্রা রানী দেবনাথ থেকে উদ্ধারকৃত মালামাল তার হেফাজতে রাখতে ও বিবিধ ১/২০২০ নম্বর মামলাটি তার মাধ্যমে তদন্ত অব্যাহত রাখার অনুমতি দিতে আবেদন জানান। আবেদন শুনানীর সময় আদালত রামু থানার আইও শফিকুল ইসলাম এর কাছে একটি মামলায় কেন ২টি জব্দ তালিকা তৈরি করে, বিবিধ মামলাটি কেন সৃজন করা হলো-এমন প্রশ্ন করলে ইনস্পেক্টর শফিকুল ইসলাম এর কোন সদুত্তর আদালতে দিতে পারননি বলে জানা যায়। পরে আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে ৩ টি পৃথক আদেশ দেন। আদেশ সমুহের মধ্যে প্রথম আদেশটি হলো- একটি মামলায় কেন ২ টি জব্দ তালিকা তৈরি করে বিবিধ মামলাটি কেন সৃজন করা হলো-তার
আইনগত জবাব দিতে পরবর্তী ৭কার্যদিবসের মধ্যে ওসি আবুল খায়েরকে আদালতে তলব। দ্বিতীয় আদেশটি হলো-শিপ্রা রানী দেবনাথকে গ্রেপ্তারের সময় তার কক্ষ থেকে উদ্ধার করা ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস সহ সকল মালামাল হস্তান্তর করতে ও বিবিধ ১/২০২০ নম্বর মামলার তদন্তভার জিআর-৩১১/২০২০ (রামু) নম্বর মামলার বর্তমান আইও র্যাব-১৫ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিমান চন্দ্র কর্মকারকে প্রদান। তৃতীয় আদেশটি হলো- বিবিধ ১/২০২০ নম্বর মামলা ও শিপ্রার মালামাল সমুহ রাখার জন্য রামু থানার ইনস্পেক্টর শফিকুল ইসলামের করা আবেদনটি খারিজ।
অপরদিকে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) উখিয়া থানার ওসি মর্জিনা আকতার, কনস্টেবল মো. সুমন, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নুরুল ইসলাম ও এএসআই মো. শামীমের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এ এক নারী মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআই’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
বাদি মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়ার নয়াপাড়ার বাসিন্দা নুরুচ্ছবির মেয়ে। তিনি কক্সবাজারের একটি বেসরকারি কলেজের ছাত্রী বলে জানা গেছে।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট একরামুল হুদা।
এজাহারে উল্লেখ রয়েছে, কনস্টেবল মো. সুমন (বর্তমানে রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপার কার্যালয়ে কর্মরত) এর সাথে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ঐ নারীর। এ সুবাদে বিয়ের কাবিনের কথা বলে গত ৭ জুলাই বেলা দুইটার দিকে রামুর খুনিয়াপালং চেকপোস্ট সংলগ্ন তার কক্ষে নিয়ে যান ওই নারীকে। কাজি আসার অপেক্ষার অজুহাতে কক্ষে বসিয়ে রাখেন। এবং পরে ধর্ষণ করেন।
এরপর চেকপোস্টের পার্শ্ববর্তী একটি দোকানে বসিয়ে রেখে জরুরি কাজের বাহানা দিয়ে পালিয়ে যান সুমন। অবশেষে রাত এগারোটার দিকে বিষয়টি অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে ফোনে জানান ভুক্তভোগী। তার কথামত উখিয়া থানায় গেলে ভুক্তভোগীকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেন ওসি মর্জিনা আকতার।
এরপর অভিযুক্ত ওসিসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় তাকে থানার একটি কক্ষে আটকে রেখে ব্যাপক মারধর ও নির্যাতন চালানো হয়। এমনকি পায়ে রশি ও পরনের হিজাব দিয়ে চোখ বেঁধে একটি কক্ষে ঢুকিয়ে রাখারও অভিযোগ আনেন ভুক্তভোগী। মামলার আরজির সঙ্গে নির্যাতনের কিছু ছবিও যোগ করেন তিনি।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.