নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
কক্সবাজার শহরে বিজিবি ক্যাম্প এলাকায় চারশত বছরের ঐতিহ্যবাহী পুরাতন পুকুরটি সংরক্ষণের জন্য তিন সচিব, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকের চেয়ারম্যান, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও কক্সবাজার পৌরসভার মেয়রসহ ১৩ জনকে আইনী নোটিশ পাঠিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)।
১২ আগস্ট ডাকযোগে নোটিশটি পাঠিয়েছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) পক্ষে সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি সাঈদ আহমেদ কবির।
নোটিশে বলা হয়েছে, কক্সবাজার জেলার ঝিলংজা মৌজার ৬৬০২ নং বিএস দাগে অবস্থিত সাচী চৌধুরী পাড়া মসজিদের পুকুরটি ভরাট বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেয়নি যা আইন বাস্তবায়নকারী/প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসাবে ব্যর্থতার পরিচায়ক। তাই পুকুরটির ভরাটকৃত অংশ পনরুদ্ধারপূর্বক পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবী জানানো হয়েছে। একই সাথে প্রয়োজনীয় সংস্কারপূর্বক পুকুরটির শ্রেণী অপরিবর্তিত রেখে পুকুর হিসেবে যথাযথ সংরক্ষণের জোরালো দাবী জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপ নোটিশ প্রেরণের সাত দিনের মধ্যে নোটিশ প্রেরক আইনজীবীকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যথায় নোটিশ প্রাপকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
যাদেরকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে তারা হলেন- ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ,বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, পরিবেশ অধিদপ্তর চট্রগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ও কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক, কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র, ওয়াকফ বাংলাদেশ এর প্রশাসক, সাচী চৌধুরী পাড়া মসজিদের মোতয়াল্লী এবং সাচী চৌধুরী পাড়া মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) পক্ষে সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি সাঈদ আহমেদ কবির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ পুকুরে মাছ চাষ করে মসজিদ পরিচালনা করা হয়ে থাকে। কক্সবাজার পৌর এলাকার ফায়ার সার্ভিসের অগ্নি নির্বাপনের কাজে ব্যবহার হয় এ পুকুরের পানি।
এছাড়াও পর্যটন নগরীর ঐতিহাসিক সৌন্দর্য, উন্নত পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থা রক্ষার্থে এ পুকুরের বিশেষ অবদান রয়েছে। তাই পুকুরটি রক্ষা করা একান্ত প্রয়োজন।
জানাযায়, কক্সবাজার শহরে গত কয়েক বছরে জমির দাম বেড়ে যাওয়ায় বিজিবি ক্যাম্প এলাকায় সাচী চৌধুরী পাড়া মসজিদের ঐতিহ্যবাহী পুরাতন পুকুরের দিকে হঠাৎ লুলোপ দৃষ্টি পড়ে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি সংজ্ঞবদ্ধ চক্রের। বাণিজ্যিক দোকান নির্মাণের জন্য স্থানীয় কামরুল হুদা ও গিয়াস উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি সংজ্ঞবদ্ধ চক্র মাটি দিয়ে এ পুকুর ভরাট কাজ চালাচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
সরেজমিন ঘুরে ও অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিজিবি ক্যাম্প চৌধুরী পাড়া এলাকায় বিজিবি ক্যাম্প টু সিকদার পাড়া সড়কের পাশে সাচী চৌধুরী পাড়া মসজিদের পুকুরটির অবস্থান।
আরএসমূলে পুকুরটির আয়তন ২ একর ২১ শতক হলেও বিএস রেকর্ডে তা হয়ে যায় ১ একর ৫৩ শতক। চারশত বছরের ঐতিহ্যবাহী পুরাতন এ পুকুরটির উত্তর ও পশ্চিম অংশে ভরাট কাজ চালাচ্ছে প্রভাবশালীরা। আগে দিন-দুপুরে ভরাট করা হলেও কয়েকদিন ধরে রাতের আধারে পার্শ্ববর্তী পিএমখালী এলাকা থেকে পাহাড় কাটার মাটি দিয়ে এ ভরাট কাজ চালাচ্ছে। কিন্তু দখলদাররা প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় সাধারণ লোকজন প্রতিবাদ করলে তাদেরকে বিভিন্ন হয়রানি করা হয় বলে প্রতিবাদকারীদের অভিযোগ।
১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | রাত ৩:৫১

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.