রিমান্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন সিআইপি ইদ্রিস

বিশেষ প্রতিবেদক:
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর মামলায় গ্রেফতার মোহাম্মদ ইদ্রিস সিআইপি রিমান্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। দুই দফায় রিমান্ড চলাকালে এসব তথ্য দিয়েছেন তিনি। গত ১৮ মার্চ ইসমাইল সিআইপির আরো ৫ দিনের রিমান্ড আদেশ দেন কক্সবাজারের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ।

এ খবর জানিয়েছেন দুদক চট্টগ্রামের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এর উপসহকারী পরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম।

তিনি জানান, ইদ্রিস সিআইপি রিমান্ডে অনেক তথ্য দিয়েছেন। আরো তথ্য মিলবে বলে তাদের আশা।

এদিকে, গ্রেফতারের পর জামিনে থাকা এড. নূরুল হকের জামিন বাতিল চেয়ে আদালতে আবেদন করবে দুদক।

সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম।

গত ২ মার্চ এড. নূরুল হক ও ইদ্রিস সিআইপিকে গ্রেফতার করে দুদক। পরে জামিন পান নূরুল হক।
আলোচিত মামলাটির অন্যতম আসামি হিসেবে কক্সবাজার এলএ শাখার সাবেক অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা বিজয় কুমার সিংকে গত ১৫ মার্চ চট্টগ্রামের এমইএস কলেজ গেইট এলাকা থেকে গ্রেফতার করে দুদক।

জানা গেছে, কক্সবাজারের কলাতলীর ঝিলংজা মৌজায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশনের (পিবিআই) অফিস ভবন নির্মাণ প্রকল্পের জন্য কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এল.এ ০৪/২০১৮-১৯ইং নং মামলা মূলে বি.এস ১৭০৫০, ২০৩০৭, ২০৩০৬ ও ২০১৬৩ দাগের প্রায় এক একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিপূরণের টাকা লোপাটে একটি সিন্ডিকেট গঠন করা হয়। যারা বিভিন্ন নামে-বেনামে প্রায় ২৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ পায় বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা।
জমির প্রকৃত মালিকদের অভিযোগ, কৌশলে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে সিন্ডিকেট সদস্যদের নামে-বেনামে ক্ষতিপূরণের চেক ইস্যু করে সরকারি টাকা আত্মসাতের সুযোগ করে দেন সরকারি কর্মকর্তারা। একই সাথে অবকাঠামো না থাকা সত্ত্বেও ভুয়া অবকাঠামো দেখিয়ে কোটি টাকার বেশি আত্মসাৎ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাতিলকৃত খতিয়ান দেখিয়ে টাকা উত্তোলন করে চিহ্নিত জালিয়াতচক্র। জমি না থাকলেও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। ঘটনার প্রাথমিক সত্যতাও পায় সরকারি তদন্ত সংস্থাটি। দুদকের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.