“জনগণের চিৎকার চেয়ারম্যান বরাবর পৌছে,প্রধানমন্ত্রী বরাবর নয়”

জে,জাহেদ সাংবাদিক ও কলাম লেখকঃ
কেমন হবে দেশ!এভাবে কি মধ্যআয়ের দেশ হবে নাকি মধ্যবিত্তদের দুঃখ কষ্ট বাদ দিয়ে বিত্তবানেরা ধনবান হলে দেশ হবে উন্নত। যে বিষয়টি নিয়ে আজ কম্পিউটারে লিখতে বসলাম,সেটা কোন কম গুরুত্বপুর্ন বিষয় বলে মনে করিনা। বলতে চেয়েছি কক্সবাজারে প্রতি বছর বেড়ীবাঁধ নির্মাণে সরকারের দেওয়া জরুরী বরাদ্দে উপকূলীয় ৬ লাখ মানুষ কোন উপকার পাচ্ছেনা বলে অভিযোগ উঠেছে মাঠপর্যায়ে। শতাধিক মানুষের মেইল,ফেসবুক ক্ষুদে বার্তায় জর্জরিত আমাদের গনমাধ্যম। কানে দিচ্ছে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে জনপ্রতিনিধি, কিংবা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অসাধু কর্মকর্তারা। যেসব কথা দেশের নাগরিকের কাছে পান্তাভাত। জনগণ সরব হলেও কিছু কাজে আসতেছেনা তার কারণ অনেকটা নীরব রয়েছে পাল তোলা নৌকার বিতর্কিত সব মাঝিরা। স্থানীয় জনগন উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের বরাবরে,এমনকি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে নজরে আনার চেষ্টা করলেও এসব আবেদন নিবেদন সঠিকভাবে প্রধানমন্ত্রী বরাবর পৌছে কিনা সন্দেহ। কারনগুপটি মেরে বসে রয়েছে সুবিধাভোগীরা সব ধরনের চিলে কৌঠায়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রাপ্ত তথ্যসুত্রে জানা যায়,কক্সবাজারে উপকূলীয় এলাকার জানমাল রক্ষার জন্য বরাদ্দ ছিলো ৪২৩ কোটি টাকা। অথচ সব প্রকল্প আর কোটি টাকার টেন্ডারের কাজ মাঠেঘাটে অর্ধমৃত ছাগলের মতো ঝিমিয়ে রয়েছে। সাগরের গর্জন আর মেরি এন ঘূর্নিঝড় আসতে হয় না,সামান্য সতর্ক সংকেতে কলিজায় পানি আসে উপকূলীয় মা বোনের কারন অরক্ষিত বেড়িবাধ। সাগরে নেই পর্যাপ্ত নৌ বাহিনীর টহল,দেশি জেলেদের উদ্ধার করে ভারতীয় জেলে। বলতে চেয়েছি অনেক বেড়িবাধ তৈরি ও সঃস্কারে নেই কোন অগ্রগতি,বরং হাওয়ায় রয়েছে ঠিকাদার। মাঠে কাজের কোন খবর রাখেনা। বেড়িবাধ বিষয়ে কক্সবাজারের বহুল প্রচারিত অনেক দৈনিকে খবর হয়। সে খবরে জেলা প্রশাসক ও অনেক সময় খুঁজে পায়না এসব বেড়িবাধ তৈরি করা ঠিকাদারদের। নোটিশ করে অনেক সময় হাজিরা করাতে হয়। নির্ভরর্শীল আরেকটি তথ্য জানা যায়, মহেশখালি উপজেলায় বর্তমানে ধলঘাটা, মাতারবাড়ি, শাপলাপুর এবং কুতুবদিয়ায় শুধুমাত্র বেড়িবাঁধ এর জন্য জরুরি ভিত্তিতে কাজ চলছে মোট ৩৫ কোটি টাকার সাথে আরো ১৩ কোটি। এর বাইরেও শুধু মাত্র ধলঘাটায় ব্লক প্যাকেজ দিয়ে বেড়িঁবাধের কাজ চলছে আরও ২১ কোটি টাকার মতো। যে কাজের ত্বরান্বিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবর খোলাচিঠি দিয়েছে স্থানীয় জনগন। তারপরেও খোলস পাল্টাচ্ছেনা দুর্নীতিবাজ মনুষ্যত্ববিহীন কিছু অমানুষের। যারা জনগন চিনেনা, জীবন চিনেনা আর্থিক বিষয়কে প্রাধান্য দিচ্ছে। যার প্রতিদান আগামী ভোটে স্বচ্চ আয়নায় দেখতে পাবে। আমাদের কক্সবাজার মহেশখালি নয়, দেশের সমস্ত গ্রামে এ দৃশ্য লক্ষনীয়। সব বড় বড় প্রকল্পে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ভাগ বসিয়েছে ক্ষমতার দাপটে কিংবা সরকারী লাইসেন্স যেমন সাংসদ, মেয়র কিংবা দলীয় নেতার নানা পদবিতে। এমনকি সরকারী দলের নেতাকর্মী হওয়াতে সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুর্নীতিবাজ প্রকল্প অফিসার ও কর্মকর্তারাও। বহু সাংবাদিক জীবন দেয় প্রতিবাদ করতে গিয়ে, কেহ চাকরি হারাচ্ছে সত্য তুলে ধরার কারনে। বড় বিচিত্র পথে স্বপ্ন দেখি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার। যে দেশে যত বেশি দুর্নীতি সে দেশ ততবেশি দুরে উন্নতি থেকে। সেটা কার মাথায় আছে। গ্রাম থেকে উন্নতির ঘন্টা বাজাতে হবে,শহর তো বৃটিশের পুর্বে থেকেও আলোকিত। তেলা মাথায় তেল দেওয়া বন্ধ করে বরং গনমানুষের নেতা হতে চেষ্টা করলে। একদিন স্বীকৃতি পাবে এদেশের নেতারা নেলসন ম্যান্ডেলা,মাহাথির মুহাম্মদ,মহান্ধ গান্ধী উপাধিতে। সময়ের কাজ যদি সময়ে সরকার বুঝে না পায়,তবে কিভাবে প্রকল্পের বাজেট পাশ হয় তা আমার জানা নেই। অনেক প্রকল্প কক্সবাজারের মাঠে শেষ হয়না অথচ ঢাকায় কাগজে শেষ দেখায়। ঠিকাদার সব টাকা উত্তোলন করে বউকে নিয়ে সিংগাপুর চলে যায়। কেউ সাহস করে এসব না বল্লেও কি হবে,সত্য সেটাই এসব দুর্নীতিতে ঠিকাদারেরা সাহস পাচ্ছে একমাত্র সাংসদ ও জনপ্রতিনিধিদের কারনেই। কেননা সরকার পক্ষের লোকদের খুশি করে এসব দুর্নীতিবাজেরা আজ উঠে পড়ে লেগেছে। এ ছাড়া মহেশখালি উপজেলায় একটি বড় প্রকল্পের প্যাকেজ ছিল। যে প্রকল্পের টেন্ডার নিয়েছিলো স্থানীয় এক প্রভাবশালী সাংসদ জনপ্রতিনিধি । পরে লোকসান হচ্ছে মনে করে কাজ করার চেষ্টা করেও করেনি। ফলে ৬৮ কোটি টাকার কাজের টেন্ডার ড্রপ হয়ে যায়। এসব প্রকল্পের কাজ জুনের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও শুরু ও করতে পারেনি। অথচ আজ অবধি কাজটির কোন অগ্রগতি নেই। ফলে এলাকার মানুষ জোয়ার ভাটায় ভাসবে শুধুমাত্র জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব অবহেলার কারনে । কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে যে সব বড় বড় কাজ চলছে তার সবগুলো কাজ শুধু মাত্র নিজ লোক দিয়েই করাচ্ছে জনপ্রতিনিধিরা। এছাড়াও টিআর,কাবিকা এবং কর্মসৃজন প্রকল্প থেকে সুকৌশলে পিআই ও প্রকৌশল অফিস থেকে মাসে ২৫/৩০লাখ টাকা অদৃশ্য পথে লোপাট হচ্ছে। যা স্থানীয় হলুদ চশমা পড়া গনমাধ্যম দেখেও দেখেনা। সাম্প্রতিক সারাদেশের আলোচিত খবর,দেশের সবচেয়ে বড় বাজেটের কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুত কেন্দ্রের ৩০ কোটি টাকার লোটপাটে এডিসি,ডিসি দুদকের জালে জেলে গেলো। কি জানি এই অর্থ কি শুধু সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী নিলো নাকি কাগজে স্বাক্ষর নেই বলে জনপ্রতিনিধিদের মুখোশ খুলেতে পারেনি দুদক। তাইতো গতকাল গনমাধ্যমে দুদক চেয়ারম্যান সরাসরি বলেছেন,”স্বদিচ্ছা থাকলেও স্বাধীন ভাবে কাজ করতে পারছেন না তিনি”। এভাবে প্রতি বছর সরকারের মোটা অংকের টাকা অপচয় হচ্ছে উপকূলীয় এলাকায়। কেউ ৩০ ভাগ কেউবা ৪০ ভাগ কাজ করেই গুটিয়ে নিয়েছেন নিজেদের কার্যক্রম। হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। যার ফলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে উপকুলীয় এলাকা সমুহ আবারো অরক্ষিত থাকছে অথচ উপকূলীয় মানুষের নিরাপত্তা জনিত কারনে বর্তমান সরকার কোটি কোটি টাকার বরাদ্দ দিলেও কাজের গোড়ায় এসে গোল্লায় যাচ্ছে সব। ঠিকাদার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বরাদ্দকৃত টাকা হাতিয়ে নেওয়ায় আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন উপকূলের লোকজন।

গত কয়েকদিন আগে দৈনিক প্রথম আলো ও জাতীয় অনলাইনে একটি প্রতিবেদনে উঠে আসে, মহেশখালি, কুতুবদিয়া,টেকনাফ,সেন্টমার্টিন, ইনানী, ধলঘাটায় যে সামান্য কাজ করা হয়েছে তা একদিকে নিম্নমানের অপরদিকে অর্ধেকেরও চেয়ে কম। ৪/৮টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২৫ ভাগ কাজ করে সবকিছু গুটিয়ে নিয়ে চুপ মেরে আছে। এমনকি খন্দকার শাহীন আহমদ কনস্ট্রাকশন নামে ঠিকাদার ৪ কোটি টাকার কাজের মধ্যে করেছেন মাত্র ১ কোটি টাকার কাজ। যারা কাজ পেয়েছেন তারা সবাই শুধুমাত্র টাকা ভাগ বাটোয়ারা করেছে কিন্তু কাজ করে নি। এ ব্যাপারে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড নাকি কিছুই জানেনা। বেশির ভাগ কক্সবাজারের ৪টি সংসদীয় আসনের সাংসদদের এলাকা ভিত্তিক কোন অফিস নাই। সবাই ব্যবসা প্রতিষ্টানে অফিসে বসে অথচ সরকার থেকে মাসে ১৬হাজার টাকা ঠিকেই অফিস ভাড়া নিচ্ছে। যেখানে জনগনের সাথে সম্পৃক্ততা নেই সেখানে আগামী দিনে কি হবে ভোটের রাজনীতিতে তা জনগন ভালো জানে। আরেকটি বিষয় বলা দরকার বর্তমান সরকার গৃহহীন মানুষের কথা চিন্তা করে অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়েছিলো আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে। যে প্রকল্পটি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে চলমান। যদিও মহেশখালি কুতুবজোমে দুর্নীতির কারনে দুটি আশ্রয়ণ প্রকল্প বন্ধ রয়েছে অথচ প্রশ্ন করা হলে এবিষয়ে স্থানীয় সাংসদকে যিনি জানান, তিনি নাকি কাজ বন্ধ কি সচল সেটাও জানেন না। বড়ই মজার বিষয়। অপরদিকে কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের আশ্রয়ণ প্রকল্প নিয়ে যমুনা টিভিতে দুর্নীতির রিপোর্ট হয়। দফায় দফায় কমিটি হয় কাজ হয়না পরে ডিজিএফআই কতৃক তদন্তপুর্বক দুর্নীতিবাজদের সরিয়ে পুনরায় প্রকল্পের কাজ শুরু করলেও ঝিমিয়ে রয়েছে কচ্চপের গতিতে ক্লান্ত শরীরে প্রকল্পটি। আমাদের নাজিরারটেকের কেরামত চাচা কহে, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর কতৃক পরিচালিত প্রকল্পে যদি এ রকম অবস্থা হয় তাহলে বাকি জায়গায় কি হচ্ছে আলেমুন গায়েব। সত্যিই কি জনগণের চিৎকার চেয়ারম্যান বরাবর পৌছে,প্রধানমন্ত্রী বরাবর নয়”।
জে,জাহেদ ক্ষুদে সাংবাদিক ও লেখক জাতীয় দৈনিক ও জাতীয় অনলাইন।
মেইল zahednews@gmail.com

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.