ইমাম খাইর#
৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবীর আভিযোগে দায়ের করা মামলা থেকে কারান্তরীণ সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফাকে জামিন দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে শুনানী শেষে তাকে জামিন দেন কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ইসমাইল। যার মামলা নং- জিআর-৫৬২/২০।
টেকনাফের হ্নীলা জহিরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি মামলাটি করেছিলেন।
জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফরিদুল মোস্তফার নিয়োজিত আইনজীবী মুহাম্মদ আবদুল মন্নান।
তিনি জানান, জহিরুল ইসলাম নামের এক মিয়ানমারের নাগরিক সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফার বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবীর অভিযোগ তুলে টেকনাফ থানায় মামলা করেছিলেন। যার নং-এসটি ২৭৯/২০। মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। শুনানী শেষে জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন বিচারক।
এদিকে, মেজর সিনহা খুনের ঘটনায় বরখাস্ত হওয়া টেকনাফের সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশের রোষানলের শিকার দীর্ঘ প্রায় ১১ মাস ধরে কারাবন্দী রয়েছেন সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খান। পুলিশের ইশারায় তার বিরুদ্ধে একেএকে ৬টি মামলা হয়েছে। একটি মামলায় জামিন পেলেও আরও রয়ে গেছে ৫ মামলা।
ফরিদুল মোস্তফার স্ত্রী হাসিনা আকতার জানান, দুর্নীতিবাজ পুলিশের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে তার ওসি প্রদীপ কুমারসহ কিছু পুলিশের রোষানলে পড়েন ফরিদ। তাকে চাঁদাবাজি, অস্ত্র, মাদক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
সংবাদ লিখার অপরাধে পুলিশি নির্যাতনে ফরিদের দু’চোখ প্রায় অন্ধ, ডান হাত এবং পা ভাঙা, আঙুল থেঁতলানো। শারীরিক কারণে হয়তো আর সাংবাদিকতা করতে পারবে না ফরিদ। পারলেও তার পরিবার তাকে আর এ পেশায় রাখতে চায় না। তার পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য- জীবনই যেখানে অনিশ্চিত, সাংবাদিকতা তো সেখানে দুরাশা।
২০১৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুর বাসা থেকে সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফাকে আটক করে পুলিশ।
এরপর কক্সবাজার শহরের সমিতি পাড়ায় বাড়িতে অভিযানে যায়। সেখান থেকে গুলিসহ ২টি অস্ত্র, ৪ হাজার ইয়াবা ও বিপুল পরিমান বিদেশী মদের বোতল উদ্ধার হয় বলে পুলিশ দাবী করে। যদিওবা পরিবারের দাবী, এসব নাটক। সম্পূর্ণ সাজানো।
গত বছরের ৩০ জুন ফরিদুল মোস্তফা খানের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় চাঁদাবাজি মামলা রুজু হয়। যার মামলা নং- ১১৫, জিআর নং-৩১৬/১৯। এরপর তাকে পুলিশ হন্য হয়ে খোঁজতে থাকে। আত্মরক্ষায় ঢাকায় আত্মগোপনে চলে যায় ফরিদুল মোস্তফা। নিরাপত্তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের মহাপরিদর্শক বরাবর গত বছরের ২৮ জুলাই পৃথক আবেদনও করেন।
সাংবাদিক ফরিদের পরিবারের দাবী- উক্ত আবেদনের তদন্ত না করে উল্টো টেকনাফ থানা ও কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম মিরপুর থানার পুলিশের সহায়তায় ‘ওয়ারেন্ট’ দেখিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। আইন অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টায় কারাগারে না পাঠিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ৬টি মামলা রয়েছে। সেখান থেকে ১ মামলায় বৃহস্পতিবার জামিন হয়েছে।
১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | রাত ১১:০৯

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.