জে.জাহেদ, চট্টগ্রাম ব্যুরো:
ভূমিমন্ত্রী সরাসরি বলেছেন ‘কর্ণফুলী বাঁচলে চট্টগ্রাম বন্দর বাঁচবে। কর্ণফুলী নদী আমাদের সম্পদ। দল মত নির্বিশেষে এগিয়ে এসে দখলদারদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াই আমরা। যে কোন মূল্যে কর্ণফুলী নদীকে বাঁচাতে হবে।’
দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বন্দরের ভুমিকা প্রধান্য দিতে হবে। বন্দরকে ধরে রাখতে হলে কর্ণফুলী নদীকে রক্ষা করতে হবে। কর্ণফুলী নদী দখল ও দুষষ মুক্ত করতে আজ ০৪ ফেব্রুয়ারী অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কার্যক্রম শুরু হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিলুর রহমান জানান, চাক্তাই থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত কর্ণফুলীর অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান কার্যক্রমকে তিনটি জোনে ভাগ করা হয়েছে। মোট ২ হাজার ১৮৭টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। সদরঘাট থেকে বারিক বিল্ডিং এরপর পর্যায়ক্রমে অপর দু’টি জোনে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চলবে।

সিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) আবদুর রউফ বলেন, সিএমপির ২০০ পুলিশ অভিযানে অংশ নিচ্ছে। অনেকে নিজ দায়িত্বে স্থাপনা সরিয়ে নিয়েছে বলেও তিনি জানান।
চট্টগ্রাম বন্দরের তৎকালীন ম্যাজিস্ট্রেট মুনীর চৌধুরী পতেঙ্গা থেকে সল্টগোলা হয়ে বারিক বিল্ডিং মোড়, মাঝিরঘাট, সদর ঘাট, ইয়াকুব নগর, ফিরিঙ্গি বাজার, চাকতাই, লালদিয়ার চর, কালুরঘাট পর্যন্ত ২৩ কিলোমিটার এলাকায় চার হাজার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছিলেন। এতে কর্ণফুলী নদী তীরবর্তীসহ বন্দরের প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার ১২৫ একর জমি উদ্ধার করা হয়। ২০০৬ সালে লালদিয়ার চর উচ্ছেদ অভিযানে ১০০ কোটি টাকার জমিও উদ্ধার করেন তিনি।
এদিকে লাল রং এর দাগ দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছে প্রশাসন। এই দাগের ভিতরের সকল অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে দখলদারদের আগেই জানানো হয়েছে। যারা সরিয়ে নেয়নি তাদেরগুলো আজ উচ্ছেদ করা হচ্ছে।
সরে জমিনে দেখা য়ায়, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সময়েও অনেকে নিজেরাই তাদের অবৈধ স্থাপনা গুলো সরিয়ে নিচ্ছে। আবার অনেকে আগে ভাগে সরিয়ে নিয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, কর্ণফুলী নদীর দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অর্থ বরাদ্দের অভাবে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করতে বিলম্ব হয়েছে।
গত দু’দিন আগে ভ‚মিমন্ত্রীর সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ সদরঘাট সহ কর্ণফুলী নদীর অবৈধ স্থাপনা গুলো উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। ভ‚মিমন্ত্রীর আশ্বাসে আমরা উচ্ছেদ অভিযান চলছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.