ফিরেই মোস্তাফিজকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে উঠলেন ওয়ালশ

ওয়ান নিউজ ক্রীড়া ডেক্সঃ ‘অন্যতম কঠিন একটা কাজ, তাই না? যদিও আমার মজাই লাগছে’ – মঙ্গলবার সকালে মিরপুরের জিমনেশিয়ামে তোলা একটা ছবি নিজের ভেরফাইড ফেসবুক পেজে আপলোড করে এমনটাই লিখেছেন। তবে ছবির ভাষায় তিনি যাই বোঝানোর চেষ্টা করুন বাস্তবতা ভিন্ন। সময়টা ভালো যাচ্ছেনা কাটার মাস্টারের। সেনসেশনাল এ বোলারের হালের সময়টা খুব উপভোগ্য থাকার কথাও না। নইলে কি আর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শেষে ছুটি কাটিয়ে ফিরেই ফিজকে নিয়ে এমন উঠে-পড়ে লাগতে হয় ফাস্ট বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশকে।

মোস্তাফিজুর রহমান অবশ্য নিজের কথার যুক্তিটা দিতেই পারেন। বলতেই পারেন সময়টা আসলেই উপভোগ করছেন। কারণ তার হয়ে যে ঢাল ধরেছেন ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি ওয়ালশ। ফিজের খবর জানতে চাইলে স্বাভাবিকভাবেই উপস্থিত কজনা সাংবাদিককে অল্প কথায় জানিয়ে দেন, ‘ঠিকই আছে ও। ওর উন্নতিও হচ্ছে ঠিকভাবে।’ সন্তুষ্ট তিনি তার এই বিশেষ প্রতিভার শিষ্যকে নিয়ে? ‘অবশ্যই’- বলে যান টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম বোলার হিসেবে ৫০০ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্বর্ণসময়ের বোলার।

মঙ্গলবার সকালে জিম সেশন শেষ করে সবাই যখন বিশ্রাম নিচ্ছেন বা একটু বিরতি দিয়ে একাডেমি বা ইনডোরের ভেতরে নকিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন খুব সিরিয়াস কেউ,লেন, তখন ইনডোরের পাশের নেটে গুরু ওয়ালশের সাথে খুব মন দিয়ে পাঠ নিতে ব্যস্ত মোস্তাফিজ। ওয়ালশ বুঝিয়ে দিচ্ছেন নানা কিছু। মন দিয়ে শুনছেন। তারপর দুই চার পায়ের রান আপে বলটাকে ছাড়ছেন নির্দেশনা অনুযায়ী। নির্দেশ দিয়ে ট্যাব হাতে ওয়ালশ প্রায় প্রতিটিবার চলে যান অন্যপ্রান্তে। নিজহাতে ভিডিও করেন বোলিং। কখনো চুপচাপ। বোঝা যায়, তার মন মতো ঠিক হলো না। আবার কখনো হাত বা মাথার ইঙ্গিতে জানিয়ে দিচ্ছিলেন, হ্যাঁ, ঠিক করেছো। এটাই করতে বলেছিলাম।

এদিন বেশ সময় নিয়েই মোস্তাফিজকে পর্যবেক্ষণ করে গেছেন ওয়ালশ। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ৪ ম্যাচে মাত্র ১ উইকেট শিকার বাঁহাতি পেস বিস্ময়ের সাথে ঠিক যায় না। গলদ তো কোথাও আছে। ফিজের বিশ্বাস, দেশের মাটিতে তার কাটার বেশি কাজ করে। ইংল্যান্ডের মতো বিদেশের মাটিতে কম। কিন্তু দীর্ঘ ক্যারিয়ারের প্রায় শেষ পর্যন্ত অসাধারণ বল করে যাওয়া ওয়ালশ সম্ভবত তাতে একমত নন। এদিন ফিজকে ক্রিজের ব্যবহার দেখাচ্ছিলেন ওয়ালশ। তিন স্টাম্পকে দুই ভাগে ভাগ করে স্টেপিং ভাগ করাও নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন। দেখাচ্ছিলেন হাত ও মাথার অবস্থান কোথায় থাকবে, কাঁধ কতটুকু ঝুঁকবে।  বলটা ঠিক কোথায় ফেললে চাওয়া মতো ভেতরে ঢুকবে, কতোটা ঢুকবে, কতোটা লাইনে থাকবে এমন ছোটো কিন্তু দারুণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো।

গত বছর কাঁধের ইনজুরির পরই নিজের বোলিংয়ের ধার অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছেন মোস্তাফিজ। বিষয়টা এখন গুরুতর পর্যায়ে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের আগে হাতে সময় তো আছে বেশ এখনো। ওয়ালশ নিশ্চয়ই চাইছেন, এই সময়ের মধ্যে দলের সেরা দুর্বোধ্য অস্ত্রটাকে আবার আগের মতো বা তারো চেয়ে ধারালো করে তুলতে। ফিজও যে ঠিক ওটাই চাইছেন চোখের দেখায় তার গভীর মনোনিবেশ ও চেষ্টার পরের চেষ্টায় বুঝতে ক্রিকেটবোদ্ধা হওয়ার দরকার পড়ে না।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.