পর্নো ব্যবসা ও আন্ডারওয়ার্ল্ডে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাজের

ডেস্ক নিউজ:
বলিউড নায়িকা শিল্পা শেঠির স্বামী রাজ কুন্দ্রার মতো ঢাকার কথিত প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পর্নো ভিডিও তৈরি করতেন বলে ধারণা করছে র‌্যাবের কর্মকর্তারা। গ্রেফতারের পর তার মোবাইলে অসংখ্য পর্নো ভিডিও পেয়েছেন তারা। ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে এসব ভিডিও রাজ বিদেশে রফতানি করতেন কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, নজরুল ইসলাম রাজের মোবাইলে অনেক পর্নো ভিডিও পাওয়া গেছে। এছাড়া সে অল্প বয়সী তরুণীদের ব্যবহার করে অনৈতিক ও অবৈধভাবে অর্থ আয় করতেন। তার এসব অবৈধ আয় বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন। তার সহযোগী হিসেবে আমরা বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করেছি। তাদের বিষয়েও অনুসন্ধান চলছে।

র‌্যাব সূত্র জানায়, অভিযানের সময় রাজের বনানীর ৭ নম্বর সড়কের ৪১ নম্বর বাসায় গিয়ে আভিযানিক দলের সদস্যরা বিস্মিত হয়ে যান। তার বাসাটি স্টুডিও বা প্রোডাকশন হাউজ হিসেবে ব্যবহার করা হলেও এর একটি কক্ষে বিকৃত যৌনাচারের এমন কিছু উপকরণ পাওয়া গেছে; যাতে স্পষ্ট বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে তিনি সেখানে পর্নো ভিডিও ধারণ করতেন। এজন্য তার কার্যালয়ের কম্পিউটারটিও জব্দ করা হয়েছে। এসব ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষা করার পর বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।

সূত্র জানায়, খুলনা থেকে ঢাকায় এসে নজরুল ইসলাম রাজ একজন প্রবীণ রাজনীতিকের ছত্রছায়ায় প্রথমে ঠিকাদারিসহ ছোটখাটো ব্যবসা শুরু করেন। এরপর শোবিজ মিডিয়ায় অর্থ লগ্নি শুরু করেন। মিডিয়ায় মূলত তার টার্গেট ছিল মডেল হওয়ার আশায় গ্রাম থেকে আসা তরুণীদের অনৈতিকভাবে ব্যবহার করা। এছাড়া পার্টির আয়োজন করে শিল্পপতি ও ক্ষমতাশালী ব্যক্তিবর্গকে ‘এসকর্ট’ সহযোগিতা করে বিভিন্ন কাজ বাগিয়ে নেওয়া।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, একটি বিশেষ জেলার পরিচয় দেওয়া রাজের সঙ্গে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীদের নিবিড় যোগাযোগ ছিল। দেশের বাইরে আত্মগোপনে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অনেকেই রাজের মাধ্যমে চলচ্চিত্র নায়িকা ও মডেলদের ‘বিশেষ সঙ্গ’ নিতেন।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.