রাবিতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

রাজশাহী সংবাদদাতাঃ
উপাচার্যের মেয়াদের শেষ দিনে অ্যাডহক নিয়োগকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রলীগ ও মহানগর ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে মহানগর ছাত্রলীগের হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন জন কর্মকর্তা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

তারা হলেন- উপরেজিস্ট্রার মো. মামুন, সেকশন অফিসার মো. মাসুদ ও শরীরচর্চা শিক্ষা বিভাগের উপরেজিস্ট্রার কামরুজ্জামান চঞ্চল।

গত কয়েকদিন ধরে চলা অস্থিরতার মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করলে রাবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ও কর্মচারীরা তাদের ধাওয়া করে।

এতে ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যায় মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বেলা ১২টার দিকে রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের একটি গ্রুপ বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রাবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারীরা একজোট হয়ে মহানগর ছাত্রলীগের ওই গ্রুপটিকে ধাওয়া দেয়। ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যান মহানগর ছাত্রলীগের গ্রুপটি। এ ঘটনার পরে রাবি ছাত্রলীগ ও কর্মচারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। তারা ভিসির ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আজ রাবি উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের মেয়াদের শেষ দিন।

তিনি চাকরি প্রত্যাশী ১২৫ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে অ্যাডহক ভিত্তিতে কর্মচারি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন বলে সকাল থেকে গুঞ্জন শোনা যায়। এমন খবর শুনে মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নিয়োগের দাবিতে ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় রাবি ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী এগিয়ে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালায় মহানগর ছাত্রলীগ৷ রাবি ছাত্রলীগ সংগঠিত হয়ে ধাওয়া করলে মহানগর ছাত্রলীগের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাস থেকে পালিয়ে যান।

হামলায় আহত বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার মো. মাসুদ বলেন, ‘মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমার সহকর্মী মামুনকে মারধর শুরু করলে আমি তাঁকে উদ্ধারের জন্য এগিয়ে যাই। এ সময় তারা আমাকেও মারধর করে।’

জানতে চাইলে নগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক আছে। আমরা অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছি।’

 

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.