ইমাম খাইর, ওয়ান নিউজঃ
টেকনাফে পুলিশের গুলিতে নিহত অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের ফিল্মটিমের সদস্য শিপ্রা রানী দেব এর জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছে আদালত।
রবিবার (৯ আগষ্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রামু কোর্টের বিচারক দেলোয়ার হোসেন শুনানী শেষে জামিন দেন।
শিপ্রার আইনজীবি অরুপ বড়ুয়া তপু এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, শিপ্রার বিরুদ্ধে পুলিশের দায়ের করা মামলায় জামিন আবেদন করা হয়। শুনানী শেষে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত শিপ্রার জামিন মঞ্জুর করেন বিচারক।
অপর সহযোগী সাহেদুল ইসলাম সিফাতের জামিন আদেশের দিন ধার্য্য করেছে কাল সোমবার।
সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (টেকনাফ- ৩) এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক তামান্না ফারাহ এই আদেশ দেন।
সিফাতের আইনজীবি মাহবুবুল আলম টিপু জানান, পুলিশের দায়ের করা হত্যা ও মাদকের দুটি মামলায় সিফাতের জামিন আবেদন করা হয়। শুনানী শেষে জামিনের জন্য সোমবার দিন ধার্য্য করা হয়।
সেই সঙ্গে টেকনাফ থানায়র দায়েরকৃত পুলিশের মাদক ও অস্ত্র মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন করে র্যাবকে দেয়ারও আবেদন করেন।
দুই আবেদনের শুনানি হবে সোমবার (১০ আগষ্ট)।
সাহেদুল ইসলাম সিফাত, শিপ্রা রানী দেবনাথ ঢাকার স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম এন্ড মিডিয়া বিভাগের তৃতীয় বর্ষে শিক্ষার্থী।
৩১ আগস্ট রাতে সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা খুনের ঘটনার পরপরই শিপ্রা রানী দেবকে হিমছড়ি নীলিমা রিসোর্ট থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নীলিমা রিসোর্ট থেকে ৫টি বিদেশি মদের বোতল, ১ লি: বাংলা মদ ও এক পোটলা গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রামু থানায় মামলা হয়। যার মামলা নং জিআর ৩১১/২০২০।
এ মামলায় শিপ্রাকে ১ আগস্ট আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।
একই সাথে মামলার আইও রামু থানার এসআই দীপংকর আসামি শিপ্রা রানী দেবের বিরুদ্ধে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করলে আদালত গত ৫ আগস্ট রিমান্ড আবেদন শুনানির জন্য রাখেন। কিন্তু ৫ আগস্ট আদালতে রিমান্ড আবেদনটির কোন শুনানি হয়নি।
শিপ্রা রানী দেবনাথ তখন থেকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে রয়েছে। রবিবার শুনানি শেষে তাকে জামিন দেন বিচারক।
কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার হাজারাহাটি গ্রামের নব কুমার দেবনাথ এর কন্যা শিপ্রা রানী দেবনাথ। নব কুমার দেবনাথ বিজিবি’র একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। শিপ্রা রানী দেবনাথ ২ ভাই বোনের মধ্যে বড়।
এদিকে, ৩১ জুলাই মেজর সিনহার সাথে তাঁর প্রাইভেট কারে থাকা সাহেদুল ইসলাম সিফাতকে আসামী করে টেকনাফ থানায় ২টি মামলা হয়।
তার একটি ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে এবং অপরটি সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগে।
মামলা ২ টির নম্বর হলো : জিআর ৫৯৫/২০২০ ও জিআর ৫৯৬/২০২০ ইংরেজি।
গত ১ আগস্ট দায়েরকৃত মামলা ২টির বাদি হন বাহারছরা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.