‘ত্ব-হার অপরাধ থাকলে বিচার করুন, তবুও ফিরিয়ে দিন’

ডেস্ক নিউজ:
এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে নিখোঁজ ধর্মীয় বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানকে খুঁজে দিতে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা-বাহিনীর প্রতি আকুতি জানিয়েছেন স্ত্রী সাবিকুন্নাহার। ত্ব-হা কোনো অপরাধ করে থাকলে তাকে উপস্থিত করে বিচার করা হোক, তবুও তাকে এভাবে নিখোঁজ না রাখার দাবি জানান তিনি। বলেন, চারজন মানুষকে গাড়িসহ উধাও করে নিয়ে যাওয়া কোনো প্রাইভেট কাজ নয়।

বুধবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সাবিকুন্নাহার।

ত্বহার স্ত্রী বলেন, ‘যদি সত্যিকার অর্থে তিনি কোনো অপরাধে যুক্ত থাকেন তাহলে রাষ্ট্রীয় আইনে তার বিচার হোক। আমি কিছু বলব না। সে নিরীহ মানুষ, ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে। আমাকে তার কাছে পৌঁছে দিন। না হয় তাকে আমার কাছে ফিরিয়ে দিন। তার জন্য আমি নামাজও ঠিক মত আদায় করতে পারছি না।’

রংপুর থেকে ঢাকা ফেরার পথে আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানসহ চারজন গত ৮ জুন থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তার সন্ধান চেয়ে রংপুর সদর থানায় ১১ জুন রাতে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন মা।

খুতবা ও বক্তব্যে জিও পলিটিক্স নিয়ে কথা বলতেন আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান। ফিলিস্তিন-ইসরাইল ইস্যুতে কথা বলতেন ত্ব-হা। তাহলে জিও পলিটিক্স নিয়ে কথা বলাই ত্ব-হার জন্য কাল হলো কি না সন্দেহ পোষণ করে স্ত্রী বলেন, আমার মনে এখন অনেক কিছু মনে হয়। তিনি জিও পলিটিক্স নিয়ে কথা বলতেন। ইন্টারন্যাশনাল গোয়েন্দাদের বিষয় হতে পারে।

ফিলিস্তিন-ইসরাইল ইস্যুতে কী কথা বলতেন- এমন প্রশ্নে জবাবে ত্বহার স্ত্রী সাবিকুন্নাহার বলেন, ‘আমরা মুসলিমরা সবাই আল-আসকাকে ভালোবাসি। তাই ইসরাইল মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের সময় তিনি মুসলিম ভাইদের পক্ষে কথা বলেছিলেন।’ ত্বহা কোনো দল বা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নয় বলেও জানান তিনি।

ঘটনার বিবরণ জানতে চাইলে ত্বহার স্ত্রী সাবিকুন্নাহার বলেন, ‘বিকাল তিনটার দিকে বগুড়ার একটি প্রোগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন ত্ব-হা তার দুই সহযোগী ও প্রাইভেটকার চালক আমির। উদ্দেশ্য ছিল প্রোগ্রাম শেষে তিনি ঢাকায় আমার কাছে আসেবন। কিন্তু বিকাল চারটার দিকে আমি তাকে ফোন করে বলি- রাতে বাসায় ফিরে কী খাবে? কী রান্না করবো? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি রেগে যান আমার উপরে। রেগে গিয়ে ত্ব-হা বলেন- আমাদের প্রাইভেটকারের পেছনে দুটি বাইক আমাদেরকে ফলো করছে। আমার জন্য দোয়া করো, আমি যেন ঠিকভাবে বাসায় পৌঁছাতে পারি। এর কিছুক্ষণ পরে তিনি নিজেই আমাকে ফোন করে বলেন, বাইক দুটি আর দেখা যাচ্ছে না। তুমি রান্না করো, আমরা চারজন বাসায় এসে ভাত খাবো।’

ত্ব-হার স্ত্রী বলেন, তার সঙ্গে যখনই কথা হয় তখনই তিনি লোকেশনসহ আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে স্ক্রিনশট পাঠান। ওইদিনও একাধিকবার আমাকে লোকেশন পাঠিয়েছেন। রাত দুইটার দিকে সর্বশেষ আমি তাকে ফোন করি। কিন্তু সে ঘুমানোর কারণে আমার ফোন রিসিভ করতে পারেনি। ঘুম ভাঙার পরে রাত ২টা ৩৭ মিনিটে একটা ম্যাপ শেয়ার করেন। তখন আমি ঘুমাচ্ছিলাম। এরপর তার ম্যাসেজ দেখে ঘুম থেকে উঠে তার খাবারের ব্যবস্থা করতে যাই। তার ম্যাপে দেখাচ্ছিল বাসায় পৌঁছাতে ১৮ মিনিট সময় লাগবে। এরপর অপেক্ষা করতে করতে রাত ৩ টার দিকে তার নম্বরে ফোন করি। কিন্তু তখন থেকেই তার মোবাইল বন্ধ পাই। এরপর প্রাইভেটকার চালক আমিরের নম্বরে ফোন করি। তার মোবাইলও বন্ধ পাই। তখন আমার কাছে সন্দেহ হয়। এভাবে অপেক্ষা করতে করতে ভোর ৫টা বেজে যায়।

এর আগে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেছিল কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, না, এর আগে কখনো এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি কিংবা কখনো বলেওনি। তবে তিনি মজসিদে খুতবা বা লেকচারে যেত। তখন মাঝে মাঝে কিছু ঝামেলার সম্মুখীন তিনি হতেন বলে আমাকে বলতেন। এ বিষয়গুলো তিনি তার লেকচারেও তুলে ধরেছেন।

কাউকে সন্দেহ করছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারো প্রতি কোনো ধরনের আমাদের অভিযোগ নেই। অনেক সময় তার প্রতি বিরুপ মন্তব্য করতেন, অনেক রকমের কথা বলতেন। এজন্য কোনো প্রেসার এলো কি না তা বলতে পারছি না। আবার কখনও মনে হয় তিনি জিও পলিটিক্যালের কথা বলতেন, পলিটিক্যাল সায়েন্স নিয়ে আলোচনা করতেন।

ত্ব-হার অন্তর্ধান হয়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক কোনো গোয়েন্দা সংস্থার কাজ কি-না তা নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেন সাবিকুন্নাহার। বলেন, চারজন মানুষকে গাড়িসহ উধাও করে নিয়ে যাওয়া কোনো প্রাইভেট কাজ নয়।

স্ত্রী জানান, ত্ব-হা ফিলোসফিতে মাস্টার্স করেছেন এবং সালাফি মাদ্রাসা থেকে আরবিতে অনেক শিক্ষকের থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু সালাফি, হাম্বলি, কওমি, দেওবন্দি কিংবা আহালে হাদিসের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না তার।

‘তিনি সংকীর্ণ মনের ছিলেন না। হকটা সব জায়গা থেকে গ্রহণ করতেন এবং প্রচুর পড়াশোনা করতেন। বিশেষ করে মুফতি ত্বকি উসমানির (পাকিস্তানের বিখ্যাত সুন্নি ফকিহ ও সাবেক চিফ জাস্টিস) বইগুলো বেশি পড়তেন। এছাড়াও বিদেশি লেখকদের বইও তিনি পড়তেন। তার ব্যাকগ্রাউন্ড ছিল জেনারেল।’

ত্বহাকে নিরীহ উল্লেখ করে স্ত্রী সাবিকুন্নাহার বলেন, আমি এবং কিছু যুবক ছাড়া তার পাশে কেউ নেই।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.