‘আবুল হোসেনের সম্মান ফিরিয়ে না দিলে ইতিহাস ক্ষমা করবে না’
তরুণ রাজনীতিবিদ গোলাম মওলা রনি পদ্মা সেতু দুর্নীতি মামলায় সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন সম্পর্কে লিখেছেন, আমরা সকলে মিলে আবুল হোসেন সাহেবের যে ক্ষতি সাধন করেছি এবং তাকে অপমানিত ও লাঞ্চিত করেছি তার জন্য যদি আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা না করি তাহলে মুসলমান হিসেবে আমরা অবশ্যই দায় এড়াতে পারবো না। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ এবং বর্তমান সরকার যদি জনাব আবুল হোসেনের প্রাপ্য সম্মান ও মর্যাদাটুকু ফিরিয়ে দেবার চেষ্টা না করে তবে মহাকালের ইতিহাস তাদেরকে কোনদিন ক্ষমা করবে না।
রোববার দুপুরে ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে এ কথা বলেন তিনি। স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হল:
জনাব হোসেনের সেই সুদিনে তার শত স্তাবকেরা সকল প্রশংসা এড়িয়ে প্রকাশ্যে তার কিছু কর্মের গঠন মূলক সমালোচনা করার পরও তিনি কোনদিন আমায় মন্দ চোখে দেখেননি। বরং গণতান্ত্রিক মন মানসিকতা নিয়ে আমার সমালোচনা শুনতেন এবং সাধ্যমতো জবাব দেয়ার চেষ্টা করতেন। দেখা সাক্ষাৎ হলে তিনি বিনয়ী আচরণ করতেন এবং হাসিমুখে করমর্দন করতেন। আমার সেই সময়কার কিছু সমালোচনাকে কিছু সংবাদপত্র এবং সরকার বিরোধী চক্র জনাব আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে এমন ভাবে প্রচার করতে থাকে যাতে করে তিনি নিজে যেমন বিব্রত হতেন তেমনি আমাকেও পড়তে হতো বিরূপ পরিস্থিতিতে। তার তথাকথিত শুভানুধ্যায়ীরা একদিকে যেমন আমাকে উৎসাহিত করতেন অন্যদিকে তার নিকট গিয়ে তাকে আমার বিরুদ্ধে উত্তেজিত করে তুলতেন।

আমি বুঝতাম যে, যোগাযোগ মন্ত্রী আমার প্রতি যার পর নাই বিরক্ত। কিন্তু আমি অবাক হতাম তার বিনয় ও ভদ্রতার মাত্রা দেখে। তিনি সব সময়ই আগ বাড়িয়ে আমার প্রতি সৌজন্যতা দেখাতেন। এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেলো পদ্মা সেতুর তথা কথিত দুর্নীতি এবং হাসান-হোসেনের কল্পিত কাহিনীর নিষ্ঠুর মঞ্চায়ন। দুর্নীতি দমন কমিশন, দেশী বিদেশী কয়েকটি সংবাদপত্র এবং কিছু টকশোর বক্তা সমন্বিতভাবে পুরো পরিস্থিতি এমনতরো জটিল বানিয়ে ফেললো যাতে করে একজন অবোধ বালক থেকে শুরু করে তথাকথিত পন্ডিত প্রবরেরাও সমস্বরে পদ্মা সেতুর দুর্নীতি নিয়ে গলা ফাটাতে আরম্ভ করলেন। এ অবস্থায় সরকারের মধ্যে সৈয়দ আবুল হোসেন একঘরে হয়ে পড়লেন। তার তথাকথিত শুভার্থীরা তাঁকে ছেড়ে উধাও হয়ে গেলো। তার মন্ত্রিত্ব তখন যায় যায় অবস্থা এবং তিনি প্রায় গ্রেফতার হওয়ার পর্যায়ে পৌছে গেলেন।
জনাব আবুল হোসেনের সেই দুর্দিনে আমি প্রকাশ্যে সকল মিডিয়াতে গলা ফাটিয়ে বলেছিলাম যে- পদ্মা সেতুতে দুর্নীতি হয়নি এবং আবুল হোসেন নির্দোষ। তাকে নিয়ে কয়েকটি সম্পাদকীয় ও লিখেছিলাম। ফলে আবুল হোসেন বিরোধীদের উচুঁ গলা কিছুটা হলেও নীচু হতে বাধ্য হয়।
সময়ের বিবর্তনে প্রমানিত হয়েছে যে, জনাব আবুল হোসেন নির্দোষ এবং পদ্মা সেতুতে কোন দুর্নীতি হয়নি। সুতরাং আমাদের সকলের উচিত জনাব আবুল হোসেনের প্রতি মিথ্যা অপবাদের কারণে যে জুলুম হয়েছে তার ক্ষতি পুষিয়ে দেয়ার জন্য তাকে যথাযথভাবে সম্মানিত করা।
একজন মানুষের ওপর মিথ্যা অপবাদ দেয়া হলে তার শরীর মন, পরিবার-পরিজন, ব্যবসা বাণিজ্য এবং সমাজ সংসারের ওপর কি পরিমান জুলুম হয় তা কেবল ভুক্তভোগীরাই বুঝতে পারেন। আমরা সকলে মিলে আবুল হোসেন সাহেবের যে ক্ষতি সাধন করেছি এবং তাকে অপমানিত ও লাঞ্চিত করেছি তার জন্য যদি আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা না করি তাহলে মুসলমান হিসেবে আমরা অবশ্যই দায় এড়াতে পারবো না। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ এবং বর্তমান সরকার যদি জনাব আবুল হোসেনের প্রাপ্য সম্মান ও মর্যাদাটুকু ফিরিয়ে দেবার চেষ্টা না করে তবে মহাকালের ইতিহাস তাদেরকে কোনদিন ক্ষমা করবে না।’

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.