রোহিঙ্গাবিরোধী রাখাইন নেতাকে ২০ বছর জেল
ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ মিয়ানমারে রোহিঙ্গাবিরোধী এক রাখাইন নেতাকে ২০ বছর কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। মঙ্গলবার রাষ্ট্রদ্রোহের এক মামলায় আই মোং নামে ওই নেতার কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়।
রোহিঙ্গা মুসলিম সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে কট্টর দৃষ্টিভঙ্গি লালন করা আরাকান ন্যাশনাল পার্টির সাবেক চেয়ারম্যান তিনি।
এদিকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে হত্যাযজ্ঞ তদন্তে সামরিক আদালত গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। একজন মেজর জেনারেল ও দুই কর্নেল পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত এ কমিটি রাখাইনে ২০১৭ সালে সংঘটিত রোহিঙ্গা নিধন নিয়ে তদন্ত করবে।
মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের দাফতরিক ওয়েবসাইটে গতকাল সোমবার পোস্ট করা এক বিবৃতিতে বলা হয়, রাখাইনের ঘটনা তদন্তে সেনাবাহিনীর একজন মেজর জেনারেল ও দু’জন কর্নেলের সমন্বয়ে সামরিক আদালত গঠন করা হয়েছে।
সামরিক বাহিনীর নিয়োগ করা জজ অ্যাডভোকেট-জেনারেলের মূল্যায়ন ও পরামর্শ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগের ভিত্তিতে এই সামরিক আদালত গঠন করা হয়েছে। এর আগেও মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী রাখাইনের ঘটনায় তদন্তের পর দাবি করে, তদন্তে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা কোনো অভিযোগেরই সত্যতা পাওয়া যায়নি।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে, আন্তর্জাতিক চাপ এড়াতে মিয়ানমার সেনাবাহিনী আবারও লোক দেখানো উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী শুক্রবারের মধ্যেই জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রস্তাবে ভোটাভুটি হওয়ার কথা। ওই প্রস্তাবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচারের জন্য জাতিসংঘের কাঠামোকে দ্রুত কাজ শুরুর তাগিদ দেয়া হয়েছে।
এদিকে মিয়ানমার সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের ওয়েবসাইটে তদন্ত শুরুর ঘোষণা দিয়েই রোহিঙ্গাদের আবারও ‘বাঙ্গালি’ সন্ত্রাসী হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। মেজর জেনারেল মিয়াত কিয়াউর নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটিতে সদস্য হিসেবে আছেন কর্নেল কিয়াও কিয়াও ও থান নিং।
বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট আরসার নেতৃত্বে ছয় হাজার ২০০ থেকে ১০ হাজার ‘বাঙ্গালি’ উগ্রবাদী সন্ত্রাসী রাখাইনের ৩০টি পুলিশ চৌকিতে হামলা চালায়। ওইদিন ৩৮টি সংঘর্ষ হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ওইদিন ১২ জন পুলিশ এবং ১৩০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়। ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে লেফটেন্যান্ট জেনারেল আয়ে উইনের নেতৃত্বে এর আগে গঠিত তদন্ত কমিটি ওই হামলা ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনীর দুর্বলতার তথ্য পেয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে থাইল্যান্ডভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ফোরটিফাই রাইটস রোহিঙ্গা গণহত্যা অভিযোগ তদন্তে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত (আইসিসি) ও জাতিসংঘের কাঠামোকে সহযোগিতা করতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
ফোরটিফাই রাইটসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাথু স্মিথ মিয়ানমারের নতুন তদন্ত কমিটিকে আন্তর্জাতিক বিচারের উদ্যোগ ঠেকাতে এবং আইনি শাসন নিয়ে বৈশ্বিক উদ্বেগ প্রশমনে আরেকটি দুর্বল চেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছে।
এএফপি জানিয়েছে, আই মোং নামে ওই নৃতাত্ত্বিক নেতা মিয়ানমারে খুবই সুপরিচিত। রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিত্তে শহরে মঙ্গলবার তার রায় ঘোষণা করা হয়। এ সময় তার শত শত সমর্থককে আদালতের বাইরে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে।
২০১৮ সালের জানুয়ারিতে উসকানিমূলক বক্তব্য ও রাষ্ট্রদ্রোহী মামলায় তাকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। ওই বক্তব্য দেয়ার একদিন পরই সেখানে প্রাণঘাতী দাঙ্গা হয়েছিল।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.