নাজনীন সরওয়ার কাবেরী কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সততা, নিষ্ঠা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। সম্ভ্রান্ত ও ধর্ণাঢ়্য পরিবারে জন্ম গ্রহণকরা কাবেরী একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ি। তাঁর স্বামী চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পরবর্তীতে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক প্রয়াত আসিফ কামাল চৌধুরী। পিতা মুক্তিযুদ্ধ সংগঠক, ঢাকসুর সাবেক সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক, সমাজ সংস্কারক, কক্সবাজার মহিলা কলেজসহ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী। নাজনীন সরওয়ার কাবেরীর শশুর মুক্তিযুদ্ধ সংগঠক এবং কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রয়াত আবছার কামাল চৌধুরী। কক্সবাজার সদর-৩ আসনে (রামু ও ঈদগাঁও) সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন কর্মকান্ডে সক্রিয় নাজনীন সরওয়ার কাবেরী নির্যাতিত, নিপিড়িত এবং বঞ্চিত মানুষদের মুখপাত্র হিসেবে দেশে পরিচিতি পেয়েছেন। তাঁর বর্ণাঢ়্য কর্মজীবন তুলে ধরেছেন মো. নেজাম উদ্দিন।
কক্সবাজারে নাজনীন সরওয়ার কাবেরী যেই বাড়িতে বসবাস করতেন সেই বাড়িতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চার নেতা এসেছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় নাজনীন সরওয়ার কাবেরীর পৈত্রিক বসতবাড়ি এবং তাঁর শশুরের বসতবাড়ি পাক হানাদার বহিনী আগুনে পুড়িয়ে দেয়। যুদ্ধ চলাকালিন মুক্তিযোদ্ধা সংগ্রাম কমিটির প্রধান ছিলেন প্রয়াত আবছার কামাল চৌধুরী। মধুচন্দ্রিয়াম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও এম এ ওয়াজেদ মিয়া কক্সবাজারে বেড়াতে আসেন। প্রায় এক কিলোমিটার কাদামাখা পথ পায়ে হেঁটে তারা প্রয়াত ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরীর বাড়িতে ওঠেন। এম এ ওয়াজেদ মিয়ার কাদামাখা জুতা ও পোশাক অকেকেই পরিস্কার করার ইচ্ছা পোষণ করলেও কাদামাখা জুতা ও কাপড় তাঁর স্ত্রী নিজের হাতে পরিস্কার করেন। মধুচন্দ্রিমায় বেড়াতে গিয়েও প্রয়াত ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরীর মাতার সেবা-যতœ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেবা-যতœ এবং ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে সরওয়ার আলম চৌধুরীর মাতা বলেছিলেন, ‘আমি শেখকে দেখিনি। কিন্তু শেখের কন্যাকে দেখে আমার শেখকে দেখা হয়ে গেছে। তিনি তার পুত্রকে শেখের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনেই জীবন উৎসর্গ করতে নির্দেশ দেন।
১৯৭০ সালে গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেন সরওয়ার আলম চৌধুরী। সেই বছর নির্বাচনে কক্সবাজার থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন তিনি। কক্সবাজারে প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ করেন সরওয়ার আলম চৌধুরী। কক্সবাজার জেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা তিনি।
স্কুল জীবন থেকে সাংস্কৃতিক বিভিন্ন কর্মকান্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন নাজনীন সরওয়ার কাবেরী। শিশু কাবেরী বঙ্গবন্ধুর সামনে নাটকে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে জাতির পিতার মন কাড়েন। পরম মমতায় বঙ্গবন্ধু তাকে কোলে তুলে নেন। তিনি লেখাপড়া শেষ করেন চট্টগ্রাম কলেজ থেকে। কলেজে থাকাকালীন সেই কলেজের তুখোর ছাত্রলীগ নেতা আসিফ কামাল চৌধুরীর সঙ্গে প্রণয় থেকে পারিবারিক আয়োজনে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তারা।
স্কুলছাত্রী থাকাবস্থায় আবৃত্তিতে সারা দেশে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন নাজনীন সরওয়ার কাবেরী। চট্টগ্রাম কলেজে লেখাপড়া অবস্থায় স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েন তিনি। মহিউদ্দিন চৌধুরীর অত্যন্ত ¯েœহভাজন ছিলেন আসিফ কামাল চৌধুরী। বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর সর্বমোট ৮ বার কারাগারে যেতে হয় তাকে। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নাজনীন সরওয়ার কাবেরী গ্রেফতার হন। তাঁর মুক্তির দাবিতে আন্দোলন ও হরতাল ডাকা হয়। সাংসারিক জীবনে মানবিক স্বামীর সঙ্গী হয়ে সমাজ সংস্কারে মনোনিবেশ করেন তিনি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজারে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর আকস্মিক মৃত্যুবরণ করেন আসিফ কামাল চৌধুরী।
তাঁর মৃত্যু পরবর্তী শিশু তিন সন্তানকে নিয়ে নতুন জীবন সংগ্রাম শুরু করেন নাজনীন সরওয়ার কাবেরী। একদিকে সন্তানদের পিতা ও দাদা-নানার আদর্শে গড়ে তোলা। অন্যদিকে, সমাজ সংস্কারের পাশাপাশি নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার লড়াই। শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার স্বামীর অসম্পুর্ণ স্বপ্ন পূরণে নিরলস শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। রাজনীতির পাশাপাশি স্বামীর রেখে যাওয়া বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সফলতার সাথে পরিচালনা করছেন তিনি। অল্প দিনে হয়ে ওঠেন সফল ব্যবসায়ি। স্বামীর মৃত্যুর পর ২০০৮ সালে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পান তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রয়াত সৈয়দ আশরাফের ইচ্ছা এবং নির্দেশনায় তাকে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগে সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে প্রয়াত স্বামীর স্থলাভিষিক্ত করা হয়। সাংগঠনিক দক্ষতা, সততা এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত নাজনীন সরওয়ার কাবেরীকে গত পাঁচ বছর আগে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। কক্সবাজারে যেখানেই অন্যায় হয়েছে, অবিচার হয়েছে, সমাজ সংস্কারের প্রয়োজন হয়েছে, সেখানেই সমাধানে নাজনীন সরওয়ার কাবেরীর সরব উপস্থিতি আশার আলো জালিয়েছে। তৃণমূলের সঙ্গে মিশে যাওয়া নয়। তৃণমূলের মানুষের অধিকার আদায়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। সুবিচার নিশ্চিতেও তাঁর অনবদ্য লড়াই দৃষ্টি কেড়েছে মানবাধিকার সংগঠন, সুশিল সমাজ এবং সর্বস্তরের মানুষের। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর খুব কাছের হয়েও কখনো তাঁর কাছে কিছুই চাননি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েও ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামী জীবনে নিজেকে গড়ে তুলেছেন দক্ষ সংগঠক হিসেবে।
নাজনীন সরওয়ার কাবেরী তৃণমূলে সাধারণ জনগণের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা হয়েছে সর্বস্তরে। আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তির খবর পেতে যেন উদগ্রীব হয়ে আছে কক্সবাজার সদর-৩ আসনের (রামু ও ঈদগাঁও) সর্বস্তরের জনগণ। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন বার্তা তিনি ঘরে ঘরে পৌছে দিচ্ছেন। শহর থেকে গ্রামে উঠান বৈঠকগুলোতে এলাকার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের পথ খুঁজে বাস্তবায়নে কাজ করছেন তিনি। তিনি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারতেন। তাকে নেতৃত্বের একজন হিসেবে পেতে মুখিয়ে আছে বহু সংগঠন। তবে মানবাধিকার আদায়, উন্নয়ন ও সুখ-সমৃদ্ধির জন্য দেশের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন ত্যাগী কর্মী হয়ে থাকতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। দেশের অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তি বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তাঁর চিন্তাধারা ভিন্ন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তির পর নির্বাচনের আগেই আসিফ কামাল চৌধুরী মৃত্যুবরণ করেন। সে সময় নাজনীন সরওয়ার কাবেরীর বড় ভাই সাইমুম সরওয়ার কমল নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে নাজনীন সরওয়ার কাবেরী দলীয় মনোনয়ন পান। যদিও সেই নির্বাচনে তিনি অংশগ্রহণ না করে তার দুই ভাইয়ের যেকোন একজনকে দলীয় মনোনয়ন দিতে অনুরোধ করেন। মূলত, পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখতেই তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। তাঁর এই ত্যাগ সাধারণ মানুষের মনে সেই সময় দাগ কাটে। যদিও নাজনীন সরওয়ার কাবেরীর বিকল্প হিসেবে তার দুই ভাইয়ের কাউকে দলীয় মনোনয়ন দেয়নি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। পরবর্তীতে কানিজ ফাতেমা বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন পেলেও তার প্রার্থীতা বাতিল হয়। সেই নির্বাচনে নাজনীন সরওয়ার কাবেরীর বড় ভাই সাইমুম সরওয়ার কমল জয়লাভ করেন। বিগত দিনে নাজনীন সরওয়ার কাবেরীর দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তির নেপথ্যে ছিল তার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা। তাঁর লক্ষ্য দীর্ঘ পরিক্রমায় রাজনীতি করা। পরিবারের বন্ধন অটুট রাখা। বংশের মান-মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখা। তিনি ছাড় দিতে শিখেছেন পিতা ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরীর কাছ থেকে। নির্লোভ রাজনীতির মাঠে হাঁটতে শিখেছেন স্বামী আসিফ কামাল চৌধুরীর হাত ধরে। ছাড় দিয়ে তিনি পিছিয়ে যাননি। বরংচ, নিজেকে আরো যোগ্য সংগঠক হিসেবে গড়ে তুলেছেন।
আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি দলীয় মনোনয়ন চাইবেন না। যদিও সরকারের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে কক্সবাজার-৩ আসনে তার বিকল্প কেউ নেই বলে মনে করছে দলীয় নেতাকর্মীসহ তৃণমূলের জনগণ। টেকনাফে ওসি প্রদীপ কেলেঙ্কারিতে পুলিশ সংস্কারের দাবিতে কঠোর অবস্থানে ছিলেন নাজনীন সরওয়ার কাবেরী। তাঁর অনড় দাবিতে কক্সবাজার পুলিশে ব্যাপক রদবদল হয়। পরীক্ষিত পুলিশ সদস্যদের পোস্টিং হয় কক্সবাজারে। কক্সবাজার পর্যটন শিল্প রক্ষা, ব্যবসায়িদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এমনকি মৎসজীবীদের নিত্য প্রয়োজনীয় বরফের দার বৃদ্ধির প্রতিবাদে সরব হয়ে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। তাঁর সাহসীকতা ও দুরদর্শীতায় বরফের দাম তিনগুণ বৃদ্ধির চক্রান্ত ভেস্তে যায় সিন্ডিকেটের।
সরকারের উন্নয়ন বিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে নাজনীন সরওয়ার কাবেরী। যেমন তিনি সরব মাঠে, তেমনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। স্বাধীনতা বিরোধী সক্রিয় চক্রের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানে তিনি। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অক্ষুন্ন রাখতে এবং উন্নয়ন বিরোধী অপশক্তির অপচেষ্টা প্রতিরোধে তিনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
কক্সবাজার-৩ আসনের মতো জটিল ও কঠিন একটি সংসদীয় আসনে তৃণমূল থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ে রাজনীতি করছেন কাবেরী। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ, পিতার শিক্ষাদিক্ষা এবং স্বামীর অপূর্ণ ইচ্ছাগুলো পূরণে অদস্য সাহসীকতায় তিনি এগিয়ে চলছেন।
নাজনীন সরওয়ার কাবেরী বলেন, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে মাত্র একটি ছবিকে পুঁজি করে কেউ কেউ উপরে উপরে আওয়ামী লীগের জন্য দরদ দেখান। ব্যক্তি কিংবা পারিবারিক স্বার্থ চরিতার্থ না হলে দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে দলের বিরুদ্ধে কেউ কেউ গোপনে কাজ করেন। নিজ ঘরেই সিঁধ কাটা এমন ব্যক্তিদের নিয়ে আমার মাথা বেথা নেই। তাদের নিয়ে দুশ্চিন্তাও হয় না। জনগণ তাদের চেনে। তাদের নিয়ে মাথা ঘামানোর চাইতে মানবসেবা ও সমাজ সংস্কার করা উত্তম। নির্লোভ রাজনীতি করে আসছি। এক সময় চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগে যোগদান করে রাজনৈতিক জীবন শুরু করি। পরবর্তীতে কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগকে আরো সুসংগঠিত করেছি। কখনো দলের বিরুদ্ধে যায়নি। দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যাইনি। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করিনি। দলের সাথে মুনাফিকি করে এমন ব্যক্তিদের প্রকাশ্যে তিরস্কার করে যাচ্ছি। আমি কি পদে আছি, কি পদ পেলাম, দলীয় মনোনয়ন পাবো কি নাÑ এমন ভাবনা কখনো মাথায় আসে না। দলকে আমি কি দিচ্ছি এবং কক্সবাজারবাসীর জন্য আমি কি করতে পারছি এটি আমার কাছে মূখ্য বিষয়। আমি প্রকাশ্যে বলি, আওয়ামী লীগ যদি কক্সবাজার-৩ আসনে সেরাপ্রার্থীকে মনোনয়ন না দেয় তবে সাধারণ মানুষ নির্যাতিত হবে। যোগ্য ব্যক্তি ভোটে নির্বাচিত হোক। জনগণের দোড় গড়ায় কিভাবে পৌছাতে হয় আমি জানি। জনগণ আমাকে বিশ^াস করে তাদের হৃদয়ে ঠাই দিয়েছে। জনগণ জানে, তারা ভুল মানুষকে নির্বাচন করেনি। জনগণের প্রতি আমার যেমন আস্থা আছে, তেমনি আমার উপর জনগণের আস্থা আছে। কক্সবাজার-৩ আসনে আমার বিকল্প আওমীলীগে শুধু নয়। অন্য দলগুলোতে আছে কি না সেটি জনগণ জানে। আমি বহু পথ হেঁটে, সততার সাথে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন-পালন করে সরকারের উন্নয়ন বার্তা ঘরে ঘরে পৌছে দিচ্ছি। দলের প্রতি আমার যেমন দরদ আছে, তেমনি মানুষের সুবিচার নিশ্চিতের বিষয়ে আমি বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে রাজি নই।
তিনি আরো বলে, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সর্বদা ত্যাগী নেতাকর্মীদের সনাক্ত করে। এতে ভুল হয় না। আমি জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেছি। আমার শশুরবাড়ির আতœীয়-স্বজন বিপুল পরিমাণ অর্থ বৈভবের মালিক। যদিও এসবে আমার কিছু আসে যায় না। আমি মানুষের ভালোবাসা খুঁজি। মানুষও আমাকে খোঁজে। রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি ব্যক্তি আমার আমিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছি। প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নিতে কখনো ভুল করেন না। প্রধানমন্ত্রীর মতো আমি দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি, ‘আমাকে কেউ কখনো কিনতে পারবে না।’ আমি কখনো আদর্শের কাছে হার মানিনি। আমার বড় ভাই সংসদ সদস্য। আর এক ভাই উপজেলা চেয়ারম্যান। কখনো কোন সুযোগ সুবিধা নেইনি। আমি যেমন দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি তেমনি জনগণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। গত ১৪ বছরে অনেকেই অনেক কিছুই করেছেন। আমি শুধু জনগণের ভালোবাসা চেয়েছি এবং পেয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার বহুবার কথা হয়েছে, দেখা হয়েছে। তাঁর কাছে কিছুই চাইনি। কখনো চাইবো না। তিনি বিচক্ষণ। তিনি সব বোঝেন। আমি শোষণমুক্ত একটি সমাজ গড়তে চাই। যেখানে কোন অবিচার থাকবে না। আমরা যেমন উন্নয়ন পাচ্ছি তেমনি সুবিচার নিশ্চিতে আরো কঠোর অবস্থানে যেতে হবে। দল-মত নির্বিশেষে অসহায়দের পক্ষে দাঁড়াতে হবে। একদিকে যেমন উন্নয়ন হবে, অন্যদিকে শোষণমুক্ত সমাজে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.