ইয়ানূর রহমান : বেনাপোল বন্দরে বার বার আমদানি পন্যে আগুন লাগা নিয়ে নানা ধরনের জল্পনা কল্পনা চলছে। চলতি মাসে পর পর দুইবার আমদানি পন্য আগুন লাগায় নানা ধরনের মন্তব্য চলছে বন্দর পাড়ায়।
সোমবার রাত ৯ টার সময় বন্দর এলাকায় আমদানি পন্য নিয়ে ভারতীয় ডাবিøউ বি ৬১-৮৪৭৭ নং ট্রাকটি বেনাপোলে প্রবেশ করে। বেনাপোল স্থল বন্দরে জায়গা সংকটের কারনে ট্রাকটি বড় আঁচড়া স্কানিং মেশিনের পশ্চিম পাশের অবস্থান করে।
ট্রাকের চালক রামপদ বিশ্বাস জানান, ট্রাকটিতে ভারত থেকে ব্লিচিং পাউডার নিয়ে সে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। রাত আনুমানিক ১০ টার সময় ট্রাকটির উপরে হঠাৎ করে বিকট আওয়াজ হয় এরপর ট্রাকটিতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে উঠে। আগুন দেখে সে এবং স্থানীয় লোকজন পানি দিতে থাকে। এতে করে আগুনের লেলিহান আরো দাউ দাউ করে বাড়তে থাকে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ও স্থানীয় লোকজন এসে ১ ঘন্টা পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। ততক্ষনে ট্রাকটির আমদানি পন্য সহ ট্রাকটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
স্থানীয় একটি সুত্র বলছে, ভারতীয় আমদানি পন্য নিয়ে আসা ট্রাকটির বিøচিং পাউডার এর নীচ বিস্ফোরক জাতীয় দ্রব্য থাকতে পারে। তা না হলে এত তাড়াতাড়ি ট্রাকটি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যেতে পারে না। ট্রাকটির নীচে কাঠের অংশ পুড়ে কয়লা হয়ে যায়।
এর আগে গত ৩ জুন বেনাপোল বন্দরের টার্মিনালে আগুন লাগে তাতে এ ধরনের ক্ষতি হয়নি গাড়ি গুলোর। শুধু বিøচীং পাউডার থাকলে আগুনে পুড়ার সম্ভাবনা থাকে না। এতে বিস্ফোরক জাতীয় পদার্থ থাকায় আগুন দ্রæত ছড়িয়ে পড়ে বলে স্থানীয়রা মন্তব্য করেন।
বেনাপোল স্থল বন্দরেরর পরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, কিভাবে আগুন লাগল এবং গাড়িতে বিøচিং পাউডার বাদে অন্য কোন ধার্য্য পদার্থ ছিল কিনা তা তদন্ত না করে ছাড়া বলা যাবে না। ইতিমধ্যে তাকে প্রধান করে ১০ সদস্যর একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে।
বেনাপোল কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তার হারুন আর রশিদ এর কাছে পুড়ে যাওয়া গাড়ির তথ্য জানতে চাইলে বলেন, আমরা উপরের নির্দেশ ছাড়া উক্ত আমদানি পন্যর মেনিফেষ্ট নাম্বার সহ আমদানি রফতানি কারকের কোন তথ্য প্রদান করতে পারব না। সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা আক্তার হোসেন এর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে সে রেজিষ্টারে খোজা খুজি করে কোন তথ্য প্রদান করতে পারেনি।
এতে করে এলাকার ব্যবসায়িদের সন্দেহ ঘনিভুত হয় উক্ত ট্রাকে ঘোষানা বহির্ভুত মালামাল থাকতে পারে।
বেনাপোল বন্দরের ব্যাবসায়িরা বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকার যেখানে পন্য আমদানি হয় সেখানে বেনাপোল স্থল বন্দরের কোন কার্যকর ফায়ারসার্ভিস নাই। লোক দেখানো একটি গাড়ি নিয়ে কয়েকজন ফায়ার কর্মী বসে থাকলে তাতে কাজের কাজ কিছু হয় না। অন্য জায়গা থেকে ফায়ার সার্ভিসের জনবল নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে হয়।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.