মোজাম্মেল হক, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)
সুইজারল্যান্ডে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশনে নারী অধিকার বিষয়ে অংশগ্রহণ করার জন্য ভোটের মাধ্যমে জুরিখ জোন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন সুলতানা খান। গ্রামের বাড়ীতে চাঁদনী নামে পরিচিত। তার গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়ন ইছাইল শিবরামপুর গ্রামে। নদী ভাঙ্গনে গ্রাম টি বিলিন হয়ে
যাওয়ার পরে বর্তমানে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় ৪ নং ওয়াডের ওমর আলী মোল্লার পাড়া এলাকায়।
সুলতানা খানের বাবার নাম এসএম রুস্তম আলী ও মাতার নাম রাজিয়া সুলতানা। গত ২২ জুন নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিতদের মধ্যে সুলতানা খান তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। সুইজারল্যান্ডে এই প্রথমবারের মতো কোন প্রবাসী বাংলাদেশি জাতীয় সংসদে পা রাখছেন।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে দৌলতদিয়া ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্ধা তার কাকা মো. নজরুল ইসলাম বাবু বলেন , আমার বড় ভাই সেনাবাহিনীতে চাকুরী করতো । আমরা ভাবতেও পারিনি আমাদের গ্রামের মেয়ে প্রবাসে এমপি নিবার্চিত হবে।
তিনি আরও জানান, বিশ্বে আমাদের এই বাংলাদেশকে তিনি তুলে ধরছে এর পাশাপাশি বাংলাদেশি নারীরাও যে পিছপা নয় তার একটি জলন্ত উদাহরণ তৈরি করেছে।
দৌলতদিয়া বেপারী পাড়া গ্রামের সুলতানা খানের ফুফাতো ভাই মো. হাবীব রেজা টুটুল বলেন, এ অর্জন প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য অনন্য মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে, কেননা একজন প্রবাসী বাংলাদেশি নারী হয়ে সুইজারল্যান্ডের মতো একটি উন্নত দেশের জাতীয় সংসদে আসন দখল করা একটি বিশাল অর্জন এবং বাংলাদেশিদের জন্য একটি গৌরবময় অর্জন।
তিনি আরো বলেন , সুলতানা খানের জন্ম ঢাকার মিরপুরে, গ্রামের বাড়ি গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ইছাইল শিবরামপুর গ্রামে। বর্তমানে দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে ওমর আলী মোল্লার পাড়া । বাবার নাম এসএম রুস্তম আলী, মাতা রাজিয়া সুলতানা। পাঁচ ভাই দুই বোনের সংসারে সর্বকনিষ্ঠ তিনি। বর্তমানে স্বামী প্রবাসী সাংবাদিক, সংগঠক এবং ব্যবসায়ী বাকিউলাহ খান ও দুই পুত্র সন্তানসহ
দীর্ঘদিন যাবৎ সুইজারল্যান্ডের জুরিখ শহরে বসবাস করছেন। গ্রামে চাঁদনী নামে পরিচিত।
নির্বাচনে অংশগ্রহণের পূর্বে তিনি সুইজারল্যান্ডের মূলধারার বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন। তাছাড়া বাংলাদেশের শিল্প ও সাহিত্য চর্চার জন্য বাংলা স্কুলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব পালন করছেন।
জানা যায়, ২৪৬ আসনের বিপরীতে ১৪০০ নারী প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। জুরিখ জোন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ৩৫ জন। সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচিতদের মধ্যে তৃতীয় হয়েছেন সুলতানা খান।
১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | রাত ১:৫৮

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.