চকরিয়ার লোকালয়ে বন্যহাতির পাল

এ কে এম ইকবাল ফারুক, চকরিয়া:
চকরিয়ায় খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে নেমে এসেছে একদল বন্যহাতি। শুক্রবার (২৭ আগস্ট) সকালে উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের ‘ছেঁড়া মোড়া’ নামক পাহাড়ে হাতিগুলোকে সারিবদ্ধভাবে বিচরণ করতে দেখা যায়। হাতির পাল দেখতে গিয়ে একইদিন বেলা ১১টার দিকে ছিরা মুরা এলাকায় বন্যহাতির আক্রমনে মো. সফুর আলম (৩০) নামে এক পথচারী যুবক আহত হয়েছে। তাকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আহত সফুর আলম উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের পূর্ব কাকারা বেপারীপাড়া এলাকার মো.আবুল কাশেমের ছেলে। এদিকে বন্যহাতির দল লোকালয়ে ঢুকে পড়লে স্থানীয় এলাকাবাসীর মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় লোকজন জানায়, শুক্রবার সকাল থেকে একদল বন্যহাতি সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের ‘ছেঁড়া মোড়া’ এলাকায় দল বেঁধে ঘুরাঘুরি শুরু করে। পরে স্থানীয় উৎসুক জনতা হাতির দলকে তাড়াড়ে পেছনে ধাওয়া করলে হাতির পাল বিচ্ছিন্ন হয়ে দ্বিকবিধিক ছুটাছুটি করতে থাকে। এ সময় একটি ক্ষুদ্ধ হাতির আক্রমনের শিকার হয়ে সফুর আলম নামের এক পথচারী যুবক আহত হয়।

সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য নুরুল আমিন বলেন, শুক্রবার সকালে পাহাড় থেকে একটি বড় বন্যহাতির দল খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এই দলে শাবকসহ অন্তত ২০/২২টি বন্যহাতি রয়েছে। এ সময় হাতির দল কৃষকের রোপিত ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে। হঠাৎ করে বন্যহাতির দল লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।।

 

সুরাজপুর -মানিকপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম বলেন, এখানকার পাহাড়ে হাতির আবাসস্থল রয়েছে। এসব হাতি কখনো একা, কখনো দলবেঁধে চলাচল করে। তবে এতো বড় হাতির পাল এভাবে সারিবদ্ধভাবে চলার দৃশ্য স্থানীয়রা আগে কখনো দেখেনি। ‘হয়তো ভারি বর্ষণের কারণে পাহাড়ে হাতির আবাসস্থল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তাই ঠিকানা বদলাতে এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ের হাতিগুলো বিচরণ করছে।

স্থাণীয় মানিকপুর বনবিট কর্মকর্তা (ফরেষ্টার) সাইফুল ইসলাম বলেন, হতির পাল খাবারের সন্ধানে পাহাড় সংলগ্ন লোকালয়ে চলে এসেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব হাতি ‘ছেঁড়া মোড়া’ এলাকায় অবস্থান করছে। হাতিগুলোকে তাড়ানোর চেষ্ঠা চলছে। সন্ধ্যার পর হাতির পাল পাহাড়ের দিকে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.