চিকুনগুনিয়ার ব্যথা সারতে কী করবেন
ওয়ান নিউজঃ ঢাকা শহরে অনেকটা মহামারি আকার ধারণ করেছে চিকুনগুনিয়া। ধারণা করা হচ্ছে, ১৮ লাখ মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। মশাবাহিত এ রোগটি কুখ্যাতি পেয়েছে আক্রান্তের শরীরে ব্যথা ছড়িয়ে।
গবেষণায় দেখা গেছে, চিকুনগুনিয়া জ্বরের সঙ্গে যে ব্যথা হয় এর কারণ হচ্ছে এক ধরনের ইনফ্লামেটরি সাইটোকাইনেসের উপস্থিতি।
সিঙ্গাপুর ইমিউনোলজি নেটওয়ার্ক (এসআইজিএন) এবং কমিউনিকেবল ডিজিস সেন্টার (সিডিসি)গবেষণা করে দেখিয়েছেন, যাকে যত বেশি ভাইরাস অ্যাটাক করবে তার ততবেশি ব্যথা হবে।
ইমিউন সিস্টেমের মাধ্যমে চিকুনগুনিয়া ভাইরাস এজেন্ট তৈরি করে যা পরবর্তীতে ইনফ্লামেশনের মাধ্যমে মাংসপেশি ও জয়েন্টে ব্যথার সৃষ্টি করে। এর ফলে হাঁটু ভাঁজ করে উঠতে বা বসতে কষ্ট হয়, উচু স্থানে ওঠা-নামা, নামাজ আদায় করতে ও হাঁটতে কষ্ট হয়।
হাঁটু, গোড়ালি ও হাতের বিভিন্ন জয়েন্টসহ সারা শরীরে ব্যথা হতে পারে। সারা শরীরে ব্যথার কারণে রোগীর ঘুমানো, উঠা-বসা, হাঁটা সব ক্ষেত্রে কষ্ট হয়। দুর্বলতা অনুভব করায় কাজের আগ্রহ কমে যায়।
সাধারণত চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত রোগীর ব্যথা দুই সপ্তাহ থেকে এক মাসের মধ্যে সেরে যায়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যথা সারতে এক বছর সময় লাগে।
ব্যথা হলে করণীয়:
১. হালকাভাবে স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ যা মাংসপেশির নমনীয়তা বাড়াবে এবং রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করবে। এতে ব্যথার পরিমাণ কমে যাবে।
২. উঁচু জায়গায় বসে (চেয়ার, টেবিল) এক পা করে হাঁটু সোজা এবং ভাঁজ করতে হবে। কিছু ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করতে পারেন।
৩. দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে বা বসে কাজ না করাই ভালো। সকালে ঘুম থেকে উঠে ১০-১৫ মিনিট হাঁটুন তারপর স্বাভাবিক কাজ করুন।
৪. ভারী জিনিস উত্তোলন থেকে বিরত থাকুন। অতিরিক্ত চাপ দিয়ে ব্যয়াম না করাই ভালো। ব্যথাযুক্ত স্থানটি গরম বা ফোলা থাকলে ঠাণ্ডা ছ্যাঁক দিন এবং স্বাভাবিক থাকলে গরম ছ্যাঁক দিন।
৫. ব্যথার ওষুধ খাবার আগে একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন। ওষুধ খেলে ব্যথা কমে এবং বন্ধ করলে ব্যথা আসে- এরকম অবস্থায় অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নিতে হবে।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.