আবুল কালাম, চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রামে ৯৯৯ এর মাধ্যমে অভিযোগ পেয়ে খুলশী থানাধীন দক্ষিণ খুলশী ১ নং রােড, তামান্না বিল্ডিং (লিফটের ৮ম তলা), ব্লক-সি ফ্ল্যাটের ভিতর থেকে একজন নির্যাতিতা গৃহবধূকে উদ্ধার করে খুলশী থানা পুলিশ।
৯৯৯ এ অভিযোগ পেয়ে শনিবার (২৯ মে) খুলশী থানার অফিসার ইনচার্জ মােহাম্মদ শাহীনুজ্জামানের নির্দেশে ভিকটিমকে উদ্ধার এবং স্বামী মােঃ মুজিবুর রহমানকে আটক করে।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, গার্মেন্টসে চাকুরী সুবাদে ভিকটিমের সাথে পরিচয় হয় মােঃ মুজিবুর রহমানের এবং প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরবর্তীতে তারা পরিবারের সদস্যদের অজান্তে গত ১০/০২/২০২১ইং তারিখ বিয়ে করে।
কিন্তু বিয়ের পরও মােঃ মুজিবুর রহমানের সাথে একাধিক নারীর সাথে যােগাযােগ থাকায় ভিকটিম উক্ত বিষয়ে আপত্তি জানায়। এতে সে ভিকটিমকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে এবং ভিকটিমের বাবাকে ফোন করে যৌতুক বাবদ নগদ ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা দাবী করে।
এতে ভিকটিমের বাবা তার মেয়ের সংসার টিকানাের জন্য বিবাদীকে দুই দফা দশ হাজার টাকা করে মােট ২০,০০০/- (বিশ হাজার) টাকা প্রেরণ করেন। কিন্তু কিছুদিন পর মােঃ মুজিবুর রহমান পুনরায় ভিকটিমের বাবাকে ফোন করে যৌতুক দাবী করলে তার বাবা যৌতুক দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
এতে বিবাদী ক্ষিপ্ত হয়ে বাসায় থাকা কাপড় ইস্ত্রি করার আয়রন, বৈদ্যুতিক তার, লোহার পাইপ ইত্যাদি দ্বারা আঘাত করে ভিকটিমকে মারাত্মক আহত করে। মারধরের পর উক্ত বিবাদী ভিকটিমকে কোনরূপ চিকিৎসা না দিয়ে বাসায় আটকে রাখে এবং মোবাইল ফোনও নিয়ে নেয়। এতে চিকিৎসার অভাবে ভিকটিমের শরীরের বিভিন্ন স্থানের জখমে পচন ধরে।
পরবর্তীতে গত ২৬/০৫/২০২১ইং তারিখ ভিকটিম কৌশলে বিবাদীর মােবাইল হতে কান্না জড়িত কণ্ঠে তার বাবাকে ফোনে নির্যাতনের বিষয়ে জানায় এবং তার বাসার ঠিকানা দেয়। ভিকটিমের বাবা কান্না জড়িত কণ্ঠের কথাগুলাে শুনে গত ২৯/০৫/২০২১খ্রিঃ তার আত্মীয়-স্বজন সহ খোঁজাখুঁজি করে মেয়ের বাসা খুজে বের করে এবং ৯৯৯ এ ফোন করে উক্ত বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।
পরবর্তীতে ভিকটিমকে চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এ সংক্রান্তে খুলশী থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.