রোহিঙ্গা শিবিরে বঙ্গবন্ধুর ছাত্রলীগ

জে জাহেদ উখিয়া হতে ফিরে:

মানব সভ্যতার মূল হচ্ছে মানবতা। শিক্ষা, দীক্ষার প্রথম শর্ত হচ্ছে মানবতা মানুষের অধিকার মানুষের জয়গানই হচ্ছে প্রকৃত মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ।

যদি মানুষ না থাকে মানবতা না থাকে তাহলে সমাজ সভ্যতার স্বপ্ন ও থাকবে না। মানুষ এবং পশুর মধ্যে পার্থক্য খুব কম। শুধুমাত্র মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব।

মনুষ্যত্ব বোধ, প্রজ্ঞা, জ্ঞান, শিক্ষা, বুদ্ধি বিবেচনায় মানুষ শ্রেষ্ঠত্বের দাবীদার।

একজন লোক অন্য লোকের সুখে দুঃখে, বিপদে আপদে নিজের বিবেককে সচেতন করবে। একজনের বিপদে যদি অন্যজন ঝাঁপিয়ে না পড়ে তা হলে তার মানুষ্যত্ববোধ কিভাবে জাগ্রত হবে?

পৃথিবীর বুকে ঘটা যে কোনও নির্যাতনের বিপক্ষে একজন বিবেকবান মানুষের দাড়ানো উচিত। মিয়ামারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সাথে যে অন্যায় ঘটছে তা খুবই গর্হিত কাজ। তাদের উপর বর্বর নির্যাতন হচ্ছে।

আর এই নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বঙ্গবন্ধুর ছাত্রলীগ।

মিয়ানমারে নিরাপত্তা বাহিনীর চলমান দমন অভিযানের কারণে সীমান্ত পেড়িয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বসতি গড়তে ব্যস্ত উখিয়া, বালুখালী, তুমব্রু, টেকনাফ ও কক্সবাজার এলাকায়।

মিয়ানমারের রাখাইনে দেশটির সেনাবাহিনী ও সরকার সমর্থকদের অব্যাহত সহিংসতা ও নির্যাতনের ফলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন।

যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এ নারীদের অনেকেই অন্তঃসত্ত্বা। আশ্রয় নিয়েছেন সন্তানসম্ভবা প্রায় ৭০ হাজার নারী। কক্সবাজার সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

মিয়ানমার রাষ্ট্র ১৯৪৮ সালে স্বাধীন হয়ে ১৯৭৭ সালে হতে রোহিঙ্গা নামক জাতিসত্তার উপর স্টিমরোলার চালাচ্ছে।

এত নির্যাতনের পরও নেই সমাজ, নেই রাষ্ট্র, নেই মৌলিক অধিকার আদায়ের সংগ্রাম। সকলে বন্দি মিয়ানমারের সামরিক জান্তার হাতে। কাঠের পুতুল কিংবা রং করা পুতুল ছাড়া সু -চির আর কোন অস্থিত্ব নেই।

নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের পাশে কে দাঁড়াবে? এত মানুষকে কে আহার দিবে? স্বাস্থ্যগত চিকিৎসার কথা কে শুনাবে।

এ রোহিঙ্গাদের পাশে শক্ত করে দাঁড়িয়েছেন বঙ্গবন্ধুর গড়া ছাত্রলীগ। কক্সবাজার ছাত্রলীগ তাবু করেছে উখিয়া ক্যাম্পে।

আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে খাবার, পানি ও ওষুধসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস।

নির্যাতিত মানুষের পাশে নিঃস্বার্থভাবে রাতদিন কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে এ ছাত্রলীগ। বিনামূল্যে যেখানে পানিও পাওয়া যায় না, সেখানে স্বেচ্চাশ্রমে হাজারো ছাত্রলীগ কাজ করে যাচ্ছে ক্যাম্প এলাকায়।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ যাদের বুকে, তারা কি পারবে চুপ করে থাকতে? পারেনি, পারবে না চুপ করে বসে থাকতে। ছাত্রলীগের স্বেচ্ছাশ্রম দেখলে মনে হয় দেশরত্ন শেখ হাসিনার মানবিক রাষ্ট্রের প্রতিচ্ছবি।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য গঠিত ছাত্রলীগের মনিটরিং সেল ইতোমধ্যেই দেশ-বিদেশে নানাভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

ছাত্রলীগের উদ্যোগে নিয়মিত ওষুধ ও খাদ্য নিশ্চিত করে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ জয় তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন…

এই মনিটরিং সেল চালাতে ছাত্রলীগের কত কর্মীর ঘাম, শ্রম, মেধা ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে তা পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লিখলেও শেষ হবে না।

সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ জয় আরো জানান, সারারাত ব্যানার ও ফেস্টুন লাগিয়ে খুব ভোরে মনিটরিং সেলে পৌঁছায় মঈন, জামশেদ ও কাদেরী। তখনও কেউ ঘুম থেকে ওঠে নাই, আশপাশে নীরবতা।

তিনজনের চোখে ঘুম, কিন্তু সবাই ঘুমিয়ে পড়লে কিভাবে হবে? ওষুধগুলো কাদেরী পাহারা দিতে থাকে আর পাটি পেতে মঈন ও জামশেদ ঘুমিয়ে পড়ে।

আশপাশের মানুষজন ঘুম থেকে উঠে ভাবে ওদের মতোই রাখাইন থেকে নতুন কোন রোহিঙ্গা এসেছে। ওষুধ পাহারা দেওয়ার জন্য জেগে থাকা কাদেরী এই ছবি তোলে।

মানবিকতার এরকম বহু ঘটনা মিশে আছে এই মনিটরিং সেলের সাথে। মিশে আছে বহু মানুষ।

আজাদ নামের ছেলেটা বারবার আমার চোখ ভিজিয়ে দেয়। আমাকে সবচেয়ে বেশী কাঁদিয়েছে আজাদ।

শুধু রোহিঙ্গা ইস্যু না, সব ধরণের মানবিক বিপর্যয়ে দিনের পর দিন, রাতের পর রাত সে এতো পরিশ্রম করে যার মূল্য ভালবাসা দিয়ে শোধ করার সাধ্যও কারো নাই।

তার বাবা চায়ের দোকানদার, অভাবের সংসার, তবুও সে কোনকিছুতে পেছনে ফেরে না। যেখানেই দুর্যোগ সেখানেই আজাদ।

আমি আজাদের দিকে তাকাতে পারি না, কান্না আসে। তার অধিকাংশ শার্ট ছেঁড়া, সেলাই করে পড়ে। এই আজাদের দিকে তাকানোর ক্ষমতা আমার নাই। তাকে টাকা দিলেও সে অন্য কোন ভাল কাজে খরচ করে।

আজাদ তোর কি কোন ভাল শার্ট নাই? আমার সামনে কেন সেলাই করা শার্ট পরে আসিস? আমাকে আর কতো কাঁদাবি?

অথচ ছাত্রলীগের ভেতরের মানবিকতার গল্পগুলো পত্রিকায় পাতায় স্থান পায় না। তাতে কি? পত্রিকায় লেখার জন্য সব গল্প না, কিছু গল্প হৃদয়ে লেখার জন্য।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.